শনিবার , ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ তবুও আমদানি

দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ তবুও আমদানি

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মন্ত্রী, সচিবসহ খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবুও প্রতি বছর জি টু জি বা টেন্ডারের মাধ্যমে চাল ও গম আমদানি চলছেই। আমদানির বাইরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও খাদ্য সংগ্রহ করছে সরকার। এ খাতে প্রতি বছর সরকারের প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। নিজস্ব অর্থ (জিওবি) দিয়ে এমন আমদানি হলেও এনিয়ে সরকারের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তাদের মাথাব্যথা নেই। বরং আমদানি করতে পারলেই যেন তারা বেজায় খুশি। খাদ্য অধিদপ্তরের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চাল ও গম কোন কোন বছর আমদানি কম হয়। আবার দেখা যায়, পরের বছর আমদানিতে সবকিছু ছাপিয়ে যায়।

বর্তমান সরকারের চার বছরে অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি করা চালের পরিমাণ ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৭ টন। একই সময়ে আমদানি করা গমের পরিমাণ ১৯ লাখ ৭২ হাজার ৫২১ টন। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও চাল ও গম আমদানি কেন করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহমদ হোসেন খান জানিয়েছেন, চাল প্রতি বছর ল্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে। অনেক ধরনের চাল আবার বিদেশে রপ্তানিও হচ্ছে। অন্যদিকে গম উৎপাদনে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। তাই চাল রপ্তানি ও গমের উৎপাদন কম হওয়ার তি পোষাতে চাল ও গম কিছু হলেও আমদানি করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে সাত লাখ ৭৭ হাজার ১৮৪ টন গম আমদানি হয়েছে। এর বিপরীতে এক ১৯৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। একই অর্থবছরে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৬ টন চাল আমদানি হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হয়েছে ৪৬৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে একই অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে চার লাখ ৬২ হাজার ৫৫৩ টন চাল সংগ্রহে ৮৪৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৪১ হাজার ৯৭ টন গম আমদানিতে ১৩৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়। একই অর্থবছরে চার লাখ ৫৫ হাজার ৬৪ টন চাল আমদানিতে ১৭৭৪ কোটি তিন লাখ টাকা খরচ হয়।

অন্যদিকে ২০১১-২০১২ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৯৮ হাজার ৫৯৯ টন গম সংগ্রহে ২২৬ কোটি ৬৯ লাখ এবং ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৩১৪ টন চাল সংগ্রহে ৩৪৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ওদিকে ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে তিন লাখ ৩৮ হাজার ১৩১ টন গম আমদানির পেছনে ৮৮৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। একই অর্থবছরে ২২২৩ টন চাল আমদানির পেছনে ২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা খরচ হয়। এছাড়া, অভ্যন্তরীণভাবে এক লাখ ৩০ হাজার ৫৭৬ টন গম সংগ্রহে ৩২১ কোটি ৫২ লাখ এবং ১২ লাখ ৭৪ হাজার ২৮৪ টন চাল সংগ্রহে ৩২৭১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালের ১৯শে জুন জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক জানান, ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রকৃতির কারণে ফসলের কোন তি না হলে বিদেশ থেকে চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না। দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। গত ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩ কোটি ৩ লাখ ৭১ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল।

২০১১-১২ অর্থবছরেও ৩ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে। এরপর ২০১৩ সালের ৪ঠা মার্চ সংসদে প্রশ্নোত্তর-পর্বে খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক জানান, সরকার নিজস্ব অর্থে ও বৈদেশিক অনুদানে ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট প্রায় নয় দশমিক ৬৯ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করেছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের জন্য নিজস্ব তহবিল হতে ৩১১৬ কোটি ১৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। দেশের জনসংখ্যা ও মাথাপিছু দৈনিক খাদ্য চাহিদার ভিত্তিতে খাদ্যের বাৎসরিক চাহিদা নিরূপণ করা হয়।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎস তথা অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত চাল দিয়ে দেশের চাহিদা মিটানো হয়। তবে গমের েেত্র চাহিদার এক তৃতীয়াংশ দেশীয় উৎস থেকে এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ টন আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। অন্যদিকে অগ্নিকন্যাখ্যাত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা ও বিচণতার কারণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলেও দূর হয়েছে মঙ্গা। সেখানকার মানুষদের মানুষ হিসেবে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষযক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে প্রচার করে আসছেন। এরপরও চাল ও গম আমদানি চলছেই।

>