মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > অর্থ-বাণিজ্য > তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে সেলোয়ার কামিজ

তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে সেলোয়ার কামিজ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সময়ের ব্যবধানে বাঙালি নারী ও তরুণীদের পোশাকে এসেছে বৈচিত্র্য। নতুন নতুন ডিজাইন, বাহারি রং ও আরামদায়ক পোশাকের খোঁজে সারা বছরই এ মার্কেট ও মার্কেটে ঢু মারেন তারা। আর ঈদ এলেই তো কথাই নেই। সবচেয়ে আনকমন ও সুন্দর ড্রেসটা চাই চাই। এবারের ঈদ বাজার ঘুরে দেখা গেছে তরুণী ও নানা বয়সী নারীদের পছন্দের পোশাকের শীর্ষে রয়েছে সেলোয়ার কামিজ। আরামদায়ক পোশাকের চাহিদা মেটাতে এগিয়ে এসেছে বেশকিছু দেশীয় বুটিক হাউস। পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তান থেকেও আসছে নানা পোশাক। স্থান, কাল ও উত্সব অনুযায়ী আধুনিক তরুণীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ। লং কামিজের সঙ্গে চুড়িদার পায়জামা, সেমিলং কামিজের সঙ্গে চোস্ত পায়জামা কিংবা শর্ট কামিজের সঙ্গে ঢোলা পায়জামা হালের ফ্যাশনে দাঁড়িয়েছে।

দেশের সালোয়ার কামিজের ফ্যাশনে মুম্বাই সিনেমার নায়িকাদের পোশাক ট্রেন্ড প্রভাব রাখছে ব্যাপক। ‘শীলা’, ‘মুন্নি’, ‘মাসাককলির’ জোয়ার শেষ হতে না হতেই আবারো বাজারে বান ডেকেছে ‘খুশী, ‘ঝিলিক’, ‘মানভি’, ‘পাঙঘুরী’, ‘আয়েশা’ ইত্যাদি। পোশাকের ডিজাইনে খুব বেশি হেরফের না থাকলেও শুধু সিরিয়ালের জনপ্রিয়তায় প্রভাবিত হয়েই নারী ও তরুণীরা ছুটছেন ওইসব পোশাকের দিকে।

বিক্রেতারা বলছেন, ফ্যাশন সচেতন মেয়েরা এখন ঈদে একাধিক পোশাক কেনেন। তারা সময় ও পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক নির্বাচন করেন। সকালে পরার জন্য হালকা ছিমছাম ডিজাইনের পোশাক, বন্ধুদের সাথে বেড়ানোর জন্য উজ্জ্বল রঙের পোশাক আর রাতে পার্টির জন্য গর্জিয়াস লুকের পোশাক কিনে থাকে। ফ্যাশন হাউসগুলোও ক্রেতাদের এই পছন্দের দিক বিবেচনা করে নানা আঙ্গিক ও ডিজাইনের পোশাক রাখছেন তাদের শোরুমগুলোতে।

এ বছর গরমে ঈদ হওয়ার কারণে সুতি, খাদি, এন্ডি কটন, এন্ডি সিল্ক কাপড়ে হালকা হাতের কাজ বা এম্ব্রয়ডারি কাজে প্রাধান্য দিয়েছেন বেশি। ডিজাইনের পাশাপাশি ফ্যাশন হাউসগুলো পোশাকে ব্যবহার করেছে উজ্জ্বল রঙ ও উজ্জ্বল রঙের সুতো। সুতি কাপড়ের পরিবর্তে এন্ডি সুতি, এন্ডি সিল্ক কাপড়ের প্রাধান্য বেশি। চুড়িদার পায়জামা ও সালোয়ার দুটোই সমানভাবেই চলছে।

