বুধবার , ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > ফেলানী হত্যায় অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান খালাস

ফেলানী হত্যায় অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান খালাস

শেয়ার করুন

কলকাতা প্রতিনিধি ॥ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পেরুনোর সময়ে বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী খাতুনকে হত্যার দায় থেকে অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেয়া হয়েছে। বিএসএফ’র জেনারেল সিকিওরিটি ফোর্সেস কোর্ট বা জিএসএফসিতে এই বিচারের রায়ে অভিযুক্ত জওয়ানকে সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে বলে বিএসএফ’র বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবারই এই বিচার কার্য শেষ হয়েছে। বিচারের এই রায় অনুমোদনের জন্য বিএসএফ’র মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিএসএফ সূত্রে বলা হয়েছে, মহাপরিচালকের অনুমোদনের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফ এই রায়ের কথা ঘোষণা করবে। যেভাবে বিএসএফ জওয়ানকে নির্দোষ জানিয়ে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে তাতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিস্ময় প্রকাশ করেছে। এই রায়ের ফলে হতাশ বাংলাদেশও। বিজিবি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, ফেলানী হত্যার অভিযুক্তকে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হলে তা আগামী দিনে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। কিন্তু বিএসএফ আদালতের রায়ে অভিযুক্ত জওয়ানকেই আড়াল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ই আগস্ট থেকে কোচবিহারের সোনারিতে বিএসএফ’র ১৮১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এই বিচার শুরু হয়েছিল। বিএসএফ’র গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি (কমিউনিকেশন) সিপি ত্রিবেদির নেতৃত্বে ৫ জন বিচারক ২০ দিন ধরে এই বিচারকার্য পরিচালনা করেন। বিচারের একপর্যায়ে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আবদুল হানিফের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ফেলানীর বাবা ফেলানীকে চোখের সামনে দেখা মেয়ের মৃত্যুর বিবরণ দিয়েছিলেন আদালতে। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন। অনেক টালবাহানার পর বাংলাদেশের চাপের মুখে গত ২০১২ সালের ১৮ই অক্টোবর বিএসএফ এই কোর্ট গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ জারি করেছিল। ২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি দিনাজপুরের ফুলবাড়ি সীমান্তে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে নিজের দেশে যাচ্ছিলেন ফেলানী। কাঁটাতারের বেড়ায় বাঁশের মই লাগিয়ে তার বাবা আগেই পেরিয়ে গিয়েছিলেন সীমান্ত। কিন্তু ফেলানী যখন দুটি বেড়ার ওপরে আড়াআড়ি রাখা মইতে কিছুটা চড়ে যান, তখনই তার জামা কাঁটায় আটকে যায়। আর সেই সময়েই তার ইনসাস রাইফেল থেকে গুলি চালান অভিযুক্ত বিএসএফ কনস্টেবল অমিয় ঘোষ। ঘটনাস্থলে দীর্ঘ রক্তক্ষরণের ফলে মারা যান কিশোরী ফেলানী। বেড়ার ওপরে দীর্ঘ সময় ফেলানীর লাশ ঝুলে ছিল। এই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রবল প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। বিজেবির পক্ষ থেকে বিএসএফ’র কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদে সরব হয়েছিল। বিএসএফও অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযুক্ত হওয়ার পরই অমিয় ঘোষকে কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করেছিল। কিন্তু সেই বিচারের রায় যে এমনভাবে অভিযুক্তের পক্ষে যাবে তা কেউ ভাবতেই পারেনি।

>