বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > বাংলাদেশের বাজার বোঝাই চোরাচালানের সোনায়

বাংলাদেশের বাজার বোঝাই চোরাচালানের সোনায়

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে রোববার আবারও অবৈধভাবে আসা সোনার চালান আটক করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গত দু’মাসে অন্তত চারটি চালান আটক করা হল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সম্প্রতি সোনা চোরাচালানের হার কিছুটা বেড়েছে এবং সেই সাথে এদের ধরার তৎপরতাও আগের তুলনায় বেড়েছে।

তবে এসব সোনা দেশীয় বাজারের সাথে সাথে পার্শ্ববর্তী দেশে চালানের একটা রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তারা তথ্য পাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত বিমানবন্দরে রোববার সকালে চারটি সোনার বার ও ৬৯টি সোনার চেইন আটক করে বন্দরের শুল্ক বিভাগ।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বা এপিবিএন এর অধিনায়ক আবদুল্লাহ আরিফ বলছিলেন, সোনা চোরাচালানের হার আগের থেকে কিছুটা বেড়েছে। এবং সেটা বাংলাদেশ হয়ে অন্যান্য দেশে পাচার হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

“আগের থেকে চোরাচালান কিছুটা বেড়েছে। তবে সেটা যে শুধু দেশেই ব্যবহার করা হচ্ছে তাই নয়। বেশির ভাগ সোনা আসছে দুবাই থেকে। আমরা তথ্য পাচ্ছি এই সোনা পার্শ্ববর্তী দেশে চালানের একটা রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে”।

সোনার সবচেয়ে বড় চালানটি ধরা পরে গত জুলাই মাসে ঢাকার শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

নেপাল থেকে আসা বিমানের একটি ফ্লাইটে ১২৪ কেজি সোনা ধরা পরে যার আনুমানিক মূল্য ছিল ৫৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ যেসব সোনা ব্যবসায়ীরা রয়েছেন তারা বলছেন, তাদের সোনার উৎস মূলত দুটি। ক্রেতাদের ব্যবহৃত সোনা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে আনা সোনা।

তবে সেক্ষেত্রে খুব কম পরিমানই আমদানি করা হয় বলে জানাচ্ছিলেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ।

তিনি বলেন, “সোনা আমদানির ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় সেটা তাদের জন্য অলাভজনক ও বেশ জটিল যে কারণে ব্যবসায়ীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন”।

এদিকে গত দুই অর্থ বছরে সোনা আমদানি বাবদ কোন আমদানি শুল্ক সরকার পায়নি বলে জানান ঢাকা কাস্টমস হাউজের শুল্ক কমিশনার জাকিয়া সুলতানা।

বাংলাদেশে সোনার গয়নার দোকান রয়েছে ১১-১২ হাজার এবং এসব দোকান থেকে প্রতিদিন সোনার কেনাবেচা হয় প্রায় ২৫ কোটি টাকার মত।

এপিবিএন-এর অধিনায়ক মি. আরিফ বলছিলেন দেশের এই বিপুল পরিমাণ চাহিদা পূরণে চোরাচালানের সোনা ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে এখন এই চোরাচালানকারীদের ধরতে তারা আগের থেকে তৎপর বলে তিনি জানান।

“এপিবিএন এর যে গোয়েন্দা বিভাগ রয়েছে তাদেরকে আরও চৌকশ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগে যারা রয়েছেন তাদের সাথে সমন্বয় করার ফলে গত কয়েকটা চালান সফল ভাবে ধরা সম্ভব হয়েছে”।

তবে এই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন চোরাচালানের এ ঘটনা গুলো ধরা পরলেও অনেক ক্ষেত্রেই মামলা না হওয়া বা পরবর্তীতে যথাযথা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

>