বেশ কিছুদিন ধরে মা-খালারাও এই পোশাকটি পরতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। পিছিয়ে নেই শিশুরাও। মায়ের মতো সালোয়ার কামিজ পরতে তারাও দারুণ আগ্রহী। এসব বিষয় মাথায় রেখে দেশীয় বুটিক হাউসগুলো থেকে শুরু করে প্রতিটি শপিংমলের মূল আকর্ষণ এখন সালোয়ার কামিজ। সময়ের বিবর্তনে এই পোশাকটিই ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে আর্বিভাব হলেও পোশাকটির আদি নামের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। সালোয়ার কামিজ নামেই এর খ্যাতি বিশ্বজোড়া।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ’র ছাত্রী সাথী, তামান্না, টুম্পা এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। তার সঙ্গে কথা হয় অঞ্জনস বুটিক হাউজের সামনে। তারা বলেন, বেশ কয়েকটা ড্রেস পছন্দ হয়েছে কে-ক্রাফট ও অঞ্জনসে। কিন্তু দামে বনছে না। একেকটি থ্রি-পিসের দাম ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার উপরে।

সালোয়ার কামিজ কেনার জন্য ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ থাকে দেশের বুটিক হাউসগুলোর দিকে। বুটিক হাউসগুলো সময়, উত্সব ও ঋতুকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক তৈরি করে থাকে বলেই ক্রেতাদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। তবে ভারতীয় কাপড়ে জরি, সুতা, পুথি, চুমকি, কুন্দন ইত্যাদি দিয়ে নকশা করা সালোয়ার কামিজের চাহিদাও রয়েছে বেশ।

কামিজের নিচে চওড়া সার্টিন কিংবা কুরুশের চওড়া লেজ দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে এবার ট্রেন্ড লং এবং সেমি লং কামিজের। এসব কামিজে ইয়োগ, ভরাট এপ্লিক, কাঁথা ষ্টিসের কাজের ইয়োক সেট করা, হাতে প্রিন্ট করা, ব্লক, বাটিক করা ডিজাইন রয়েছে। কামিজে পরিচ্ছন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ এমব্রয়ডারি কামিজগুলোকে আরো রুচিশীল করেছে।

এবারের ঈদে সালোয়ার কামিজের কালেকশনে রঙ, ডিজাইন, কাটিং প্রতিটি েেত্র রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সেইসাথে নরসিংদী, চান্দিনা, টাংগাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর তাঁতের সুতি, সিল্ক, এন্ডি সুতি, এন্ডি সিল্ক, হাফসিল্ক, মসলিন কাপড় বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। এরপরেই রয়েছে সিল্ক, ভয়েল, মসলিন, ডুপিয়ান, ডবি ফেব্রিক্স। লাল, মেরুন, সাদা রঙের ব্যবহার বেশি হলেও বেগুনী, কমলা, বাদামি, ছাই, মেজেণ্ডা, কালোসহ বিভিন্ন রঙের শেড ব্যবহার করা হয়েছে এবারের ঈদ আয়োজনে। প্রতিবারের মতো এবারও তাঁত বুনন ডিজাইনের প্রতি বিশেষ যতœ নেয়া হয়েছে। কামিজের মধ্যে লং কামিজ ও সেমি লং কামিজটাই বেশি চলছে। এর মধ্যে ফুল, থ্রি-কোয়ার্টার, স্লিপলেস হাতার কামিজও বাজারে এনেছে বুটিক হাউসগুলো।

গতকাল রাজধানীর আড়ং, নিপুণ, সাদাকালো, প্রবর্তনা, বাংলার মেলা, কে-ক্রাফট, অঞ্জনস, দেশাল, বিবিয়ানা, ওজি, রঙ, দেশাল, নগরদোলা, মেঘ, নিত্য উপহার ইত্যাদি বুটিক হাউসগুলো ঘুরে দেশি কাপড়ের তৈরি মেয়েদের এবারের ঈদের পোশাকের এমন ফ্যাশনই দেখা গেছে। বুটিক হাউসগুলো প্রত্যেকেই নিজস্ব চিন্তাভাবনার প্রকাশ ঘটিয়েছে তাদের ঈদ আয়োজনের পোশাকে। ফ্যাশন হাউসগুলোর পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তান থেকে আসা সেলোয়ার কামিজের ক্রেতাও রয়েছে অনেক। তবে আকাশছোঁয়া দামের কারণে এর বিক্রি খুব একটা ভাল নয়।

>