মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > বাঙালির মানবিকতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত

বাঙালির মানবিকতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত

শেয়ার করুন

লন্ডন করেসপন্ডেন্ট ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এমন এক অভাগা জাতি, যাদের মানবিক গুণাবলীকেও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা হয়। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি মোকাবেলায় সাধারণ মানুষ যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সবার কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে। দু:খজনক হলেও সত্য যে, দলীয় হীন রাজনৈতিক স্বার্থে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত বাঙালির এ মানবিকতাকেও আজ বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় কেন্দ্রীয় লন্ডনের হোটেল হিল্টন অন পার্ক লেইনে সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্যে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ২৫ হাজার পাউন্ডের চেক হস্তান্তর করতে গেলে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

চেক গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ, উপদেষ্টামণ্ডলীর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সামসুদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাসগুপ্ত, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জালাল উদ্দিন, এম এ রহিম, সহ সাধারণ সম্পাদক মারুফ চৌধুরী, নঈমুদ্দিন রিয়াজ, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, আফসার খান সাদেক ও ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলামসহ প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার সমপরিমান ২৫ হাজার পাউন্ডের এই চেক হস্তান্তর করেন।

চেক গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার উদ্ধার তৎপরতায় বাঙালি যে মানবিকতাকে কতোটুকু হৃদয়ে ধারণ করে তাও প্রমাণিত হয়েছে। সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সেনা বাহিনীর নেতৃত্বে এ উদ্ধার তৎপরতায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্ব বিবেককেই আলোড়িত করেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি দু:খ করে বলেন, এ উদ্ধার তৎপরতায় সাধারণ মানুষ ও সেনাবাহিনী যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হলেও হীন রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো কোনো গোষ্ঠি বাঙালির এ মানবিকতাকেও আজ বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছেন। এই অপচেষ্টা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে অপমান করারই সামিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তার সাহায্য তহবিলে ২৫ হাজার পাউন্ডের চেক দান করায় প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি দুর্যোগে প্রবাসীরা ধারাবাহিকভাবেই অবদান রেখে আসছেন। রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্যে এই ২৫ হাজার পাউন্ডের চেক হস্তান্তর সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। দেশের দুর্যোগ-দু:সময়ে প্রবাসীদের এই পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামগ্রিক ইতিহাসের অংশ হয়েই থাকবে- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশে বিনিয়োগ করার জন্যে প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নষ্ট করে বিদেশি বিনিয়োগ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধী দল। প্রধান বিরোধী দলের সহযোগিতায় যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে হরতালের পর হরতাল দিয়ে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করার মিশনে নেমেছে কতিপয় সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ সংগঠন। কিন্তু তাতে লাভ হবে না। ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতির চির অবসানের লক্ষ্যেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের মতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ও কার্যকর হবে ইনশাল্লাহ।

দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহবান জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপবাদের নিচে চাপা দেওয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে। ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিরোধী দল। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে মুসলমানদের পবিত্র স্থান কাবা শরীফকেও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা হয়। কাবা শরীফের গিলাফ বদলানোর ছবিকে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির সমাবেশ হিসেবে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে।

শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়ে ‘ইসলাম রক্ষার’ আন্দোলন করছে যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল জামায়াত। আর বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করে তাদের এই আন্দোলনে শরিক করার চেষ্টা করছে দেশের শ্রদ্ধেয় আলেম-ওলামাদের একটি অংশকে।

বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কষ্টার্জিত গণতন্ত্রকে আর আমরা ঝুঁকিপূর্ণ করতে চাই না। অনেক হয়েছে, সংবিধানের বাইরে আর কিছু নয়।

তিনি বলেন, রাজনীতিকে সংসদকেন্দ্রিক করতে সম্ভাব্য সব চেষ্টাই অব্যাহত রেখেছে তার সরকার। ব্রিটিশ ওয়েস্ট মিনিস্টার স্টাইলের সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চা করতে চায় বাংলাদেশ। এ সিস্টেম অব্যাহত রেখেই প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকার পরিবর্তন হবে, এটিই গণতান্ত্রিক সভ্যতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গণতন্ত্রের জন্যে কোনো সম্মানজনক পন্থা নয়, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমাদের সবাইকে এটি বুঝতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশনই পারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে। বর্তমান সরকার এ ধরনেরই একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্চ কমিটি করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই এই নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এমন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন আর কোনো সরকার উপহার দিতে পারেনি জাতিকে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় এ নির্বাচন কমিশিনের অধীনেই স্থানীয় সরকারসহ প্রায় ৬ হাজার সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্ব সাম্প্রতিক সম্পন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু প্রক্রিয়া মেনে নিয়েই আমাদের রাজনীতি করতে হবে, এটি সবারই বোঝা উচিত।

বিরোধী দলকে সংলাপের প্রস্তাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সংলাপ প্রস্তাবের উত্তরে বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছ থেকে আমরা পেলাম ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম। এ আল্টিমেটামের মধ্যেই রাজধানীতে চালানো হয় ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম। সংলাপ প্রস্তাবের বিনিময়ে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম অসাংবিধানিক পন্থাকেই উৎসাহিত করে। এ পন্থা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যে বিপদজনক, এমনটাই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের চেক হস্তান্তর ছাড়াও শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন, ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ, যুক্তরাজ্য যুবলীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের অপপ্রচার রুখতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের খবর প্রবাসীদের কাছে পৌছে দিতে পরামর্শ দেন দলীয় নেতাকর্মীদের।

>