বৃহস্পতিবার , ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ , ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১০ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > বছরে খাদ্য অপচয়ে বৈশ্বিক ক্ষতি ৭৫০ বিলিয়ন ডলার

বছরে খাদ্য অপচয়ে বৈশ্বিক ক্ষতি ৭৫০ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে অপচয় হয়। এতে বছরে ক্ষতি হয় ৭৫০ বিলিয়ন ডলার। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর এএফপির।

জাতিসংঘের রোমভিত্তিক সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি বছর ১০৩ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়। সবচেয়ে বেশি খাবার নষ্ট হয় চীনসহ এশিয়ার শিল্পোন্নত দেশগুলোয়। এসব দেশে উৎপাদন পর্যায়ে বেশি খাদ্য নষ্ট হয়। অন্যদিকে ভোক্তাদের কাছে খাবার বেশি নষ্ট হয় উন্নত দেশগুলোয়।

এফএওর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, উচ্চ আয়ের দেশগুলোয় খাদ্য অপচয় হয় ভোগের সময়। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় হয় উৎপাদন ধাপেই। এছাড়া অপচয় হওয়া খাদ্য উৎপাদনে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদেরও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে। প্রতি বছর অপচয় হওয়া খাদ্য উৎপাদনে রাশিয়ার ভলগা নদীর বার্ষিক প্রবাহের সমান পানি ব্যবহার করা হয়। আর বায়ুমণ্ডলে ৩৩০ কোটি টন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হয়।

চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার শিল্পোন্নত দেশগুলোয় জনপ্রতি ১০০ কেজির মতো সবজি অপচয় হয়। এছাড়া এখানে বছরে জনপ্রতি ধানসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য অপচয় হয় ৮০ কেজির মতো। পরোক্ষভাবে হলেও ধান উৎপাদনে প্রচুর কার্বন নিঃসরণ হয়। অন্যদিকে এশিয়ায় চাষ, ফসল তোলা ও সংরক্ষণের সময় প্রচুর সবজি নষ্ট হয়।

খাদ্য অপচয় ও পরিবেশ বিনষ্টে দায়ী অন্যদের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মাংস উৎপাদনশিল্প এলাকাও রয়েছে। এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপে প্রচুর ফল অপচয়ও উল্লেখযোগ্য। উন্নত বিশ্বের বাজারগুলোয় ভোক্তারা অবহেলা, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া কিংবা অতিক্রয়ের প্রবণতার কারণে প্রচুর খাবার নষ্ট করে।

এফএও মহাপরিচালক হোসে গ্রাজিয়ানো দ্য সিলভা বলেন, বর্তমান বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশই নষ্ট হয়, যা আর্থিক মূল্যে সুইজারল্যান্ডের জিডিপির সমান।

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বে এখনো প্রতিদিন ৮৭ কোটি মানুষ ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যায়। আমাদের উৎপাদিত খাদ্যের তিন ভাগের এক ভাগই বিভিন্ন অপচর্চার কারণে নষ্ট হতে দেয়া যাবে না।’

জাতিসংঘের খাদ্যবিষয়ক সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে আরো বলে, বিশ্বের আবাদি জমির প্রায় ৩০ শতাংশই ব্যবহার হচ্ছে শেষ পর্যন্ত খাওয়া হয় না এমন খাদ্য উৎপাদনে।

এদিকে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) প্রধান অ্যাসিম স্টেইনার বিষয়টিকে ‘বিচলিত হওয়ার মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে স্টেইনার বলেন, ‘আমরা হয়তো এ অপচয়ের সব প্রভাব তুলে আনতে পারিনি। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মকে নানাভাবে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তা অবশ্যই বহুগুণ বেশি হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘৩৭ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বে আরো ২০০ কোটি মানুষ বাড়বে। ভবিষ্যতে এ গ্রহে আমাদের খাবার আসবে কোথা থেকে? খাদ্য অপচয় বন্ধ হলে ক্ষুধা দূরীকরণে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব।’ সবাইকে তিনি নিজ উদ্যোগে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

এক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উন্নত দেশগুলো আকারে অসুন্দর হলে সেসব ফল ও সবজি কেনা বন্ধ করে দিচ্ছে। এছাড়া মেয়াদের মধ্যে বিক্রি না হলে এসব দেশে ফেলে দেয়া হচ্ছে প্রচুর সবজি। উন্মুক্তভাবে ফল ও সবজি পচে বাতাসে প্রচুর মিথেন ছড়ায়, যা গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম।

>