শনিবার , ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৯শে রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > ফের ধর্মঘটে যাচ্ছেন সিএনজি মালিকরা

ফের ধর্মঘটে যাচ্ছেন সিএনজি মালিকরা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যে কোনো সময় সারা দেশে আবারও লাগাতার ধর্মঘটে যাবে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সিএনজি (রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস) স্টেশনগুলো তদারকি করতে গঠিত কারিগরি কমিটিতে প্রত্যাহারকৃত এবং বিতর্কিত ব্যক্তিকে একতরফাভাবে অন্তর্ভুক্ত করায় সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন ও পেট্রোবাংলার বিরোধ চরমে উঠেছে। এরই মধ্যে সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের প থেকে পেট্রোবাংলাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে দেশের সিএনজি স্টেশনগুলোতে গঠিত কারিগরি কমিটি কোনো ভিজিটে গেলে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হবে না। এ অবস্থায় কমিটি প্রাথমিকভাবে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১১টি সিএনজি স্টেশন ভিজিট করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকারি একটি সিএনজি স্টেশন ভিজিট করতে পেরেছে।
কারিগরি কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তকরণ নিয়ে সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বিরোধ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট হচ্ছে আদালতের মতো। ফলে তারা আদালতের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকবে কেন।
কারিগরি কমিটিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে অন্তর্ভুক্ত কেন করা হল প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি এ খাত সম্পর্কে খুব ভালো বোঝেন। তাহলে কেন থাকবেন না। আর পেট্রোবাংলা কাকে কমিটিতে রাখবে আর রাখবে না তা তার নিজস্ব বিষয়। এজন্য ওরা (সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন) না থাকলে না থাকবে। চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এ কমিটিই বহাল থাকবে। তারা এলে আসবে। নইলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই সিএনজি খাতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন বলেন, সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সরকারের বিদ্যমান বিরোধ পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানেরই সৃষ্টি। যে ম্যাজিস্ট্রেটের কারণে আমরা সারা দেশে ধর্মঘট ডেকেছি, সেই ম্যাজিস্ট্রেট টেকনিক্যাল লোক না হলেও শুধু চেয়ারম্যানের আগ্রহে তাকে টেকনিক্যাল কমিটিতে রাখা হয়। সভাপতি আরও বলেন, এ নিয়ে আমি নিজেও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কোনো কথা শোনেন না। চেয়ারম্যানের এ স্বেচ্ছাচারিতা মানা হবে না।
জ্বালানি সচিবকে বিষয়টি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে যদি এখনই সরকারের প থেকে কোনো পদপে নেয়া না হয় তাহলে আমরা আবারও ধর্মঘটে যাব। ধর্মঘটে যাওয়ার জন্য সদস্যদের প থেকে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আর অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে চেয়ারম্যানই দায়ী থাকবেন। পেট্রোবাংলা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সিএনজি স্টেশনগুলোতে বিতর্কিত ম্যাজিস্ট্রেট রাজা মোহাম্মদ আবদুল হাই নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে স্টেশনগুলোর মালিকদের হয়রানি করতেন। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটের কাজের পরিধির ভেতর নেই এমন কাজও তিনি অন্যায়ভাবে করতেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩ জুলাই সিলেটে একটি সিএনজি স্টেশনে পেট্রোবাংলার ম্যাজিস্ট্রেট রাজা মোহাম্মদ আবদুল হাই অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তিনি সিএনজি স্টেশনের মিটারে কোনো ধরনের সমস্যা না থাকলেও মিটারটি জব্দ করেন। পাশাপাশি ওই সিএনজি স্টেশনের মালিকসহ সব কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
এ পরিস্থিতিতে ওইদিনই সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট শাখা ম্যাজিস্ট্রেটের অনৈতিক কর্মকা- ও হয়রানির বিরুদ্ধে আঞ্চলিকভাবে ধর্মঘটের আহ্বান করে। একইদিন সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটি জরুরি বৈঠক করে ৪ জুলাই সারা দেশে সিএনজি ধর্মঘটের ডাক দেয়।
জানা গেছে, এর আগে ২৬ মে পেট্রোবাংলার সঙ্গে সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এক বৈঠকে ম্যাজিস্ট্রেটের হয়রানি বন্ধ, গ্রাহক পর্যায়ে পরিমাপে কম সরবরাহ, অবৈধভাবে সংযোগ, মিটার টেম্পারিং করে গ্যাস চুরি করা হচ্ছে কিনা এ নিয়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে। কমিটিতে পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, তিতাস গ্যাস, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনস (বিএসটিআই) ও বাংলাদেশ বিস্ফোরক অধিদফতরের কর্মকর্তা রয়েছেন। এসময় পেট্রোবাংলা থেকে কোনো সিএনজি স্টেশনে ম্যাজিস্ট্রেট যাবে না বলেও নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। সূত্র জানায়, সিদ্ধান্তের পরও ম্যাজিস্ট্রেটের হয়রানি আরও বেড়ে যাওয়ার কারণে সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু এ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান পুনরায় নতুন সমস্যা তৈরি করছে। বিষয়টি নিয়ে ৭ জুলাই পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান স্বারিত এক অফিস আদেশে কারিগরি কমিটি দ্বারা সিএনজি স্টেশনগুলো তদারকি করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ৯ জুলাই প্রকাশ করা ৩ জুলাইয়ের এক সার্কুলারে কারিগরি কমিটিতে ম্যাজিস্ট্রেট রাজা মোহাম্মদ আবদুল হাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পে কেন্দ্রীয় সভাপতি বিষয়টি নিয়ে ১০ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত পেট্রোবাংলার সঙ্গে আলোচনা করে কোনো ফলাফল না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি বৈঠকে তদারকির জন্য গঠিত কারিগরি কমিটিকে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমনকি বিষয়টি জানিয়ে ২১ জুলাই জ্বালানি সচিবকে চিঠি দেয় সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন।
সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্তের কারণে ২০ জুলাই পেট্রোবাংলা সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১১টি সিএনজি স্টেশন ভিজিটের সিদ্ধান্ত নিলেও রাজধানীর জোয়াসাহারায় অবস্থিত সরকারি একটি সিএনজি স্টেশন ছাড়া কোনো স্টেশনেই যেতে পারেননি কমিটির সদস্যরা। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে রমজানের মধ্যে বা পরে যে কোনো সময় লাগাতার ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন।

>