বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > বিজেপি কোন কথা দিলো না

বিজেপি কোন কথা দিলো না

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বরাবরই পজেটিভ। এবারও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাাতে তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারত সফরে যাওয়া ডা. দীপুমনিকে বিরোধী বিজেপি’র শীর্ষ  নেতৃত্ব ‘সুনির্দিষ্ট’ ভাবে সহযোগিতার কোন প্রতিশ্রুতি দেয়নি। দলের সঙ্গে আলোচনা করে জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অরুণ জেটলি। বিরোধীদের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া ’৭৪ সাল থেকে ঝুলে থাকা ল্যান্ড বাউন্ডারির রেটিফিকেশন কিংবা তিস্তা চুক্তি  কোনটাই সম্ভব নয়- তা অনেক আগেই খোলাসা করে জানিয়েছে নয়া দিল্লি। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে সরকারের একার পে অনেক কিছু করা সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়। অনেক হিসাব নিকাশের পর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে ঢুকেন দীপু মনি। ভারতের রাজ্য সভার প্রভাবশালী বিরোধী নেতা অরুণ জেটলির সঙ্গে অ্যাপয়েনমেন্ট করেন। সব চূড়ান্ত হওয়ার পর দিল্লির পথে রওনা হন। এবারে তার তিন দিনের সফরে অনেক অ্যাপয়েনমেন্ট রয়েছে। একটি সেমিনারে বক্তৃতার জন্য তার এ সফর হলেও তিনি দ্বিপীয় সম্পর্কের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনায়  অ্যাপয়েনমেন্টগুলো করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে দীর্ঘ বক্তৃতা করেছেন। অনেক প্রশ্ন এসেছে, জবাব দিয়েছেন। আলাদাভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। দীপু মনির সফরের সিডিউল ঘোষণার পর থেকে দেশটির বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে তার বৈঠককে গুরুত্ব দিচ্ছে গণমাধ্যম। গতকাল বৈঠকটি হওয়ার পরও তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বিস্তর পর্যালোচনা হয়েছে রাজ্যসভার বিরোধী নেতার সঙ্গে বৈঠকের ফল নিয়ে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবার কোন ধরনের রাখঢাক না করেই কথা বলেছেন দেশের সবচেয়ে বড় চাওয়া তিস্তা চুক্তি ও ল্যান্ড বাউন্ডারির রেটিফিকেশন নিয়ে। নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক, সেমিনার বক্তৃতা ও গণমাধ্যমের  মুখোমুখি হওয়া সব খানেই সমান সরব ছিলেন তিনি। এবারই প্রথম ইস্যুগুলোর সফল নিষ্পত্তির জন্য সরাসরি বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি যে আগামী নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হবে- সেটা দিল্লিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনার দূত হিসাবে যাওয়া দীপু মনি।  তার সফর নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও বিরোধী দল বিজেপির নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংবাদদাতাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বৈঠকে মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত কিছু বিষয় বিশেষ করে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির তাগিদ দিয়েছেন দীপু মনি। বিজেপি সীমান্ত চুক্তির বিরোধিতা করছে। বৈঠক শেষে দীপু মনি ভারতীয় সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতার সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্ট। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক সেটা যেন আরও সুস্থির হয় ও সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যায় এবং এসব বিষয় যেন বাস্তবে রূপায়িত হয় সে ব্যাপারে ভারত যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। কিন্তু বিজেপির অরুণ জেটলি তাকে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত মতামত তিনি জানাতে পারবেন তার দলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। এ ব্যাপারে দীপু মনি আশাবাদী বলেও মত প্রকাশ করেন। মনমোহন সিং-এর সঙ্গে বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী দীপু মনিকে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি ও তার সরকার ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে যে প্রতিশ্রুতি আছে সেটা পালনে দায়বদ্ধ বলে স্বীকার করেন। তিনি প্রথম থেকে যেমনভাবে চেয়েছিলেন যে তিস্তা পানিচুক্তি হোক, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হোক সেখান থেকে কোনভাবেই সরকারের অবস্থান বদলায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মনমোহন সিং স্বীকার করেছেন কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা আছে তবে সেটা ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপীয় সমস্যা নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। এদিকে রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে বলা হয়েছে, দ্বিপীয় সম্পর্কের অগ্রগতির জন্য মনমোহন সিং-এর প্রশংসা করেছেন দীপুমনি। বিবদমান বিষয়গুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

>