মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় তারেক রহমানের

পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় তারেক রহমানের

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ পরিবর্তনের এক সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যাক্ত করলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কৃষি, শিা ও শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে বদলে দেয়া সম্ভব দেশকে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দেয়া এক ব্যতিক্রমী বক্তৃতার মাধ্যমে উপস্থিত শত শত মানুষের সামনে তিনি তুলে ধরেন তার গবেষণাধর্মী চিন্তাভাবনা।

তারেক রহমান বলেন, কেবল অতীতমুখিতা নয় আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। দেশের কৃষি, শিা ও শিল্পকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীতে একটি মডেল দেশে রুপ দিতে পারবো।

বুধবার লন্ডনে যুক্তরাজ্যের বিএনপি আয়োজিত ইফতার পূর্ব সমাবেশে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিএনপি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সভাপতি শাইস্তা চৌধুরী কুদ্দুস।

সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমদের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিন সেলিম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আবু সায়েম।

দেশের জন্য সবাইকে কাজ করার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কটূকথা বলে প্রতিপকে আঘাতের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তৈরী করতে হবে নিজেদেরকে দেশ গড়ার যোগ্য হিসেবে । বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি ব্যবস্থার মানউন্নয়ন করতে হবে। কৃষির অতীত ও বর্তমানকে সামনে রেখে সুন্দর একটি ভবিষ্যত পরিকল্পনা দরকার।

তিনি বলেন, কৃষির আধুনিকায়নে কৃষি তথ্য ভান্ডার গড়তে হবে। এ তথ্য ভান্ডারে দেশের সব জায়গার জমি উর্বরতা, ফলন ও উৎপাদনসহ সার্বিক বিষয়ের তথ্যাদি থাকবে। কৃষকের কৃষি উৎপাদন সহজলভ্য করতে একটি কৃষি বান্ধব মূল্য নির্ধারণ কমিশন গঠন করার কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, কৃষক যাতে তার সার, কীটনাশক ও বীজ সময়মতো সে সুযোগ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি ব্যাংক তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। এ পরিকল্পনায় কৃষির মাধ্যমে দারিদ্র জনগোষ্ঠী কেবল লাভবান হবে না পুরো দেশ লাভবান হবে।

কৃষি সম্প্রসারণে কৃষি ব্যাংকের উন্নত সেবার ওপর জোর দেন তিনি।  তারেক রহমান বলেন, কৃষি চাষ বলতে আমরা কেবল সমতল ভূমি বুঝি। এ ধারণা ঠিক নয়। দেশের পাহাড়ি এলাকাসহ অন্যান্য এলাকাতেও পরিকল্পিত কৃষি কাজ বাড়াতে হবে। এর ফলে দেশের কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে।

দেশ এগিয়ে নেয়ার জন্য শিার ভূমিকা খুবি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শিা একটি জাতির মূল্যবান সম্পদ। যে কোন দেশের উন্নয়নের পূর্ব শর্ত শিা। একজন শিতি মানুষ মূল্যবান বিশ্ব নাগরিক।

তিনি বলেন, আমাদেরকে শিার মাধ্যমে নিজেদের দ করে গড়ে তোলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন দেশের শিানীতিকে নতুন করে সাজানো । এতে সময় উপযোগী নতুন নতুন বিষয়ের সংযোজন। এ েেত্র ‘পারসোনাল ও প্রফেশনাল ডেভলাপমেন্ট’ নামক একটি বিষয় পাঠে অর্ন্তভুক্ত করলে শিার্থীরা উপকৃত হবে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের শিাকে বাস্তব ও কর্মমুখী করে তৈরী করা দরকার। ছাত্র-ছাত্রীদের কেবল লেখা পদ্ধতির পরীার মধ্যে না রেখে তাদের হাতে-কলমে শিা বাড়ানো দরকার। এ েেত্র লেখার মাধ্যমে মূল্যায়ন শতকরা ২-৩ শতাংশ রেখে বাকি শতাংশ অ্যাসাইনম্যান্ট ভিত্তিক মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

ভাষা শিার গুরুত্ব তোলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতাময়। এ েেত্র বিদেশী ভাষাতেও আমাদের দ হতে হবে। বাংলার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজী, ফ্রেঞ্চ ও আরবি ভাষা শিা দেয়া দরকার। এর মাধ্যমে বিদেশে দ মানব সম্পদ পাঠানো সম্ভব হবে। দেশের সব জনশক্তি দ হলে দেশে বেকারত্বের সমস্যা থাকবে না।

শিল্পের উন্নয়ন প্রসংগে তারেক রহমান বলেন, দেশকে শিল্পে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা সময়ের দাবী। দেশে শিল্পের বিকাশ হলে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরী হবে। দেশের আর্থিক সমস্যা দূর হবে। শিল্পের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে শতকরা ৯২ শতাংশ হচ্ছে  ুদ্র ও মাঝারী শিল্প। আর এটি সংখ্যায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি। দেশকে উন্নত করতে হলে সঠিক শিল্প পরিকল্পনার মাধ্যমে এগুতে হবে। দেশে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন করতে হবে। শিল্পে এমন পরিকল্পনা থাকবে যাতে এখান থেকে  নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশেও রপ্তানি করতে পারি।

দেশের গার্মেন্টস শিল্প প্রসংগে তারেক রহমান বলেন, দেশের আয়ের এক বিশাল অংশ অর্জন হয় গার্মেন্টস থেকে। এ জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ও কারখানার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।  গার্মেন্টস শিল্পের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করারও পরামর্শ দেন তারেক রহমান।

শিল্পের উন্নয়নে চীনের প্রসংগ এনে তিনি বলেন, চীন তাদের শিল্প কারখানার মাধ্যমে নিজ দেশের চাহিদা মিটিয়েও রপ্তানীর মাধ্যমে ১২ বিলিয়ন ডলার প্রতি বছর আয় করে। বাংলাদেশেও যদি সঠিকভাবে শিল্প পরিকল্পনা নেয়া হয় তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানীর মাধ্যমে বছরে ১ বিলিয়ন ডলার আয় অর্জন করা সম্ভব।

দেশের চলমান রাজনীতি প্রসংগে তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণের এ মুহূর্তে দাবী হচ্ছে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে আগামী নির্বাচন করা। দেশের উন্নয়ন কেবল নিরপে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচিত সরকারই করতে পারে। বিদেশে ও দেশে সব দেশপ্রেমিক জনতাকে তাদের নিজেদের অবস্থান থেকে দেশে একটি সুন্দর ও নিরপে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ চালিয়ে যাবার আহবান জানান তিনি।

>