বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > নকিয়ার স্টিফেন ইলোপ হবেন মাইক্রোসফটের সিইও

নকিয়ার স্টিফেন ইলোপ হবেন মাইক্রোসফটের সিইও

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্টিভ বলমার। তার উত্তরসূরি কে হবেন তা নিয়ে আলোচনার রেশ শেষ না হতেই নকিয়ার সেলফোন ব্যবসা কেনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকদের মতে, নকিয়ার সিইও স্টিফেন ইলোপই হতে পারেন মাইক্রোসফটের নতুন সিইও। নকিয়ার আগে মাইক্রোসফটেই নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন ইলোপ।

বেশির ভাগ বিশ্লেষকের মতে, কানাডার নাগরিক স্টিফেন ইলোপাই হতে পারেন মাইক্রোসফটের নতুন সিইও। নকিয়ার মাধ্যমে সেলফোনের বাজারে মাইক্রোসফটের পথচলায় তার দিকনির্দেশনা কাজে লাগবে। আগেও মাইক্রোসফটের কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে এগিয়ে রাখবে অনেকটাই। তিনি সফটওয়্যার জায়ান্টের সবচেয়ে লাভজনক অফিস ইউনিট তিন বছর পরিচালনা করেছেন। নকিয়ার প্রধান হিসেবেও তার কাজের অভিজ্ঞতা প্রায় তিন বছরের।

মাইক্রোসফটে বিনিয়োগকারী জেনসেন ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক কেভিন ওয়ালকুশ বলেন, ‘সবাই এখন নাটকীয় পরিবর্তন দেখার অপোয়। মাইক্রোসফট সম্পর্কে স্টিফেনের ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার অভিজ্ঞতা ও দতার ভালো সমন্বয় রয়েছে।’

২০১১ সালে নকিয়ার ফোনে উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল কিনা— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ইলোপের নেতৃত্বে নকিয়ার শেয়ারদর কমেছে ৬০ শতাংশের বেশি। সোয়েডব্যাংকের বিশ্লেষক হাকার র্যানে বলেন, ‘এখন স্মার্টফোনের বাজারে নকিয়ার বাজার দখল মাত্র ৩ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তারা সেলফোনের ৪০ শতাংশ রাজস্ব খুইয়েছে।’

নকিয়ার সিইও হিসেবে ফিনল্যান্ডের বাইরের প্রথম কেউ স্টিফেন ইলোপ। তার প্রায় ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। তবে যে কর্মীরা নকিয়ায় এখনো টিকে আছেন, তাদের অনেকেই ইলোপের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ডিভাইস বাজারে এনে চমক সৃষ্টি করায় তাকে সাধুবাদ জানান অনেক বিশ্লেষক। তিনি প্রতিদিনই নকিয়ার ক্রেতাদের ১০-২০টি ই-মেইলের জবাব দিতেন। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নকিয়ার সাবেক এক কর্মী ইলোপ সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি দারুণ ব্যক্তিত্ব। তিনি সবার সঙ্গে মিশতে পারেন।’

২০০৮ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেয়ার আগে জুনিপার নেটওয়ার্কস ইনকরপোরেটের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ছিলেন ইলোপ। তারও আগে ছিলেন সফটওয়্যার ফার্ম অ্যাডোবি সিস্টেমসের প্রেসিডেন্ট। মাইক্রোসফটের সাবেক চিফ অব স্টাফ পল মারফি বলেন, ‘ইলোপের কারিগরি বিষয়ে দতা রয়েছে। ক্রেতাকে দারুণভাবে সামলাতে পারেন তিনি। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি সহজ থাকতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মাইক্রোসফটের পরিচালনা পর্ষদ নতুন সিইও খুঁজতে আলাদা করে কোনো কমিটি গঠন করবে না। নিশ্চিত না হলেও মাইক্রোসফটের সিইও হওয়ার দৌড়ে ইলোপই এগিয়ে। মাইক্রোসফটের সম্ভাব্য সিইও হিসেবে আলোচিত হচ্ছে আরো অনেকের নাম। এর মধ্যে রয়েছে— মাইক্রোসফটের ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান টনি বেটস, ওএস বিভাগের নির্বাহী টেরি মায়ারসন, কাউড ও এন্টারপ্রাইজ গ্রুপের প্রধান সত্য নাদেলা, কেভিন টার্নার, স্টিফেন সিনফস্কি, ভিক গানডোটরা, রিড হেস্টিংস, পল মরিজ ও বিল গেটস।রয়টার্স

>