বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > পেটেন্ট যুদ্ধের জন্য থ্রীডি প্রিন্টিং

পেটেন্ট যুদ্ধের জন্য থ্রীডি প্রিন্টিং

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ প্রযুক্তি জগতে পেটেন্ট যুদ্ধ এখন খুবই সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য পণ্যের মতো এবার থ্রিডি প্রিন্টারের পেটেন্ট নিয়েও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। থ্রিডি প্রিন্টিং বর্তমান প্রযুক্তিশিল্পকে নতুন ধারায় উন্নীত করবে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। তাই এর পেটেন্ট যেকোনো কোম্পানির জন্যই সোনার হরিণ হিসেবেই পরিগণিত হবে। খবর সিএনবিসির।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, যে আটটি ধারা প্রযুক্তি শিল্পকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে তার মধ্যে থ্রিডি প্রিন্টিং একটি। এ থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো বস্তুই অবিকল তৈরি করা সম্ভব। শুধু তৈরি করাই নয়, এ ধরনের বস্তু ব্যবহারের উপযোগীও হবে। সম্প্রতি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা এ ধরনের একটি থ্রিডি প্রিন্টার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি আশা করছে, মহাকাশে যেকোনো সময় প্রয়োজন মরতা যন্ত্র নির্মাণ সম্ভব হবে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে মহাকাশে বিভিন্ন যন্ত্র পাঠানোর ব্যয় হ্রাস পাবে।

এ ধরনের প্রিন্টার ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু থ্রিডি প্রিন্টার তৈরির জন্য যেকোনো কোম্পানিকে অবশ্যই পেটেন্ট করতে হবে। এর মাধ্যমে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্পূর্ণ আইনি বৈধতা পাবে এ কোম্পানিটি। দেখা যাচ্ছে যে, অনেক প্রযুক্তি কোম্পানিই এ প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু যারা প্রথম এটি ব্যবহারের উপযোগী করতে পারবে তারাই এ প্রযুক্তিটির পেটেন্ট করতে পারবে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, এ থ্রিডি প্রিন্টারকে নিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন পেটেন্ট যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

অনেকেই মনে করছেন, থ্রিডি প্রিন্টারের ব্যবহার শুরু হলে এর মাধ্যমে প্রযুক্তি শিল্পের পাশাপাশি উত্পাদন শিল্পেও বিপ্লব ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু যন্ত্রটির মাধ্যমে যেকোনো ধরনের পণ্য তৈরি করা সম্ভব হবে, তাই এর মাধ্যমে কোনো পণ্য তৈরি করতে বর্তমান পরিশ্রম বা ব্যয় উভয়ই হ্রাস পাবে। এ ধরনের সুবিধাগুলোর দিকে লক্ষ্য রেখেই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে অতি আগ্রহের বিষয় বলে উল্লেখ করছেন।

পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস অনেক সময় আগে থেকেই এ প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে পেটেন্টের আবেদন গ্রহণে ব্যস্ত রয়েছে। এদিকে গত এক দশকে এ প্রযুক্তি-সংক্রান্ত ৬ হাজার ৮০০-এর বেশি পেটেন্ট আবেদন করা হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে এ ধরনের পেটেন্ট আবেদনের পরিমাণ বছরে গড়ে ৬৮০টিতে পৌঁছেছে, যা ২০০২ সালের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ২০০২ সালে থ্রিডি প্রযুক্তি-সংক্রান্ত পেটেন্ট আবেদনের পরিমাণ ছিল ৪৮৭টি। ২০০৩ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এ প্রযুক্তি-সংক্রান্ত ৩ হাজার ৫০০ পেটেন্টের অনুমোদন দিয়েছে।

নিউইয়র্কের পেটেন্ট অফিসের অ্যাটর্নি পিটার ক্যানেলিয়াস জানান, ১৯৯০ সালে বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে ‘ডটকমের’ পেটেন্ট নিয়ে এ ধরনের একটি হুড়োহুড়ি লেগেছিল। এরপর সম্প্রতি থ্রিডি প্রিন্টারের পেটেন্ট নিয়ে আবার এত বড় ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হলো বলেও মন্তব্য করেন ক্যানেলিয়াস।

তবে বড় ধরনের কোনো প্রযুক্তি উদ্ভাবনের যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে। এ থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গৃহস্থলীর যেকোনো দ্রব্য নতুনভাবে তৈরি সম্ভব হবে। ঘরের কোনো বস্তু ভেঙে গেলে অথবা নষ্ট হয়ে গেলে এ দ্রব্য নতুনভাবে ঠিক করা বা কেনার প্রয়োজন হবে না। যেমন বর্তমানে দেখা যায়, কারো স্মার্টফোনটির কাভার ভেঙে গেলে আবার নতুন একটি কাভার কিনতে হয়। কিন্তু এ থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলেও কেউ আর নিজের ভাঙা জিনিস নিয়ে দোকানে যাবেন না। নষ্ট হয়ে যাওয়া এ জিনিসটির নকশা বা নতুন কোনো নকশা ইন্টারনেট থেকে নিয়ে থ্রিডি প্রিন্টারে সেট করে দিলেই তা হুবহু প্রিন্ট হয়ে বের হবে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকরা আত্মনির্ভরশীল হলে ভোগ্য পণ্য নির্মাতা কোম্পানিগুলোর বিক্রি কমে যাবে, যা সার্বিক বাজারে বিশাল পরিমাণে প্রভাব বিস্তার করবে

>