মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > ব্যাংকের সরাসরি ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে

ব্যাংকের সরাসরি ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে সরাসরি ব্যাংকের বিনিয়োগ বন্ধ হচ্ছে। সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যাংক সরাসরি স্টক-ব্রোকার, স্টক-ডিলার, মার্চেন্ট ব্যাংকার, পোর্টফোলিও ম্যানেজার ইত্যাদি হতে পারবে না। অর্থাত্ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে নিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে এমন কোনও ব্যবসায় কোনও ব্যাংক সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারবে না। ব্যাংকগুলোকে শেয়ার ব্যবসা করতে হলে পৃথক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করেই করতে হবে। ব্যাংকগুলোর শেয়ার ব্যবসার আইনগত ভিত্তি দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংক-কোম্পানি আইনের সংশোধনীতে এমন একটি উপধারা সংযোজন করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংকগুলোর সাবসিডিয়ারি হিসেবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এক্সচেঞ্জ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংকিং, ব্রোকারেজ হাউস প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলো নিরীক্ষিত হয়েছে কি-না এবং সঠিকভাবে একীভূত আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে কি-না এ সম্পর্কেও সংশোধিত আইনে নিরীক্ষকের অভিমত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এবং নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি করতে বেশি সময় লাগবে না। যেসব ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি নেই, সেসব ব্যাংক যদি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করেই বিনিয়োগ করতে হবে। আর বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুসারে ব্যাংকগুলোর সরাসরি ব্যবসার সুযোগ আর থাকছে না। ফলে যেসব ব্যাংক এখনও সাবসিডিয়ারি কোম্পানি করেনি, তাদের আলাদা সাবসিডিয়ারি কোম্পানি করতে হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৩০টি। এর মধ্যে পৃথক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি রয়েছে ১৮টি। এখনও ১২টি ব্যাংক প্যানেল ব্রোকারের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্পাদন করছে। ফলে এ ব্যাংকগুলোকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি করেই পুঁজিবাজারে ব্যবসা করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এ ধারা সংযোজনের অর্থই হল এখন থেকে ব্যাংকগুলো সরাসরি শেয়ার ব্যবসায় নিয়োজিত হতে পারবে না। শেয়ারবাজারের ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করেই করতে হবে। অবশ্য পৃথক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে পুঁজিবাজার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এমন নির্দেশনা আগেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পাশাপাশি অনিবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেন ও তাদের শেয়ার রক্ষণাবেক্ষণে দেশি-বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাস্টডিয়ান সার্ভিস দিয়ে আসছে।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুনভাবে সংযোজিত উপ-ধারাটি বাস্তবায়ন হলে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন ব্যতীত বিদেশি ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজার কার্যক্রম পরিচালনা করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে সরাসরি কাস্টডিয়ানের মাধ্যমে অনিবাসী ও বিদেশি বিনিয়োকারীর পক্ষে শেয়ার লেনদেন এবং এর নিরাপদ রক্ষণাবেক্ষণকাজ করছে ৪টি বিদেশি ব্যাংক। এগুলো হল— স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ও এইচএসবিসি ব্যাংক। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত ২টি সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান রয়েছে।

জানা গেছে, সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইনের সংযোজিত উপধারাটি নিয়ে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ৪টি ব্যাংকের। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা বলেন, এ উপধারাটি বিদেশি ব্যাংকসহ যারা কাস্টডিয়ানের মাধ্যমে শেয়ার ব্যবসা পরিচালনা করত তাদের জন্য প্রতিবন্ধক। কারণ এর ফলে তারা এখন আর বিদেশিদের পক্ষে শেয়ার কেনা-বেচা ব্যবসা করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে পুুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, এটি পুঁজিবাজারের জন্য ভালো। যাদের আলাদা সাবসিডিয়ারি কোম্পানি নেই, তাদের আলাদা সাবসিডিয়ারি কোম্পানি করতে হবে। তা না হলে সরাসরি পুঁজিবাজারে ব্যবসা করতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইনে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি কমানের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিনিয়োগ সীমিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশোধনীতে বিধান করা হয়েছে— কোনও ব্যাংক অন্য কোনও কোম্পানির শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে নিজের মূলধন ও রিজার্ভের ৫ শতাংশের বেশি কিংবা ওই কোম্পানির আদায়কৃত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। এছাড়া কোনও ব্যাংক কোম্পানির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পুঁজিবাজার এক্সপোজারের পরিমাণ মূলধন ও রিজার্ভের ২৫ শতাংশের বেশি হবে না।

>