মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > বিলবোর্ডের ঢেউ এবার পদ্মার তীরে

বিলবোর্ডের ঢেউ এবার পদ্মার তীরে

শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী ॥ মহাজোট সরকারের উন্নয়নের ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে পদ্মার তীরে। এসব বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে শিক্ষানগরী রাজশাহী। মহাজোট সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে ডিজিটাল প্রিন্টের বড় বড় ব্যানার নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সফরের আগে এসব ব্যানার বিল বোর্ডে টাঙানো হয়। এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বিলবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। বিএনপি নেতারা বলছেন, বিজ্ঞাপন প্রচার করে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে বিলবোর্ডগুলো ভোর থেকেই নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে টানানো হয়েছে।

নগরীর শহীদ কামারুজ্জামান চত্বর, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, ভদ্রা মোড়, লক্ষ্মীপুর, রামেক হাসপাতাল, বিনোদপুর, তালাইমারী ও কাজলাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত টানানো বিল বোর্ডে সাড়ে চার বছরের বিভিন্ন উন্নয়নের ফিরিস্তি তুুলে ধরা হয়েছে। নির্ধারিত বিলবোর্ড ছাড়াও বিভিন্ন উঁচু ভবনে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে ব্যানার। উন্নয়নের অঙ্গীকার, ধারাবাহিকতা দরকার- স্লোগান নিয়ে বিলবোর্ডগুলোর শিরোনামগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, ২৬ লাখ মে. টন খাদ্য ঘাটতির বিপরীতে বর্তমান দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ, শিশু মৃত্যু হার কমানোর অসাধারণ সাফল্যে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের এমডিজি পুরস্কার গ্রহণ, দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৬ শতাংশে সীমিতকরণ।

মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন। তবে বিজ্ঞাপনগুলো কারা টাঙিয়েছে তা লেখা নেই। কিন্তু সরকারদলীয় নেতারা স্বীকার করেছে বিজ্ঞাপনগুলো তাদেরই। অপর দিকে বিলবোর্ডগুলোয় যেসব বিজ্ঞাপন ছিল সেগুলো চুক্তির সময়সীমার আগেই সরকারের উন্নয়নের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দেয়ায় ব্যবসায়িকভাবে লোকসানের শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আবার অনেকের অজান্তেই বিলবোর্ড দখল করে নেয়া হয়েছে। বিলবোর্ড ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম তুহিন বলেন, আমি রাজশাহী সিটি করপোরেশন থেকে একটি বিলবোর্ড ভাড়া নিয়ে সেখানে একটি বিজ্ঞাপন টানিয়েছিলাম কিন্তু আমাকে না বলে সরকারের উন্নয়নের বিজ্ঞাপন লাগানো হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাসে আসার সময় হঠাৎ বিলবোর্ডে দেখা যায়।

আগে যে স্থানে মোবাইল অপারেটর কোম্পানির বিজ্ঞাপন ছিল, এখন সেখানে দেখছি সরকারের উন্নয়নের বিজ্ঞাপন! রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, কেউ যদি জনগণের জন্য উন্নয়ন করে তবে সেটা প্রচারের জন্য বিলবোর্ডের প্রয়োজন পড়ে না। জনগণ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের জবাব দেবে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোটায় পৌঁছেছে। আর সেজন্য সরকার সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে দেয়ার এ ডিজিটাল ব্যানার দিয়ে আর একবার প্রতারণা করছে। বিলবোর্ডের মালিকদেরও কোন ভাড়া দেয়া হয়নি। মালিকরা সরকারের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না। আর অবৈধ বিলবোর্ড বন্ধ করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান।

এদিকে, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, সরকারের উন্নয়নের বিষয়গুলো প্রচার করা আমাদের অধিকার। সেই জায়গা থেকে রাজশাহী নগরীতে ৪০-৫০টি বিলবোর্ড ভাড়া নিয়েই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারণা আমরা চালাচ্ছি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কর শাখার কর্মকর্তা সারওয়ার আলী বলেন, প্রচার-প্রচারণার জন্য আরোপিত কর আমরা বিলবোর্ড মালিকদের কাছ থেকে আদায় করি। এখানে কে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করবে সেটা মালিকপক্ষের বিষয়। মালিককে কেউ ভাড়া দিল কি না তা আমাদের দেখার বিষয় নয়।

>