শুক্রবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ , ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ , ১০ই রমজান, ১৪৪২

হোম > রাজনীতি > তারপরও মন্ত্রীদের চিৎকারে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়: রিজভী

তারপরও মন্ত্রীদের চিৎকারে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়: রিজভী

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়ালকে কারাগারে পাঠানো বিচারকের পরিণতি সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার মতো হয় কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ শঙ্কার কথা বলেন।

রিজভী বলেন, এখন উল্টোপথে চলছে দেশ। কবি শামসুর রাহমানের ভাষায়– ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের মনে করছেন আইন আদালতের ঊর্ধ্বে। ফ্যাসিবাদ জাঁকিয়ে বসেছে হিংস্র রূপ নিয়ে। নিজেদের ইচ্ছেমতো রায় বের করার জন্য দেশের আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পিরোজপুরের ঘটনা সামনে এনে তিনি বলেন, মঙ্গলবার আপনারা দেখেছেন– পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কী ভয়াবহ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল এবং তার স্ত্রী পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা তিন দুর্নীতি মামলায় জামিন আবেদন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মান্নান। আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ নেতার সমর্থকরা আদালতের বাইরে তাণ্ডবলীলা শুরু করেন। পিরোজপুরের রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুর, হামলা, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে ভয়ানক তাণ্ডব চালাতে থাকে। এই জেলা শহরটিকে মূহুর্তের মধ্যে এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত করে। এখানেই শেষ নয়, তার পর যা ঘটেছে তা আরও ভয়াবহ। রায় ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পর বিচারক আবদুল মান্নানকে ওপরের বিশেষ নির্দেশে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। বিচারক কেন জামিন দিলেন না, সে অপরাধে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার ঘোষণাও দেয়া হয়। এর পর মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে আদালতে নতুন বিচারক বসিয়ে তার কাছ থেকে ইচ্ছেমতো রায় আদায় করে নেন। সাবেক এমপি একেএমএ আউয়াল কারাগারে না গিয়ে বীরদর্পে বাড়িতে চলে যান। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের নিশিরাতের সরকারের বিচার। সেই স্বাধীন বিবেকের বিচারকের পরিণতি এখন কি হবে তা নিয়ে দেশবাসী শঙ্কিত। তার পরিণতি কি এসকে সিনহার মতো হবে, না মোতাহার হোসাইনের মতো হবে তা নিয়ে দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই গভীর শঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে।

মন্ত্রীদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এর পরও যখন নিশিরাতের সরকারের মন্ত্রীরা চিৎকার করে বলেন, সরকার আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ করে না, তখন আওয়ামী লীগ লজ্জা না পেলেও বিবেকবান দেশবাসীর লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। এতসব ভনিতার কি দরকার? পরিষ্কার করে বলে দিলেই তো হয়- ‘কিসের আবার আইন’! ‘শেখ হাসিনার কথাই তো চূড়ান্ত আইন’! কথায় বলে, হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না। অথচ নিশিরাতের সরকারের আমলে জনগণ কি দেখছে? হাকিমও নড়ে, হুকুমও নড়ে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হুকুম নড়ে না। এটাকেই বলে– আইন আদালত মাকড়সার জালের মতো। মন্ত্রী-এমপি, ক্ষমতাসীনরা এই জালে আটকাবে না, এই জালে আটকাবে সাধারণ জনগণ আর বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা– এরই নাম আওয়ামী লীগ।

>