সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > আন্তর্জাতিক > বোস্টনে নওমুসলিমদের রোজা

বোস্টনে নওমুসলিমদের রোজা

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হয়েছেন ব্রায়ান বুজবি। পবিত্র রমজানের রোজা রাখছেন তিনি। নিয়মিত জামাতের সঙ্গে আদায় করছেন তারাবি নামাজ। এর মাঝে খুঁজে পেয়েছেন অসীম এক সুখ। অন্য ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলামে আসা ব্রায়ানের কাছে নিয়মনীতি কিছুটা কঠিন মনে হতেই পারে। তিনি সারাজীবন চর্চা করেছেন অন্য ধর্ম। আর ইসলাম কবুল করে রোজা রাখার পর যেসব নেশা জাতীয় দ্রব্য আছে তা সেবন থেকে রয়েছেন দূরে। পানাহার থেকে বিরত থাকায় কিছুটা পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। এতে মাথা কিছুটা ঝিম ঝিম করে। তবু তাতেই সুখ ব্রায়ানের। এমন অনেক নওমুসলিমের জন্য বোস্টনের সবচেয়ে বড় মসজিদ দি ইসলামিক সোসাইটি অব বোস্টন কালচারাল সেন্টার হয়েছে জমায়েতস্থল। এই মসজিদ নওমুসলিমদের রমজানের আনন্দ উপভোগে সহায়তা করছে। ব্রায়ান বলেছেন, আমি গত বছর এ সমপ্রদায়ের অংশ ছিলাম না। এবার আমি মুসলমান। এখন দেখতে পাচ্ছি কত পার্থক্য। অনেক বড় ব্যবধান নিয়মনীতিতে। এখানে নওমুসলিমদের বিভিন্ন সমস্যা বা তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন ইমাম উইলিয়াম সুহাইব ওয়েব। তিনি বলেন, বিশেষ করে যারা নতুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে আছেন কলেজ পড়ুয়া, অবিবাহিত যুবক। তাদের জন্য কোন সামাজিক সহায়তামূলক প্রতিষ্ঠান নেই। আমি মনে করি এই মসজিদ তাদেরকে সহায়তা করতে পারবে। গতকাল অনলাইন দ্য বস্টন গ্লোব পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইমাম ওয়েব বলেছেন- একবার তিনি এক যুবতীর সঙ্গে পরামর্শ করেন। তখন ওই যুবতী তাকে জানান যে, তিনি ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তার মা ভীষণ রেগে যান। এক পর্যায়ে সামাজিক চাপে পড়ে তাকে রোজা ভেঙে ফেলতে হয়েছে। এেেত্র ওই ইমাম বলেন, ২৯ অথবা ৩০ দিন রোজা রাখা খুব কঠিন। তবে রোজা রাখলে আপনি নিজেকে পরিশুদ্ধ মনে করবেন। এ মসজিদের প্রতি সপ্তাহে নওমুসলিমদের জন্য একটি কাস ও বিশেষ ইফতারের আয়োজন করা হয়। এ সময় যারা নতুন আসেন এ মসজিদে তারা ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছু শিা লাভ করেন। পরস্পরের প্রতি যে ভ্রাতৃত্বমূলক বন্ধন সে সম্পর্কে ধারণা পান। তাদের নিয়ে আল জাবরিতে কাস হয়। সেখানে যারা যোগ দেন তাদের অনেকেই মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েছেন। তাদেরকে কাস নেয়ার সময় তারাবি নামাজের দাওয়াত দেয়া হয়। এখানে যোগ দিয়েছেন কামরান আহমেদ নামে একজন। তিনি বলেন, কোরআন এক্সপ্লোরার আইফোন অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি শোনেন পবিত্র কোরআনের ইংরেজি অনুবাদ। বলেন, যখনই আমি অনুবাদ শুনি আমার কান্না পায়। কামরান আহমেদ মেডিকেল ছাত্র। তিনি এ কাসে যোগ দিয়েছেন কারণ, তিনি আগামী বছর তার নিজের রাজ্য টেক্সাসে একই রকম একটি কাস খুলতে চান। ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণকারী জেনা লাইব হলেন সমারভিলের গণিতের শিক। তিনি দু’টি রোজা রাখার পরই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, রোজা রাখার পর আমার মাঝে আনন্দ অনেক বেশি বেড়ে গেছে। মনে হচ্ছে আমার মানসিক উৎকর্ষ ঘটেছে। নতুন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মানসিক বিদ্যায় গ্র্যাজুয়েট এলিজাবেথ হিউ। তিনি বসবাস করেন ওয়েসলিতে। তিনি বলেন, অমুসলিমরা সব সময় রমজানের গুরুত্ব বুঝতে চায় না।

>