বুধবার , ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ , ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ , ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > সারাদেশ > পলাশে ধর্ষণ মামলার ন্যায়বিচার দাবি স্থানীয় কাউন্সিলর ও এলাকাবাসীর

পলাশে ধর্ষণ মামলার ন্যায়বিচার দাবি স্থানীয় কাউন্সিলর ও এলাকাবাসীর

শেয়ার করুন

বিল্লাল হোসেন
নরসিংদী প্রতিনিধি ॥
নরসিংদীর পলাশে ধর্ষণ মামলার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর ও এলাকাবাসী। বিবাদী পরিবারের দাবি রাজনৈতিক ও পারিবারিক সুনাম নষ্ট করার জন্য প্রতিপক্ষ মহল বাদীকে প্রভাবিত করে মিথ্যা মামলাটি করেছে। ঘটনার ১০ দিন পর মামলা হওয়ায় জনমনে এ ঘটনায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াশাল পৌরসভার বিএডিসি মোড়ের উত্তর পার্শ্বে (মেইন রোডে) খন্দকার মার্কেটের খন্দকার ফ্যাশনের সামনে পার্কিং করা প্রাইভেট কারের ভিতরে স্থানীয় কাউন্সিলর আলম খন্দকারের ছোট ভাই পাপ্পু খন্দকার ও তার সহযোগীর সহযোগীতায় তার ড্রাইভারের স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

গত ৮ নভেম্বর দায়েরকৃত মামলার এজহারে বাদী উল্লেখ করেন, স্বামী-স্ত্রী দুইজনকে ডেকে এনে তার সম্মুখে তাহার স্বামীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দোকানের ভিতরে নিয়ে গিয়ে চড় থাপ্পর মেরে পাপ্পুর সহযোগী শাহাদাৎ এর সহযোগীতায় দোকানের শাটার বন্ধ করে তার স্বামীকে আটক করে রেখে গত ২৬ অক্টোবর রাত ১২.৪৫ মিনিটে বিবাদী পাপ্পু খন্দকার তার নিজ দোকানের সামনে প্রাইভেট কারের ভিতরে তাহার জোর পূর্বক ধর্ষণ করে । পরে ধর্ষক নিজে গাড়ী ড্রাইভিং করে ভিকটিমকে বাড়ী পৌঁছে দেয়।

ঘটনার ১০ দিন পর মামলা হওয়ার কারণে এজহারে প্রত্যক্ষ কোন স্বাক্ষী নেই। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএডিসি মোড়ের অবস্থিত খন্দকার মার্কেটের আশেপাশে কয়েকটি বহুতল বিপনী মার্কেট ও খন্দকার মার্কেটসহ এ এলাকায় মোট ১৮টি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং বাজারে রয়েছে ৪ জন নৈশ্য প্রহরী। জনবহুল এলাকা হওয়ায় এখানে রাত্র ২ টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মজীবি মানুষ চলা চলাচল করে। এ ঘটনার ব্যাপারে এলাকার বাসিন্দা হাসান আলী, রেজভী, অঞ্জুমান, আবুল হোসেন ও বাজার কমিটির সভাপতি ফরহাদ হোসেনসহ বাজার কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জানান, এখানে অনেক দোকানদার রাত্র ২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখে দোকানদারী করে। রাতে এখানে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে।

২৬ তারিখ রাতে সিসি ক্যামেরায় এমন কোন ফুটেজ পাওয়া যায়নি। খন্দকার মার্কেটসহ আশেপাশের মার্কেটের নৈশপ্রহরী মোঃ সাজাহান, আঃ ছামাদ, মোঃ মমতাজ উদ্দীন, ফজলুুল হক জানান আমরা সবাই ওইদিন এখানে ডিউটিতে ছিলাম এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় দোকানদার হামিদুর ষ্টোরের মালিক, বিল্লাল সহ অনেক দোকানদার জানান, আমরা সকাল হতে রাত্র ২টা পর্যন্ত দোকান খোলে রেখে বেচাকেনা করি। এখানে ওই তারিখে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে নাই। ঘটলে আমরা দেখতাম ও জানতাম।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পাপ্পু খন্দকারের বড় ভাই কাউন্সিলর আলম খন্দকার জানান, প্রশাসনের অনেক লোক সিসি ক্যামেরা দেখেছে এ ধরনের ঘটনার কোন ভিডিও ফুটেজ পায়নি। তিনি আরো জানান, এলাকার অধিকাংশ লোক মনে করে মামলাটি মিথ্যা। আমার ভাই দোষী হলে আমিও তার উপযুক্ত বিচার চাই। আমি ন্যায় বিচার চাই। ড্রাইভারের নিকট গাড়ীর অনেক টাকা পাপ্পু পাওনা ছিল। এ নিয়ে ঝগড়া হয় অনেকবার। সে টাকা না দেওয়ার জন্য তার স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা মামলাটি করিয়েছে। আপনারা বাদী সর্ম্পকে তথ্য নিয়ে জানুন সে কেমন ? তিনি আরো বলেন, সিসি ক্যামেরায় কোন ভিডিও ফুটেজ ধরা পড়েনি। মেইন রোডে ধর্ষণ কী করে সম্ভব? প্রত্যক্ষ কোন স্বাক্ষী নেই। আমি প্রশাসনকে সত্য উদঘাটন করার অনুরোধ করছি। যেন সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসে।

>