রবিবার , ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রাণ দিতে হলো স্বর্ণাকে

প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রাণ দিতে হলো স্বর্ণাকে

শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ ॥ প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বখাটের হাতে গুরুতর আহত মেধাবী কলেজছাত্রী স্বর্ণা ৫ দিন পর মারা গেছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত ১লা সেপ্টেম্বর বখাটে রাজুর ইটের আঘাতে স্বর্ণার মাথায় মারাত্মক জখম হয়। নাক-মুখে ইট দিয়ে আঘাত করলে নাকের হাড় ভেঙে যায়। স্বর্ণার মৃত্যুর খবরে আনন্দ মোহন কলেজসহ শহরের সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল রাত ৯টায় ময়মনসিংহ শহরের নওমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে আকুয়া মাদরাসা কোয়ার্টার গোরস্থানে স্বর্ণার লাশ দাফন করা হয়। পারিবারিক সূত্র জানায়, সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ও ময়মনসিংহ শহরের সারদা ঘোষ রোডের আবদুস সালামের পূত্র আবদুস সামাদ রাজু (২৪) বাউন্ডারি রোড এলাকার নওমলের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আতাউর রহমান খানের কন্যা ও একই কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী আফসারী আক্তার স্বর্ণা (২১)-কে প্রেম নিবেদন করে।

এতে সাড়া না দেয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। সূত্র জানায়, গত ১লা সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন স্বর্ণা। রাজু ফুসলিয়ে স্বর্ণাকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেনের একজন মালী স্বর্ণার ব্যাগে থাকা ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করে তার পিতা আতাউর রহমানের মোবাইলে ফোন করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে বলেন। বাকৃবি থেকে স্বর্ণা হাসপাতালে আসার আগেই আতাউর ও স্বজনরা হাসপাতালে পৌঁছে। পরে জানতে পারে রাজু বোটানিক্যাল গার্ডেনে স্বর্ণার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে মোবাইলটি নিয়ে যায়।

পরে ইট দিয়ে স্বর্ণার মাথায় ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। আশপাশের লোকজন স্বর্ণাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাকৃবি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে স্বর্ণাকে ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাকায় ইবনেসিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ২রা সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পাষণ্ড রাজুর ইটের আঘাতে স্বর্ণার মাথায় মারাত্মক যখম হয় এবং নাক-মুখে ইট দিয়ে আঘাত করলে নাকের হাড় ভেঙে যায়। গতকাল দুপুর ৩টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে স্বর্ণার লাশের ময়না তদন্ত শেষে শহরের নওমহলের বাসায় স্বর্ণার লাশ নিয়ে যায়।

এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। কান্নায় ভারি হয়ে উঠে পরিবেশ। পরে রাত ৯টায় নওমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামাজে জানাজা শেষে আকুয়া চৌরঙ্গীর মোড় গোরস্থানে স্বর্ণার লাশ দাফন করা হয়। ঘটনার পর থেকে আবদুস সালামের পুত্র আবদুস সামাদ রাজু বাসায় তালা লাগিয়ে সপরিবার পলাতক রয়েছে। স্বর্ণার কলেজ আনন্দ মোহন কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফজালুর রহমান ভূঁইয়া জানান, স্বর্ণার মৃত্যুতে আনন্দ মোহন কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খুবই মর্মাহত ও শোকাহত। তারা অবিলম্বে খুনের জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান।

>