সোমবার , ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ , ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৭ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > পিয়াজ আমদানিতে ৬ বিকল্প খুঁজছে সরকার

পিয়াজ আমদানিতে ৬ বিকল্প খুঁজছে সরকার

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উৎপাদন বেশি হয়েছে ও দামে সস্তা এমন দেশগুলো থেকে পিয়াজ আমদানির চেষ্টা করছে সরকার। এ জন্য প্রথম পছন্দ মিয়ানমার। ভারতে পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ৬টি বিকল্প দেশে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বিকল্প দেশ হিসেবে মিয়ানমার, চীন, ভিয়েতনাম, নেদারল্যান্ডস, ইরান, তুরস্ক ও মিশর থেকে পিয়াজ আমদানির সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করেছে। কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাজারদর সংগ্রহ করেছে। সব দেশের দর যাচাই করে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি পিয়াজ মিয়ানমারে ৫০ এবং চীনে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চীন থেকে আমদানি খরচ বেশি হবে। এজন্য মিয়ানমার থেকেই পিয়াজ আমদানির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদের সভাপতিত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, পিয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী সংগঠন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পিয়াজের দাম কমানোর কৌশল নির্ধারণের জন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় জানানো হয়, মিয়ানমার ও চীনে পিয়াজের দাম কম। এ দু’টি দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করা যায়। সমস্যা হলো পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য এমনিতেই কম। এ কারণে ওই দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করতে কিছুটা সমস্যা হবে। চীনে দাম যেমন কম, তেমনি পিয়াজের উৎপাদনও ভাল হয়েছে। তবে চীন থেকে পিয়াজ আমদানি করে দেশে আনতে বেশ সময় লেগে যাবে। পিয়াজের দামের পাশাপাশি এগুলো দেশে আনতে কত সময় লাগতে পারে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেখা উচিত। এ বৈঠকে পিয়াজ আমদানি করতে গিয়ে দেশের ব্যবসায়ীরা কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়, পিয়াজের মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিদপ্তরের বাজার তদারক দল পর্যবেক্ষণ করবে। ওদিকে কিছুদিন থেকে পিয়াজের দাম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। এ জন্য করণীয় ঠিক করতে গত শনিবার ছুটির দিনে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকালের বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব বলেন, কত টাকায় পিয়াজ আনা হচ্ছে তার চেয়ে বড় বিবেচ্য হলো, কত দ্রুত সে পিয়াজ দেশে আনা যাবে। কারণ টিসিবি তো এমনিতেই কম দামে পণ্য বিক্রি করে। এ জন্য সংস্থাটিকে ভর্তুকিও দেয়া হয়। এসব করা হচ্ছে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে মিয়ানমার থেকে পিয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শেষ করেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌ-পথে পিয়াজ সরবরাহ হচ্ছে না। দু’তিন দিনের মধ্যে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পিয়াজ বাজারে সরবরাহ করা হবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, মিয়ানমার থেকে আমদানিতে ব্যাংকিং জটিলতা রয়েছে। তবে এ সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার। আমদানিনীতি অনুযায়ী এলসি ছাড়াই সরাসরি আমদানির সুযোগ রয়েছে। এতে কম পরিবহন খরচে মিয়ানমার থেকে আমদানি পরিকল্পনা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তারা। এ বিষয়ে গতকাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। টিসিবি’র হিসাবে গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশী পিয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং ভারত থেকে আমদানি হওয়া পিয়াজ ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এক সপ্তাহ আগেও এই দামের চেয়ে ২০ থেকে ২৩ টাকা কমে পিয়াজ বিক্রি হয়েছে। আর এক মাসের ব্যবধানে দেশে পিয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। ঈদের পর ভারত থেকে পিয়াজ আমদানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, দেশে পিয়াজের চাহিদা বছরে ২২ লাখ টন। আর র্কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে ১৯ লাখ টনের কিছু বেশি পিয়াজ উৎপাদিত হয়। তবে আমদানিকারকদের দাবি, দেশের পিয়াজের চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই মেটানো হয় আমদানি করা পিয়াজ দিয়ে।
ওদিকে পিয়াজের দাম নিয়ে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বিকালে সচিবালয়ে পিয়াজ আমদানিকারক, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর একথা জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, ভারতে পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশে পিয়াজের দাম বেড়েছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা ইতিমধ্যে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি তাতে পিয়াজের দাম কমে যাবে। বাণিজ্য সচিব জানান, বৈঠকে আমরা পিয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেছি। আমরা আমদানিকারকদের ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পিয়াজ আমদানির জন্য বলেছি। এনিয়ে তারা কোন সমস্যায় পড়লে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা করা হবে। সচিব জানান, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মিয়ানমার থেকে পিয়াজ আমদানির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রমজানে পিয়াজের দাম না বাড়লেও সমপ্রতি বাজারের পিয়াজের আকাশছোঁয়া দামের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব জানান, তাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে ভারতের দাম বৃদ্ধিকেই দায়ী করা হচ্ছে। তারপরও যদি কেউ অবৈধভাবে গুদামজাত করে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম এ নিয়ে কাজ করছে।

>