রবিবার , ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষকদের সভায় শ্রমিকদের হামলা, মহাপরিচালক অবরুদ্ধ

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষকদের সভায় শ্রমিকদের হামলা, মহাপরিচালক অবরুদ্ধ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে সোমবার বিকেলে গবেষকদের সভায় শ্রমিক নেতাদের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে এসময় শ্রমিক নেতারা তিনজন গবেষক কর্মকর্তাকে মারধর এবং লাঞ্ছিত করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ধান গবেষণা বৈজ্ঞানিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাজাহান কবির দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি করে টেন্ডার ও বদলী বাণিজ্য করেন। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন। এ প্রেেিত ওই কর্মকর্তা শ্রমিক নেতাদের যোগসাজশে গবেষকদের নানাভাবে হেনস্থা করে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেল ৩টায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের (প্রশাসন) কে বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠক চলাকালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আব্দুল মজিদ, মামুনসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতার নেতৃত্বে শ্রমিকরা খামার ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রেজাউল করিম মনি রঞ্জুকে মারধর করে।

পরে মারধরের ঘটনার বিচার চেয়ে গবেষকরা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকের কাছে যান। সেখানে তাদের বৈঠক চলাকালে শ্রমিক ও বহিরাগত লোকজন ফের মিছিল নিয়ে কনফারেন্স রুমে প্রবেশ করে এবং দু’জন গবেষককে মারধর করে। পরে তারা অন্তত ৫০ জন বিজ্ঞানীসহ প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

আহত রেজাউল করিম মনি রঞ্জু জানান, পরিচালক (প্রশাসন) জীবন কৃঞ্চ বিশ্বাসের কে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিকদের বৈঠক ছিল। এসময় শ্রমিক নেতারা রাজনৈতিক কারণে কয়েকজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। তারই প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে শ্রমিক নেতা মজিদ, মামুনসহ কয়েকজন শ্রমিক মারধর করে।

অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ গবেষকদের মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘গবেষকদের এখানে কোনো সমিতি বা সংগঠন থাকার কথা নয়। তাদের কাজ গবেষণা করা। কিন্তু তারা গবেষণা না করে দলাদলিতে লিপ্ত রয়েছেন। এসব গবেষকরা বিভিন্ন প্রজেক্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করছেন।’

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. সাইদুল ইসলাম গবেষকদের মারধরের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘যেখানে আমার বিজ্ঞানীরা অবরুদ্ধ সেখানে আমিও অবরুদ্ধ। শ্রমিকরা আমার উপস্থিতিতে গবেষকদের বৈঠকে হট্টগোলের চেষ্টা করে। পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞানীদের অভিযোগের প্রেেিত কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শাজাহান কবিরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

>