মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > বৈদেশিক সহায়তার আকাশে কালো মেঘ!

বৈদেশিক সহায়তার আকাশে কালো মেঘ!

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারের আয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রাপ্তি ও বৈদেশিক অনুদান মিলিয়ে এ হিসাব করেছে সরকার। কিন্তু চলতি অর্থবছর শুরু হয়েছে বিদেশে দাতাদের সহায়তার কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি ছাড়াই।

দাতারা অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে নতুন করে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানিয়েছে, এ সময়ে আগের প্রতিশ্রুত সহায়তা হিসাবে ছাড় হয়েছে ১৭ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের জুলাইয়ে ছাড় হয়েছিল ২১ কোটি ডলার। চলতি বছর ৩ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার কম এসেছে। এ হিসাবে সহায়তা কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

ইআরডি জানায়, জুলাইয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে নতুন কোনো চুক্তি করেনি দাতারা। অথচ গত অর্থবছরের প্রথম মাসে ৪১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি এসেছিল। এর মধ্যে ঋণ বাবদ প্রতিশ্রুতি এসেছিল ৪১ কোটি ডলার। আর অনুদানের প্রতিশ্রুতি ছিল ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ হিসাবে নতুন অর্থবছরে দাতাদের প্রতিশ্রুতি কমেছে শতভাগ।

তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দাতারা ঋণ বাবদ ১৭ কোটি ৫ লাখ ডলার ছাড় করেছে। এর মধ্যে ঋণ বাবদ এসেছে ১১ কোটি ৭০১ লাখ ডলার। আর ছাড় এসেছে ৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময়ে অনুদান বাবদ এসেছিল ৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আর ঋণ বাবদ এসেছিল ২০ কোটি ৯১ লাখ ডলার। সার্বিক হিসাবে এ বছর অর্থ ছাড় কমেছে।

আবার বৈদেশিক সহায়তার বড় অংশ চলে গেছে পুরোনো ঋণ পরিশোধে। জুলাই মাসে সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৭ কোটি ৯১ লাখ ডলার। এর মধ্যে সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। আর আসল বাবদ পরিশোধ হয়েছে ৬ কোটি ১৪ লাখ ডলার। ঋণ পরিশোধ বাদ দিলে জুলাই মাসে নিট সহায়তা এসেছে ৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার।

গত অর্থবছর পরিশোধ করা হয়েছিল ৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল ৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার। আর সুদ ১ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। পরিশোধ বাদ দিলে গত বছরের জুলাইয়ে নিট সহায়তা এসেছিল ১২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এ হিসাবে নিট বৈদেশিক সহায়তাও কমেছে।

ইআরডি জানায়, জুলাই মাসে আগের প্রতিশ্রুত সহায়তার অর্থ বেশি পরিমাণে ছাড় করেছে ভারত। দেশটি প্রতিশ্রুত ২০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদানের তৃতীয় কিস্তি হিসাবে জুলাই মাসে ৫ কোটি মার্কিন ডলার ছাড় করে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার ছাড় করেছে জাপান।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) ছাড় করেছে ২ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ছাড় করেছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। এর বাইরে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা (জাইকা) ১ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ও দণি কোরিয়া ৬৫ লাখ ডলার ছাড় করেছে।

উল্যেখ্য, গত অর্থবছর মোট ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা এসেছিল। ওই সময়ে বৈদেশিক সহায়তার ল্যমাত্রা ছিল ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বছর শেষে প্রতিশ্রুতির চাইতে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা বেশি এসেছিল।

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই নতুন প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ছাড়ে নেতিবাচক প্রবণতার কারণে ল্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

>