মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > বকেয়া বেতন উত্সব ভাতা বাড়ানোর দাবি : গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ : গার্মেন্টে আগুন ভাংচুর

বকেয়া বেতন উত্সব ভাতা বাড়ানোর দাবি : গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ : গার্মেন্টে আগুন ভাংচুর

শেয়ার করুন

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি ॥ বেতন, বকেয়া ওভারটাইম বিল ও ৬০ ভাগ উত্সব ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি এবং বোনাস কম দেয়ার প্রতিবাদে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি গার্মেন্টে আগুন দিয়েছে বিুব্ধ শ্রমিকরা। এর আগে শ্রমিকরা গার্মেন্টে ভাংচুর ও কর্মকর্তাদের মারধর করে। এ সময় পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিপে করলে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিপে করে। এতে ক’জন পুলিশ সদস্য ও শ্রমিক আহত হন।
উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার লিবাস টেক্সটাইল নামের গার্মেন্টে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগে গার্মেন্টের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, তৈরি পোশাক ও সুতা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
বিুব্ধ শ্রমিকরা জানান, উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার লিবাস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের ঈদ উপলে প্রতিবারের মতো এবারও মূল বেতনের শতকরা ৬০ ভাগ হারে উত্সব ভাতা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দেয়ার সময় কারখানা কর্তৃপ শতকরা ২০ ভাগ হারে শ্রমিকদের উত্সব ভাতা প্রদান করে—যা প্রতিবারের তুলনায় কম। এছাড়াও ঈদের ছুটি বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে কারখানা কর্তৃপ এরই মধ্যে শ্রমিকদের দিয়ে বন্ধের দিনেও অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেয়। কিন্তু ওই কাজের ওপর ঈদের ছুটিও দেয়া হবে না—এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়।
শিল্প পুলিশের এসআই শাহ আলম জানান, ঈদ বোনাস কম দেয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসে কর্মবিরতি ও বিােভ শুরু করে। তারা কারখানার প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপরে কাছে শতকরা ৬০ ভাগ উত্সব ভাতা প্রদান, ঈদের ছুটি বৃদ্ধি, শ্রমিকদের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩ মাসের বকেয়া ওভারটাইম বিল এবং জুলাই মাসের বেতন পরিশোধের জন্য দাবি জানান। কিন্তু কর্তৃপ এতে সাড়া না দিলে শ্রমিকরা বিুব্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে কারখানার বিভিন্ন মালামাল ব্যাপক ভাংচুর করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর শওকত কবির ও সৈয়দ মান্নান আলী জানান, পুলিশ কারখানার গেটে পৌঁছলেও গেটে তালা এবং শ্রমিকদের বাধার কারণে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। তারা কারখানার ভেতর কাউকেই প্রবেশ করতে দেয়নি। শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতা ও আলোচনার জন্য কারখানার ক’জন কর্মকর্তাকে ভেতরে পাঠালে শ্রমিকরা তাদেরও মারধর করে গুরুতর আহত করে। তারা পুলিশকে ল্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে পুলিশের বেশ ক’জন সদস্য আহত হন। এক পর্যায়ে বেলা ২টার দিকে উত্তেজিত শ্রমিকরা ৫ তলা ভবনের ওই কারখানার নিচতলার স্যাম্পল সেকশনে এবং একই তলার কয়েক স্থানে কাপড় জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দিয়ে কারখানা থেকে পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ গেট ভেঙে ও দেয়াল টপকে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় শ্রমিকরা পুলিশের ওপর চড়াও হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২১ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, কারখানায় আগুনের লেলিহান শিখা ওই তলার নিট ফেব্রিক্সের গুদামসহ বিভিন্ন মালামালে ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আগুনের সংবাদ পেয়ে গাজীপুর সদর, টঙ্গী, কালিয়াকৈর ও সাভার ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সম হয়। আগুনে রফতানির জন্য তৈরি পোশাক, কাপড় ও সুতাসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। তবে তাত্ণিকভাবে য়তির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় চতুর্থ তলায় ১৫-১৬ শ্রমিক আটকা পড়লেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কারখানার নির্বাহী পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) এমএ মান্নান জানান, শ্রমিকদের দাবি অযৌক্তিক। তবুও তাদের সব দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও তারা লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

>