শুক্রবার , ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ , ৮ই মাঘ, ১৪২৭ , ৮ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > শীর্ষ খবর > ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শব্দসন্ত্রাস: অতিষ্ঠ জনজীবন

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শব্দসন্ত্রাস: অতিষ্ঠ জনজীবন

শেয়ার করুন

সাদিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার ॥
অত্যাচারের হাতিয়ার যখন শব্দ, তখন সেটা শব্দসন্ত্রাস ছাড়া আর কি? মহাসড়কে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে হর্ণ ব্যবহার একদম নিত্যকার ঘটনা, সেটা যদি হয় উচ্চমাত্রার হাইড্রোলিক হর্ণ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস-ট্রাক চালকরা যেন হর্ণ দেওয়ার প্রতিযোগিতা করেন প্রতিটি স্টপেজে। সাধারণ স্টপেজ ছাড়াও প্রশাসনের নাকের ডগায় দিন-রাত চলতে থাকে এ শব্দ সন্ত্রাস। গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে বাঘের বাজার, ভবানীপুর, হোতাপাড়া, রাজেন্দ্রপুর, পোড়াবাড়ী হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রতিটি স্টপেজে যত্রতত্র পার্কিং ও হাইড্রোলিক হর্ণ দিয়ে শব্দাত্যাচারে অতিষ্ঠ জনজীবন।

একদিকে যেমন জনবসতিপূর্ণ এলাকা গাজীপুর, তেমনি ময়মনসিংহের বিভিন্ন অঞ্চলে যাবার গুরুত্বপূর্ণ রুট এটি। ব্যবসায়িক কাজেও এ অঞ্চলের সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে দিন-রাত চলছে বাস-ট্রাকসহ ছোট বড় হাজারো যান। যাত্রীর মনযোগ আকর্ষণ, প্রতিপক্ষকে হুশিয়ারি, সামনের থেমে থাকা বাহনকে সিগনালসহ প্রয়োজনীয় কারণ ছাড়াও স্টপেজের বেশ দূর থেকেই দীর্ঘ হর্ণ বাজিয়ে চলে যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতা। স্থানীয় পরিবহনের যত্রতত্র পার্কিং, ইচ্ছা করে পেছনের বাহন আটকে রাখা, রাস্তার মাঝে যাত্রী নামানোর মত বিভিন্ন সমস্যার জন্য দ্রুত গতির পরিবহন চালকরা দীর্ঘ হর্ণ বাজান।

অধিকাংশ চালকের মন্তব্য, মহাসড়কে দ্রত গতিতে যান চলায় দুর্ঘটনা এড়াতে ও স্থানীয় পরিবহনের যত্রতত্র যাত্রী উঠানামার কারনে উচ্চ শব্দের হর্ণ ব্যবহার করছেন তারা।

অপরদিকে গাজীপুর অঞ্চলটি রপ্তানিমূখী পোশাক শ্রমিক ও হাজারো শ্রমজীবী মানুষের আবাসস্থল, একটানা হর্ণ বাজিয়ে রাতের নীরবতা ভেঙে ঝড়ের গতিতে চলতে থাকে ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন। এতে সারাদিনের কর্মক্লান্ত মানুষেরা ঘুম নষ্ট হয়ে শারীরিক নানা জটিলতার শিকার হচ্ছেন। মনযোগ দেওয়া যাচ্ছেনা কোন কথায় বা কাজে।

‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধি ২০০৬’ অনুসারে নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ এবং শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও তার যথাযত প্রয়োগ না থাকায় শব্দ দূষণ রুপ নিয়েছে শব্দসন্ত্রাসে।
প্রাণঘাতী হর্ণ বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে হাইকোর্টে রিট করলে, কোর্টের নির্দেশে কিছুকাল সারাদেশে হর্ণ অপসারণ ও মামলা-জরিমানায় কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আসলেও গাজীপুরসহ সাড়াদেশে এখন তা বিশৃঙ্খলার চরম শিখরে পৌঁছে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলাভূমিকে বলেন, আমরা মহাসড়কে প্রায়ই হাইড্রোলিক হর্ণ বাজেয়াপ্ত করি ও ধ্বংস করে ফেলি। তবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শব্দ দূষন নিয়ন্ত্রনে আনা জরুরী।

গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকী মুঠোফোনে বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছেন এবং করবেন। তিনি আরো বলেন অভিযানের পাশাপাশি পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সচেতন করাটাও জরুরি।

>