বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > থ্রিজির পর ফোরজির অনুমোদন দেবে বিটিআরসি

থ্রিজির পর ফোরজির অনুমোদন দেবে বিটিআরসি

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ আজ ১৮ আগষ্ট অপারেটরদের আবেদন বাছাই শেষে থ্রিজির জন্য যোগ্য অপারেটরদের নাম ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশে থ্রিজি লাইসেন্সের নিলাম সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হচ্ছে। আর সফলভাবে থ্রিজির বাণিজ্যিক সেবা চালুর পরেই চতুর্থ প্রজন্মর টেলিযোগাযোগ ফোরজি সেবাও চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে থ্রিজি লাইসেন্সের আওতায় ফোরজির অনুমোদন দেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। তবে বিটিআরসির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) জাকির হোসাইন খান এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ফোরজির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে তখন এটার অনুমোদন দেবে বিটিআরসি।
এদিকে একটি জাতীয় দৈনিক সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যত দ্রুত সম্ভব ফোরজি ও এলটিই (লংটার্ম ইভালিউশন) নেটওয়ার্ক সেবার অনুমোদন দেবে বিটিআরসি। কমিশনের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে থ্রিজি সেবা চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয় ২০০৮ সালে। তবে বাণিজ্যিকভাবে এ সেবা চালু করতে খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজ স¤পন্ন হয় গত বছর। একই বছরের ২৮ মার্চ খসড়া থ্রিজি/ফোরজি/ এলটিই রেগুলেটরি অ্যান্ড লাইসেন্সিং নীতিমালা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বিটিআরসি। মন্ত্রণালয় গত ফেব্র“য়ারিতে এ নীতিমালা চূড়ান্ত করে। গত ১৪ ফেব্র“য়ারি বাণিজ্যিকভাবে থ্রিজি সেবা দিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। এ নীতিমালায় থ্রিজির পাশাপাশি ফোরজি ও এলটিই সেবাদানেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। থ্রিজি লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোই এ সুযোগ পাবে। পরবর্তী প্রজন্মর প্রযুক্তির সেবাদানের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করতে হবে। থ্রিজি লাইসেন্সের বিপরীতেই এ সেবাদানের অনুমোদন দিতে পারবে কমিশন। এ প্রসঙ্গে সুনীল কান্তি বোস বলেন, থ্রিজির বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি শেষে ফোরজি ও এলটিইর অনুমোদন দেয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সেবা চালুর অনুমোদন দেবে বিটিআরসি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০১২ সালের ডিসেম্বরেই চতুর্থ প্রজন্মর (ফোরজি) প্রযুক্তি সেবা চালু হবে। যদিও থ্রিজি সেবার নিলাম হতে যাচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে। প্রসঙ্গত ফোরজি হল ফোর্থ জেনারেশন বা চতুর্থ প্রজন্ম শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি ব্যবহৃত হয় চতুর্থ প্রজন্মর তারবিহীন টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিকে বুঝাতে। এটি তৃতীয় প্প্রজন্মর (থ্রিজি) টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির উত্তরসূরি। ফোরজি প্রযুক্তি ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা অন্যান্য মোবাইল যন্ত্রে মোবাইল আল্ট্রা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে থাকে। ফোরজি নেটওয়ার্কে যেসব সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে সংশোধিত মোবাইল ওয়েব সেবা, আইপি টেলিফোনি, গেমিং সেবা, হাই-ডেফিনিশন মোবাইল টিভি, ভিডিও কনফারেন্স, ত্রিমাত্রিক টেলিভিশন এবং ক্লাউড ক¤িপউটিং উল্লেখযোগ্য। বাণিজ্যিকভাবে দুই ধরনের ফোরজি প্রযুক্তি স্থাপিত হয়েছে। মোবাইল ওয়াইম্যাক্স (২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম) এবং লংটার্ম ইভালিউশন বা এলটিই (২০০৯ সালে নরওয়ের ওসলো এবং সুইডেনের স্টকহোমে প্রথম)। যুক্তরাষ্ট্রে ¯িপ্রন্ট নেক্সটেল ২০০৮ সালে মোবাইল ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক স্থাপন করে এবং মেট্রোপিসিএস ২০১০ সালে প্রথম এলটিই সেবা চালু করে। তারবিহীন ইউএসবি মডেম প্রথম থেকেই লভ্য ছিল, কিন্তু ওয়াইম্যাক্স স্মার্টফোন লভ্য হয় ২০১০ সাল থেকে এবং এলটিই স্মার্টফোন ২০১১ সাল থেকে। তবে ইউরোপীয় বাজারে বর্তমানে ওয়াইম্যাক্স স্মার্টফোন বিক্রয় বন্ধ রয়েছে।
২০০৮ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের বেতার যোগাযোগ সেক্টর ফোরজি এর প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তুসমূহের একটি রূপরেখা প্রবর্তন করে। তারা উচ্চ মোবিলিটি যোগাযোগের জন্য প্রতি সেকেন্ডে ১০০ মেগাবিট এবং নিু মোবিলিটি যোগাযোগের জন্য প্রতি সেকেন্ডে ১ গিগাবিট গতি প্রণয়ন করে। মোবাইল ওয়াইম্যাক্স রিলিজ ২ এবং এলটিই-অ্যাডভান্সড আইএমটি-অ্যাডভান্সডের বিষয়বস্তু সমর্থন করে এবং এর সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে এক গিগাবিট গতিস¤পন্ন সেবা প্রদান করাও সম্ভব। এই সেবাগুলো চলতি বছর ২০১৩ সালে অবমুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

>