মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব পরিচয়ে গাজীপুর থেকে কোটি টাকা প্রতারণা

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব পরিচয়ে গাজীপুর থেকে কোটি টাকা প্রতারণা

শেয়ার করুন

মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
বিশেষ প্রতিনিধি ॥
গাজীপুর: যুগ্ম সচিব পরিচয়ে চাকরি, লোন, সরকারি প্রণোদনা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে গাজীপুরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের সংবাদ পাওয়া গেছে আশরাফ আলী খাঁন নামের এক প্রতারকের বিরুদ্ধে।

আশরাফ আলী খাঁনের পিতা মরহুম ইসমাইল হোসেন খান, মাতা মরহুমা আমেনা বেগম, বাড়ি দিনাজপুর জেলার খানসানা উপজেলার (পো: কাচিনিয়া-৫২৩০) পাঠানপাড়া (কোঁওগাও) গ্রামে। তাঁর এনআইডি নম্বর: ২৭১৬০৪৭৩৬৯৭৯২।

জানা যায়, দুই বছর পূর্বে গাজীপুরে পাড়ি জমান আশরাফ আলী খাঁন নামের এ প্রতারক। গাজীপুর শহরের রাজবাড়ী রোডের সিনা হাসপাতালের পাশে মরহুম হাসেমের বাড়ির ৩নং ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে ভাড়ায় উঠেন আশরাফ আলী খাঁন। গাজীপুরে এসে তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব পরিচয় দিয়ে থাকেন। কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব (অর্থ), কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর চেয়ারম্যান, কখনো আবার ভিআইএস সংস্থার চেয়ারম্যান।
তাছাড়াও তিনি গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে বাড়ী-জমি আছে বলে মানুষকে জানান দিয়ে আস্থার জায়গা তৈরি করেন। পরে আনোয়ার ওরফে আব্দুল কাদের, মিনা, গীতা, জামান নামে কয়েকজনকে নিয়ে তৈরি করেন প্রতারণার সিন্ডিকেট।

আনোয়ার, মিনা, গীতা, জামানদের কাজ ছিল বিভিন্ন সমস্যায় ঝুলে থাকা মানুষের সমাধান দেয়া। কারো সরকারি চাকরি, কারো ব্যাংক লোন, কারো নামি দামি ভার্সিটি, স্কুল-কলেজে ভর্তি ইত্যাদি লোকজনদের খুঁজে বের করা। পরে যার যে সমস্যা তাদের একশত পারসেন গ্যারান্টির আশ্বাস দিয়ে আশরাফ খাঁনের কাছে নিয়ে যেতো এরা। আশরাফ আলী খাঁন গাজীপুরের স্বনামধন্য নামি দামি রেষ্টুরেন্ট, কখনো বা তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যেতেন এসব মানুষদেরকে। গাজীপুরের প্রশাসনের সব্বোর্চ কর্মকর্তা জিএমপি কমিশনার, ডিসি, এসপিসহ উপর মহলের বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে সম্মান করে এমন গল্প শুনাতেন তাদেরকে।

এছাড়াও তাঁর বিভিন্ন ব্যক্তি, বিশেষ করে কাজে সাফল্য অর্জন করায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছে এমন ছবি, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে ছবি, জাগপা সভাপতি শফিউল আলমের সাথে ছবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীদের সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে মানুষদের প্রলুব্ধ করতেন আশরাফ আলী খাঁন। অনেক সময় বলতেন, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সচিব ও মন্ত্রীদের সাথে তাঁর গভীর সখ্যতা রয়েছে।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর (বুধবার) আশরাফ আলী খাঁন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের নিকট নিজেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব পরিচয় দিয়ে একজনের চাকরির সুপারিশ করতে যান। কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে নিজেদের কার্যসিদ্ধির জন্য জেলা প্রশাসকের রুমে ডুকে একজনের চাকরির সুপারিশ করেন এবং ঘুষ দিতে ইচ্ছা পোষণ করেন।
জেলা প্রশাসক এতে আশরাফ আলী খাঁনের আচরণ সন্দেহ হওয়ায় খোঁজ-খবর নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানতে পারেন, তিনি (আশরাফ আলী খাঁন) ভুয়া পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। জেলা প্রশাসক পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে আশরাফ আলী খাঁন ও তাঁর সহযোগী মুমিন নামে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ভূয়া পরিচয়ের কথা স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে যুগ্ম সচিব পরিচয়দানকারী আশরাফ আলী খাঁনকে এক বছর এবং সহযোগী মুমিনকে এক মাসের কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

পূর্বের নিউজ লিংক: https://www.jagonews24.com/country/news/536624

somoy tv: https://bit.ly/3kj7yfm

চার মাস জেল খেটে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গাজীপুরে এসে আবারও শুরু করেন পুরনো প্রতারণার ব্যবসা। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা প্রণোদনা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বিভিন্ন ইস্যুতে এ পর্যন্ত প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। যাদের কাছ টাকা নিয়েছেন, তাদের একজনেরও কোন উপকারে আসতে পারেননি তিনি। কালক্ষেপ করে কেবল আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন। আর নূতন নূতন ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এক পর্যায়ে সেবাপ্রার্থীরা বুঝতে পেরে সকলে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্যে চাপ প্রয়োগ করলে তিনি গত প্রায় তিন মাস যাবত আত্মগোপনে যান। তবে মোবাইলে সকলের সাথে কেবল টাকা ফেরতের আশ্বাসই দেন বাস্তবে কারোর টাকাই ফেরত দিচ্ছেন না তিনি।

২য় কিস্তিতে আশরাফ আলী খাঁনের প্রতারণার চমকপদ কৌশল ও ভুক্তভোগীদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হবে।

>