বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > নতুন ইতিহাসের মুখে ইংল্যান্ড

নতুন ইতিহাসের মুখে ইংল্যান্ড

শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ সিরিজ হারানোর ভয় আগেই শেষ হয়েছিল ইংলিশদের। শেষ দুই টেস্ট হারলেও সমতায়ই শেষ হতো এবারের অ্যাশেজ সিরিজ। তবে স্বাগতিকরা দেখালো বেশি কিছু। পেস তারকা স্টুয়ার্ট ব্রড গড়লেন নতুন ইতিহাস। আর নতুন ইতিহাস রচনার মুখে ইংল্যান্ড দলও। ডারহ্যাম টেস্ট জিতে নিয়ে এবারের অ্যাশেজ সদর্পেই নিজেদের নামে করলো কুক বাহিনী। সোমবার সিরিজে চতুর্থ ম্যাচের চতুর্থ দিনে ৭৪ রানের জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের। এতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ৩-০তে এগিয়ে রইলো ইংল্যান্ড। আর এখানেই ইংল্যান্ডের ভিন্ন এক গৌরবের সম্ভাবনা। সোয়া শ’ বছরের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার বিপে এ নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার সিরিজে ৩-০তে লিড পেল ইংল্যান্ড। আর ইংলিশদের তিনদফা এমন কৃতিত্বের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধানটা যথেষ্ট লম্বা। অস্ট্রেলিয়ার বিপে ইংলিশরা সর্বশেষ ৩-০-এর লিড দেখায় ১৯৭৭-এর অ্যাশেজে। আর ইংল্যান্ডের প্রথমবার এমন কৃতিত্ব ১৮৮৬ মওসুমে। ১৯২৮-২৯’র অ্যাশেজে ৩-০ লিডের ইংলিশদের অপর ঘটনাটি। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপে ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় পায়নি কখনোই। চলতি সিরিজে শেষ টেস্টে জয় পেলে ইংল্যান্ডের পূরণ হবে এমন সাধও। চেস্টার লি স্ট্রিটে চতুর্থ দিনের শুরুটা ছিল সফরকারী অস্ট্রেলিয়ারই। এক ঘণ্টার মধ্যে ইংল্যান্ডকে গুড়িয়ে ল্য ২৯৯-এ নিয়ে আসে তারা। এরপর সিরিজে প্রথমবারের মতো ওপেনিং জুটিতে শতরান তুলে নিয়ে সফরকারীদের ফেভারিটই দেখাচ্ছিল। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ক্রিস রজার্স ও ডেভিড ওয়ার্নার অবিচ্ছিন্ন থাকেন দলীয় ১০৯ রান পর্যন্ত। কিন্তু দিন শেষে অসিদের স্বপ্নভঙ্গের অন্যতম কারণ ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডের রেকর্ড গড়া বোলিং। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রানে ৬ উইকেট তুলে নেন ব্রড। এতে তার ম্যাচ ফিগার দাঁড়ায় ১১/১২১। অ্যাশেজে বল হাতে ম্যাচে এমন কৃতিত্বের ঘটনাটিও দুর অতীতের। অস্ট্রেলিয়ার বিপে ম্যাচে সর্বশেষ ১১ উইকেট শিকার দেখান ফ্রেড ট্রুম্যান ১৯৬১-এর মওসুমে। ডারহ্যাম টেস্টে অসিদের খেলায় ফিরিয়েছিলেন অপর পেসার রায়ান হ্যারিসই। হ্যারিসের ক্যারিয়ার সেরা ৭ উইকেট শিকারে এতে ২৯৯ রানের টার্গেট পায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। আর ইংল্যান্ডের মাটিতে অসি বোলারের ৭ উইকেট শিকারের ঘটনা ২০০১-এর সফরের পর এবারই প্রথম। সেবার হেডিংলি টেস্টে ৭৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন অসি পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা। ডারহ্যামে ব্যক্তিগত ৪৯ রানে ক্রিস রজার্স ফিরে গেলেও ডেভিড ওয়ার্নার খেলেন ৭১ রানের কার্যকর ইনিংস। কিন্তু অসি মিডলঅর্ডার ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভর করছিল ম্যাচের ভাগ্য। আর ভঙ্গুর ব্যাটিংয়ে অসি মিডলঅর্ডার চলতি সিরিজে নিজেদের দুর্দশা আরও্র বড়ই করে কেবল। এতে স্টিভেন স্মিথ, শেন ওয়াটসন ও ব্র্যাড হ্যাডিন নিজেদের উইকেট দেন ব্যাক্তিগত ২, ২ ও ৪ রানে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে জীবনে প্রথমবার ব্যাট হাতে ০ দেখেছিলেন ওসমান খাজা। এ অসি তিন নম্বর ব্যাটসম্যান গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আউট হন ব্যক্তিগত ২১ রানে। আর অসিদের ভরসা অধিনায়ক মাইকেল কার্কও আত্মাহুতি দেন ব্যক্তিগত ২১ রানেই। সিরিজে ব্যাট হাতে ইয়ান বেলের দারুণ ফর্ম জারি থেকেছে ডারহ্যাম টেস্টেও। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে বেল হাঁকান ১১৩ রানের দারুণ ইনিংস। এতে সিরিজে এক ম্যাচ বাকি রেখে বেল শতক দেখালেন তিনবার। ইয়ান বেল নিজ মাটিতে অ্যাশেজে তিন সেঞ্চুরি দেখানো মাত্র তৃতীয় ইংলিশ ব্যাটসম্যান। এর আগে ১৯৩৪-এর অ্যাশেজে মরিস লেল্যান্ড ও ১৯৮৫-এর মওসুমে ডেভিড গাওয়ার দেখান এমন কৃতিত্ব।
সংপ্তি স্কোর
টস: ইংল্যান্ড, ব্যাটিং
ইংল্যান্ড: ২৩৯ ও ২৩০
অস্ট্রেলিয়া: ২৭০ ও ২২৪
ফল: ইংল্যান্ড ৭৪ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: ব্রড (ইংল্যান্ড)
শেষ টেস্ট শুরু: ২১শে আগস্ট, ওভাল

>