শুক্রবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ , ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ , ১০ই রমজান, ১৪৪২

হোম > সারাদেশ > টাকার লোভে মামাতো ভাইকে অপহরণ অতঃপর খুন

টাকার লোভে মামাতো ভাইকে অপহরণ অতঃপর খুন

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগ হতে অপহৃত মাদ্রাসার ছাত্র শিশু মোঃ ইব্রাহিম (১০) এর লাশ গাজীপুর সালনা এলাকা হতে উদ্ধারের ১৫ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারী বনি আমিন (২৪) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১, গাজীপুর ক্যাম্প।

শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর সালনা মীরেরগাঁও এলাকায় মাদ্রাসার পোষাক পরিহিত এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে নিহত শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে র‌্যাবের তদন্তে পথে ফেলে যাওয়া মাদ্রাসার আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিহত শিশুর পরিচয় মিলে। সাথে সাথে অপহরণ এবং খুনীদের আইনের আওতায় আনার জন্য তাদেরকে গ্রেফতার করার লক্ষে তদন্ত শুরু হয়।

পরে রোববার র‌্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকারী বনি আমিনকে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় ভিকটিমের বাসা থেকে আটক করে। আটককৃত মোঃ বনি আমিন(২৪) বরগুনা জেলা ও থানার মাইঠা এলাকার আবুল কালাম আজাদের পুত্র ও ঢাকার মুগদা থানা মান্ডা পিয়ার আলী সড়কের অস্থায়ী বাসিন্দা।

জানা যায়, ভিকটিম মোঃ ইব্রাহিম (১০) ডিএমপি হাজারীবাগ এলাকার মোঃ মনির হোসেনের পুত্র। আটককৃত অপহরণকারী বনি আমিন ভিকটিমের আপন ফুফাতো ভাই। বনি আমিন মামা মনিরের বাসায় থেকে ক্রোকারিজের দোকান চালাত। মামার বাসায় থাকাকালীন প্রেম হয় এক মেয়ের সঙ্গে। প্রেমিকাকে দামি গাড়ি উপহার ও তাকে নিয়ে হানিমুনে যেতে অনেক টাকার প্রয়োজন, যা তার কাছে ছিল না। টাকার টেনশনে রুঢ় বুদ্ধি আসে তার মাথায়। সে টাকার প্রয়োজন ও মামীর উপর জমানো ক্ষোভ নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার মামাতো ভাই ইব্রাহিম (১০) কে হাজারীবাগ মাদ্রাসা যায় এবং ইব্রাহিমের বাবা অসুস্থ এই কথা বলে ভিকটিমকে কৌশলে গত ৫ মার্চ গাজীপুর মহানগরের সালনা এলাকায় নিয়ে আসে। ভিকটিমের সাথে থাকার মাদরাসার ব্যাগ ও আইডি কার্ড রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে ওইদিন রাতে মীরেরগাঁও রেল লাইনের পাশে জঙ্গলের ভিতর নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পুকুরের ভিতর ফেলে রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে সালনায় এলাকায় এসে একটি মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে।

পরবর্তীতে আসামী বিভিন্ন মোবাইল ফোনে মাধ্যমে ভিকটিমের কন্ঠ নকল করে ভিকটিমের বাবার মোবাইল ফোনে কল করে অপহরণের কথা জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।

গত ৬ মার্চ ভিকটিমের বাবা বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা হত্যাকারীকে প্রদান করে। টাকা হাতিয়ে নিয়ে পুনরায় হাজারীবাগ মামার বাসায় ফিরে যায়।

পরদিন ভিকটিমের লাশ উদ্ধারের সংবাদ শুনে তার মামা-মামীর সাথে কাঁন্নার অভিনয় করে এবং তাদের সাথে ঢাকা আজিমপুর কবর স্থানে লাশের জানাযা সহ লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করে, যাতে করে তাকে কেউ সন্দেহ করতে না পারে। অবশেষে র‌্যাব তাকে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা ভিকটিমের বাসা হতে হত্যাকারী বনি আমিন’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিন আমিন উক্ত খুনের ঘটনার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার মর্মান্তিক বর্ণনা দেন।

>