বৃহস্পতিবার , ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > অর্থ-বাণিজ্য > বিনিয়োগ সংকোচনে ঋণে অনীহা, কমছে ব্যাংক সুদ

বিনিয়োগ সংকোচনে ঋণে অনীহা, কমছে ব্যাংক সুদ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বহুল আলোচিত-সমালোচিত ব্যাংকঋণে আমানত সুদের ব্যবধান কমতে শুরু করেছে। তবে এ সংবাদে খুব বেশি আনন্দ পাওয়ারও কিছু নেই। কারণ, স্বাভাবিক নিয়মে এ সুদের হার কমছে না। কমছে উল্টো নিয়মে। বিদ্যুৎ, গ্যাসসংযোগের অভাবসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের সুযোগ সংকোচিত হওয়ায় ঋণ নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। এতে করে ব্যাংকগুলোতে ঋণের চাপ না থাকায় সুদের হার কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসেবে, গত মে মাসে ৩১টি ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমিয়েছে। আর আমানতে সুদ হার কমিয়ে এনেছে ২৮ ব্যাংক। যদিও এ সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ ও আমানতে সুদ হার আগের তুলনায় বাড়ানোর প্রভাবে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে গড় সুদ হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মীর্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ঋণ চাহিদা কমছে ফলে ব্যাংক ঋণে সুদের হার লঘু দেখাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রায় অভিন্ন মত দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারি ঋণের চাপে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কিছুটা নিম্নমুখী। ফলে এমনটি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মে মাসেও ব্যাংক খাতের ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের গড় ব্যবধান (সেপ্রড) ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে রয়েছে। মে শেষে সেপ্রডের গড় ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। আগের মাস এপ্রিল শেষে যা ছিল ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। এ সময়ে নতুন অনুমোদন পাওয়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ ব্যাংক খাতে ঋণের ক্ষেত্রে গড় সুদ হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, আগের মাস শেষে যা ছিলো ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর আমানতে আগের মতোই ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ঋণের চাহিদা কিছুটা কমায় ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি জোরদারের ফলে কোন ব্যাংক এখন আর নিয়মের বাইরে গিয়ে ঋণ দিতে পারছে না। এসবের বাইরে বেসরকারি খাতের অনেক উদ্যোক্তা বিদেশ থেকে কম সুদে ঋণ নিচ্ছেন। এতে দেশের ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ঋণের প্রতি আকৃষ্ট করতে সুদ হার কমাতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে সেপ্রডের গড় ব্যবধান কমছে। শিগগিরই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করেন। এ সময়ে ঋণে সুদ হার কমিয়েছে ৩১টি ব্যাংক, বেড়েছে ২টি ব্যাংকের অপরিবর্তিত রয়েছে চার ব্যাংকের সুদ হার। ঋণে সুদ হার কমানোর ফলে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানোর জন্য আমানতেও সুদ হার কমানো হয়েছে। মে মাসে ২৮টি ব্যাংক আমানতে সুদ হার কমিয়েছে, বেড়েছে ১৪ ব্যাংকের আর আগের মতোই রয়েছে ৫ ব্যাংকের সুদ হার। সব মিলিয়ে এ সময়ে সেপ্রডের ব্যবধান সামান্য কমেছে। মে শেষে রাষ্ট্র্রীয় মালিকানার চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের সেপ্র্রডের গড় ব্যবধান কমে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, আগের মাস শেষে যা ছিল ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমেছে, আগের মাসে যা ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকে কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে, আগের মাস শেষে যা ৫ দশমিক ১২ শতাংশে ছিল। এছাড়া বিদেশী ব্যাংকগুলোর গড় ব্যবধান কমে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ দাঁড়িয়েছে, আগের মাস শেষে যা ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ ছিল। ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদ হারের ব্যবধান কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১২ সালের শুরুর দিকে সেপ্রড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দেয়। তবে বেশিরভাগ ব্যাংক সে নির্দেশনা অমান্য করে চলতে থাকায় গত জানুয়ারিতে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকার্স সভায়’ সতর্ক করেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। মার্চের মধ্যে ঋণ ও আমানতে সুদ হারের ব্যবধান পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়। সে নির্দেশনার পর জানুয়ারিতে সেপ্রডের গড় ব্যবধান কমে পাঁচ দশমিক ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট, ফেব্রুয়ারিতে ৫.০৫ এবং মার্চে ৫.০৬ শতাংশীয় পয়েন্টে নেমে আসে। পর্যায়ক্রমে এ ব্যবধান আরও কমছে।

>