মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > অর্থ-বাণিজ্য > পুঁজিবাজারবান্ধব মুদ্রানীতি হচ্ছে

পুঁজিবাজারবান্ধব মুদ্রানীতি হচ্ছে

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারের মেয়াদের শেষভাগে এসে অর্থ প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ল্েয ঘোষণা করা হচ্ছে সমপ্রসারণমূলক মুদ্রানীতি। আর চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে এ মুদ্রানীতির ঘোষণা। জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য প্রণীত এ মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের জন্য নেতিবাচক কিছু কিছুই থাকছে না। বরং বেসরকারি খাত হিসেবে পুঁজিবাজারও এতে লাভবান হতে পারে। জানা গেছে, নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ১৭ শতাংশ বাড়ানোর ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে নিম্নমুখী ধারা। গত অর্থবছরের প্রথম মাস তথা জুলাই মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ছিল ২০ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের শেষভাগে এসে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। নতুন মুদ্রানীতিতে চেষ্টা থাকবে এ পরিস্থিতি বদলানোর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন মুদ্রানীতি সমপ্রসারণমূলক হবে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর ভারসাম্যমূলক চেষ্টা থাকবে। বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানবান্ধব হবে মুদ্রা নীতি। তিনি বলেন, মুদ্রানীতিতে এমন কোন উপাদান থাকবে না যা পুঁজিবাজারকে তিগ্রস্ত করতে পারে। বরং এ মুদ্রানীতি বাজারে ইতিবাটক প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে বেশ কিছুদিন ধরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে স্থবিরতা চলছে। গত মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ আগের বছরের মে মাসের চেয়ে ১১.৪৩ শতাংশ কমেছে। যদিও বিদ্যমান মুদ্রানীতিতে সাড়ে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সে ল্যমাত্রা তো অর্জিত হয়-ই নি, উল্টো প্রতি মাসেই ঋণ বিতরণ কমেছে। মূলত ঋণ চাহিদা কমে যাওয়ার কারণেই বিতরণ ল্যমাত্রা বাড়ানোর পরও তা অর্জন করা যাচ্ছে না। আমানতের বিপরীতে ঋণ ও আগামের হার (সিডিআর রেশিও) কমে যাচ্ছে। বর্তমানে সিডিআর রেশিও ৭৪। অর্থাৎ ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৭৪ টাকা বিতরণ করা হয়েছে ঋণ ও আগাম হিসেবে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকে বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি জমা রাখার পর ৮৫ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এতে ব্যাংকে উদ্বৃত্ত টাকা বেড়ে চলেছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত আছে। ঋণপ্রবাহ না বাড়াতে শুধু শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানই তিগ্রস্ত হচ্ছে না, এতে ব্যাংকিং খাতও সমস্যায় পড়ছে। কারণ ঋণের বিপরীতে পাওয়া সুদ-আয় থেকেই ব্যাংকগুলোকে আমানতকারীদের সুদ পরিশোধসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে হয়। অন্যান্য কয়েকটি খাত থেকে আয় হলেও তা সুদজনিত আয়ের তুলনায় অনেক কম। ঋণ বিতরণ না হলেও আমানতকারীদের সুদ ঠিকই পরিশোধ করে যেতে হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আয় কমে যায়।

>