সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ শুরু আজ, বাংলাদেশের মুখে এক অন্তরে আরেক

দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ শুরু আজ, বাংলাদেশের মুখে এক অন্তরে আরেক

শেয়ার করুন

কাঠমান্ডু (নেপাল) থেকে ॥ নেপালের সঙ্গে খেলা ১৮ ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। সাফের পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই রয়েছে জয়। সর্বশেষ জয়টিও বাংলাদেশের, ২-০ গোলে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাই পর্বে। এরপরও নেপালের বিরুদ্ধে জোর দিয়ে জয়ের কথা বলছেন না বাংলাদেশের হেড কোচ লোডউইক ডি. ক্রুইফ। আজ শুরু হতে যাওয়া সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের দলকে রাখছেন আউট সাইডার হিসেবে। কোন স্বপ্নই দেখাচ্ছেন না শিরোপার। তবে কোচের নিরাশার মাঝেও আশার আলো দেখছেন ফুটবলাররা। তার বলছেন তাদের চাপমুক্ত রাখতেই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন ক্রুইফ। মুখে এসব বললেও খেলোয়াড়দের সাহস দিচ্ছেন, কৌশলের আশ্রয় নিয়ে নেপালকে করছেন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী। শেষ মুহূর্তে নেপাল বধের সকল কৌশল শেখাচ্ছেন এমিলি-মামুনুলদের। এমন অবস্থানে নিয়ে আজ নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। যে ট্রফি ২০০৩ সালে ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশ। পুনরুদ্ধারে আগামী মঙ্গলবার ভারতের সঙ্গে দ্বিতীয় ও বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সঙ্গে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে ক্রুইফ শিষ্যরা।
৯ আসরের ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত ও স্বাগতিক নেপাল যখন গ্রুপ পর্বেই প্রতিদ্বন্দ্বী, শিরোপার প্রতিশ্রুতি তখন খানিকটা বাড়াবাড়িই শোনায়। বাস্তবতা মেনেই হয়তো কোন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না কোচ। তার উপর গত দিল্লি সাফে খুবই বাজে ফলাফল ছিল বাংলাদেশের। তিন ম্যাচের দু’টিতেই হার, পাকিস্তানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র’র ১ পয়েন্ট নিয়ে আট দলের মধ্যে সপ্তম। এবারে গ্রুপ পর্বেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র। তারউপর প্রথম ম্যাচেই একাদশে পাওয়া যাচ্ছে না অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম ও মিডফিল্ডর হোসেল রানাকে। মাঝমাঠের এই দ্ইু ফুটবলারকে হারিয়ে একাদশ তৈরীতে যেখানে হিমশিম খাচ্ছেন কোচ, সেখানে উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি তার মুখে মানায়ও না। হয়তো সেটা ভেবেই কোচ আশার বাণী দিচ্ছেন না। তাইতো ক্রুইফ বাঁচামরার লড়াইয়ে এগিয়ে রাখছেন স্বাগতিক নেপালকে। তিনি বলেন, ‘নেপাল শুধু নিজেদের মাটিতেই খেলছে না, তারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল। তাদের আছে বেশ কিছু ভালোমানের ফুটবলার। যারা আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারেন। পরিষ্কার কথা তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে। গত সাফের আট দলের মধ্যে সাত নম্বর ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশ আট দলের মধ্যে রয়েছে চার নম্বরে এসব কারণে নিজ দলকে আন্ডারডগ হিসেবে ভাবছেন ক্রুইফ। তার দল আন্ডারডগ হলেও ম্যাচটি ভাল হবে বলে আশাবাদ তার। ‘গত দুই মাসের প্রস্তুতিতে ছেলেরা অনেক উন্নতি করেছে। আশা করছি ম্যাচটি ভালই হবে। আর দিনটা আমাদের পক্ষে থাকলে জয়ও আসবে, যেমনটি এসেছিল এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে।’ নেপাল বধে কোচ কাকে কাকে খেলাবেন তা গতকাল পর্যন্ত খোলাসা করেননি। তবে আর্মি গ্রাউন্ডে অনুশীলন দেখে মনে হয়েছে আজ অভিষেক হচ্ছে জামাল ভূঁইয়া ও ওয়াহেদ আহমেদের। ধারণা করা হচ্ছে এদের সঙ্গে আজ এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন মামুন খান। এদিকে নেপালের ম্যাচের পরই ভারত নিয়ে ভাবতে চান ক্রুইফ। নেপালের আমেরিকান কোচ জ্যাক স্টেফানোস্কি খুবই আশাবাদী তার দলের শক্তিমত্তা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য বড় একটা সুযোগ যে আমারা নিজেদের মাটিতে খেলছি। তাছাড়া আমাদের প্রস্তুতিটাও যথেষ্টই ভাল। তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমরা ভাল করবো এই ম্যাটটিতে। দলে ছয়জন নতুন খেলোয়াড় এসেছে যা আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ তবে নেপালিদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আমলে নিতে চান না অভিষেক হতে যাওয়া দুই ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া ও ওয়াহেদ আহম্মেদ। তাদের বিশ্বাস- জয় দিয়েই সাফ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। খেলতে না পারলেও আশাবাদী অধিনায়ক মামুনুল ইসলামও। ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ১০ বছর আগে। ২০০৩ সালে রজনী কান্ত বর্মণের নেতৃত্বে ঢাকার মাটিতে সাফ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। রানার্সআপ হয়েছিল ১৯৯৭ ও ২০০৫ সালে। এবারও কি পারবে মামুনুলের নেতৃত্বে ২০১৩-কে ২০০৩ এ পরিণত করতে বাংলাদেশের ফুটবলাররা? সেটার প্রত্যাশাই সকলের।
সম্ভাব্য বাংলাদেশের একাদশ: মামুন খান (গোলরক্ষক) আরিফ, নাসির (অধিনায়ক), ওয়ালী, লিংকন, জামাল ভূঁইয়া, মিশু, মিঠুন চৌধুরী, জাহিদ/তকলিস, ওয়াহেদ, এমিলি।

>