মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > প্রশাসনের ঈদ প্রস্তুতি সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা, মালবাহী যান নিষিদ্ধ

প্রশাসনের ঈদ প্রস্তুতি সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা, মালবাহী যান নিষিদ্ধ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন ঈদে মহাসড়ক ও নদীপথে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ ল্েয সোমবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর প্রবেশ ও বাহির পথ যানজটমুক্ত রাখা, ৫-১৪ আগস্ট সারাদেশের সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা, এ ক’দিন মহাসড়কে মালবাহী ভারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা, ফেরি সংখ্যা বাড়ানো এবং বাসটার্মিনাল ও মহাসড়কে ছিনতাই-চাঁদাবাজি ঠেকাতে সার্বণিক ভিজিল্যান্স টিম নামানোসহ আরো কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সেমিনার কে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়ে ২ ঘণ্টাব্যাপী চলে। যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, রেলওয়ে মন্ত্রী মুজিবুল হক, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদ, বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনার, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলাপ্রশাসনের প্রতিনিধি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি, হাইওয়ে পুলিশ প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হলো- ঢাকা সিটিতে প্রবেশ ও বাহির পথ যানজটমুক্ত রাখতে যানজটের স্থানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর বিশেষ টিম কাজ করবে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি তাৎণিকভাবে অপসারণে রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে, প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর রেকার নেয়া হবে। ৫-১৪ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। ঈদের আগের চারদিন এবং পরের তিন দিন মোট সাত দিন সব মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল নিষিদ্ধ। মহাসড়কে চাপ কমাতে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রামে তিনটি বিকল্প (বাইপাস) সড়ক চালু করা হবে। গাবতলী ও অন্যান্য বাসটার্মিনালগুলোতে তিনটি ভিজিল্যান্স টিম অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে কাজ করবে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি ঠেকাতে সাদা পোশাকের পুলিশ কাজ করবে। ঘাটগুলোতে ফেরি সঙ্কট থাকলে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। সারাদেশেই মহাসড়কগুলোতে মোবাইল কোর্ট থাকবে। বঙ্গবন্ধ সেতুসহ বিভিন্ন সেতুর ওপর টোলপ্লাজার সবক’টি বুথ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে।

এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সারাদেশে মহাসড়কে ৫ হাজার র‌্যাব সদস্য সক্রিয় থাকবে। ছিনতাই ও চাঁদাবাজি রোধে হাইওয়েতে নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া কোনো যাত্রীবাহী বাস থামানো যাবে না। যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান সড়কে খানাখন্দ হলে তাৎণিকভাবে মেরামত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৈঠক শেষে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী সড়ক এখন ভয়ঙ্কর ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এখানে মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।’

তিনি ােভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অতীতে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এ সড়কে ঠিকভাবে নজর দেননি। এখানে আমাদের একটি দলীয় তোরণ ছিল সেটি অপসারণ করা হয়েছে।’ সিটি করপোরেশনের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে তারা আশাপ্রদ উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা পুরোপুরি স্বস্তি দিতে না পারলেও পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারবো।’

এসময় রেলওয়ে মন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ‘ট্রেনে কালোবাজারি শতভাগ বন্ধের পদপে নিয়েছি। আমাদের সম্পদ সীমিত কন্তিু সেটা দিয়েই আন্তরিকভাবে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করেছি। সবাই যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে সড়ক, রেল বা নৌপথে কোথাও অনাকঙ্তি ঘটনা ঘটবে না।’

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, ‘ঈদে ভ্রমণ নিশ্চিন্ত করতে এ বছর আমরা শুরু থেকেই সতর্ক আছি।’ মহাসড়কের ওপর স্থাপিত বাজারগুলোর সব উচ্ছেদ করা না গেলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

>