বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > রাজনীতি > প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠে বিএনপি

প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠে বিএনপি

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি।

জানা গেছে, সারাদেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলায় সফর করার জন্য সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে ৫৬টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম জেলায় জেলায় সফর করে দলীয় কোন্দল নিরসন ও তৃণমূলে দলকে শক্তিশালী এবং তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে জনমত গঠনে কাজ করবে। পাশাপাশি সেই জেলায় জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী, তৃণমূলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং কৌশলগত নানা দিক বিবেচনায় প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভবনা এসব জরিপ করা হবে। মূলত আগামী আন্দোলন ও নির্বাচনকে ঘিরে সামগ্রিক বিষয়ে তৃণমূল থেকে সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে এসব জেলা সফরে।

জেলার পর্যায় থেকে সংগৃহীত সার্বিক চিত্র দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে পেশ করা হবে। এরপর চেয়ারপারসন প্রার্থী মনোনয়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন- এমনটাই জানিয়েছেন সাংগঠনিক টিমের একাধিক নেতা।

দলের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জনমত আরো জোরালো এবং তৃণমূলে সংগঠনকে গোছানোর জন্য ৫৬টি সাংগঠনিক টিম গঠন করেছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্মমহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকদের সমন্বয়ে এসব টিম গঠন করা হয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট রাতে টিমের দলনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলনেতা জানান, আগামী ৩ মে আগস্টের মধ্যে ৭৫টি সাংগঠনিক জেলায় সফর শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নেতারা জেলায় সফর করে সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিয় ও কর্মীসভা করে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন তারা।

এছাড়া সেসব জেলায় বিএনপি ও জোটের জনপ্রিয়তা এখন কোন পর্যায়ে, নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু তা তৃণমূল নেতাদের মতামতের ওপর জোর দিয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেই খসড়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দলীয় চেয়ারপারসন আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা চলানোর সবুজ সংকেত দেবেন।

দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে যাতে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে ঝামেলা করতে না হয় সেজন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সাংগঠনিক টিমের প্রধান চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলায় জনসভা করতে পারবেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারিখ নির্ধারণ করে নিতে হবে। এছাড়া সফরকালে বিএনপি ছাড়াও স্থানীয় ১৮ দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন টিমের প্রধানরা।

এতা গেলো বিএনপির এককভাবে দলীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনা। ১৮ দলীয় জোটের ব্যানারেও সারাদেশে ব্যাপকভাবে জনসংযোগের কর্মসূচি দিয়েছে এ প্রধান বিরোধী দল। এ লক্ষ্যে ছয়টি সমাবেশ করবে তারা। এগুলো হলো- ৮ সেপ্টেম্বর নরসিংদী, ১৫ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী, ২২ সেপ্টেম্বর খুলনা, ২৯ সেপ্টেম্বর বরিশাল, ৫ অক্টোবর সিলেটে। এসব সমাবেশে প্রধান অতিথী থাকবেন জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এসব সমাবেশ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। র্অথাৎ এসব সমাবেশ শুরু আগেই ওইসব টিমের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জোট প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তৃণমূলে দুর্বলতা কাটিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এই সাংগঠনিক সফর। ১৯ আগস্টের বৈঠকে ম্যাডাম সেই দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।’

প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। এখনো নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে আশঙ্কা কাটেনি। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট তাতে অংশ নেবে। যোগ্য প্রার্থীরা এ নির্বাচনে অংশ নেবেন। কারা প্রার্থী হবেন যাচাই বাছাই করে দলীয় ফোরামে তা চ’ড়ান্ত করা হবে।’

সফরের বিষয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুবিধামতো সময়ে সফর শুরু হবে। তবে ৩১ আগস্টের মধ্যেই আমাদের সাংগঠনিক সফর শেষ করতে হবে।’ তবে সফরের রিপোর্ট পেশ করার সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ৫৬ গ্রুপের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকা মহানগর, স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার দিনাজপুর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ রংপুর, নজরুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী জেলা ও মহানগর, তরিকুল ইসলাম যশোর, মির্জা আব্বাস বরিশাল মহানগর ও বরিশাল উত্তর, ময়নমসিংহ উত্তর ও দক্ষিণে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নারায়ণগঞ্জে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মাদারীপুর ও শরিয়তপুর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সিলেট জেলা ও মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণে এমকে আনোয়ার, ড. আব্দুল মঈন খান ফরিদপুর, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা কিশোরগঞ্জ ও ঝিনাইদহ, বেগম সেলিমা রহমান নেত্রকোনা, আব্দুল্লাহ আল নোমান ঢাকা জেলা, নোয়াখালী ও নরসিংদী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ রাজবাড়ী, শমসের মবিন চৌধুরী হবিগঞ্জ, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কুমিল্লা দক্ষিণ, এম মোর্শেদ খান কক্সবাজার, আলতাফ হোসেন চৌধুরী ভোলা, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পিরোজপুর, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান নড়াইল, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন বরগুনা, ড. ওসমান ফারুক টাঙ্গাইল, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ফেনী, মুশফিকুর রহমান লহ্মীপুর, আব্দুল আউয়াল মিন্টু রাঙামাটি, ইকবাল হাসান মাহামুদ টুকু বগুড়া ও পাবনা, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শামসুজ্জামান দুদু মেহেরপুর, ফজলুর রহমান পটল সৈয়দপুর, যুগ্মমহাসচিব আমান উল্লাহ আমান মাগুরা ও বরিশাল দক্ষিণ, মিজানুর রহমান মিনু খুলনা জেলা ও মহানগর, মো. শাহজাহান মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ, বরকত উল্লাহ বুলু কুমিল্লা উত্তর, সালাহ উদ্দিন আহমেদ চাঁদপুর, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার বান্দরবান, আসাদুল হাবিব দুলু কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা, মশিউর রহমান কুষ্টিয়া, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী, ফজলুল হক মিলন শেরপুর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন সাতক্ষীরা, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক জামালপুর, এছাড়া কাজী আসাদুজ্জামান গোপালগঞ্জ, আবুল খায়ের ভূইয়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল খাগড়াছড়ি, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী লালমনিরহাট, অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ জয়পুরহাট, মো. হারুন অর রশিদ নওগাঁ, নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাট এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নাটোর।

>