বৃহস্পতিবার , ৪ঠা মার্চ, ২০২১ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ , ১৯শে রজব, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > ভারতে বিনিয়োগ করতে চায় প্রাণ-আরএফএল

ভারতে বিনিয়োগ করতে চায় প্রাণ-আরএফএল

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিদেশে বিনিয়োগের দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে বড় ব্যবসায়িক গ্রুপের। রির্জাভের নতুন মাত্রা বিবেচনা করে উদ্যোক্তাকে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। যাচাই বাছাই করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বাইরে বিনিয়োগ করতে দাবি জানিয়ে আসছে।
নতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন মাত্রা ছুয়েছে। তাই সীমিত আকারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা যারা বিদেশে বিনিয়োগ করতে চায় তাদের কিছু সুযোগ দেওয়া হতে পারে। কিছু বিশেষ েেত্র এই সুযোগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এমন চিন্তা ভাবনা করছে।
একই ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, আমরা কিছু রিজার্ভ বাইরে বিনিয়োগের জন্য অনুমতি দিতে পারি। আলাদা আলাদা আবেদনের পরিপ্রেেিত বাংলাদেশ ব্যাংক এই সুযোগ দিবে।
সূত্র জানায়, এই সুযোগ ব্যবহার করতে চায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, নিটল নিলয় গ্রপ, স্কয়ার, বেক্সিমকোসহ কয়েকটি নামিদামি কোম্পানি। জানা গেছে, ভারতে বিনিয়োগ করতে চায় দেশের বৃহৎ প্লাস্টিক, হাউজহোল্ড, পিভিসি পাইপ, ফিটিংসসামগ্রী প্রস্তুতকারি ও কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
প্রতিষ্ঠানটি এক কোটি ডলার (১০ মিলিয়ন ডলার-প্রায় ৮০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করতে চায় ভারতে। বাংলাদেশ ব্যাংকে এনিয়ে অনুমোদন চেয়ে আবেদনও করেছে। ২০০৯ সালে প্রথম আবেদন করে তারা। পরের বছর ২০১০ সালে আবারও আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।
জানতে চাইলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আহসান খান চৌধুরি বলেন, আমরা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ উত্তর পূর্ব ভারতে আমাদের পণ্যের কারখানা করতে চাই। মিজোরাম, মেঘালয়, আসামসহ এই এলাকায় আমাদের পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজার ধরে রাখতে ও সম্প্রসারণ করতে ওই এলাকায় বিনিয়োগ করা জরুরি। সেখানে প্রান-আরএফএর এর ৩ শতাধিক পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।প্রাথমিক ভাবে আমরা ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চাই। তবে সেটি অবশ্যই বৈধ পথে। বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছি বিনিয়োগের অর্থ বৈধ ভাবে নিয়ে যেতে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন মাত্রায় ছুয়েছে। বর্তমানে তা প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। যা দিয়ে বাংলাদেশ ৫ মাসের আমদানী ব্যয় মেটাতে পারবে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত ভাবে ব্যবসায়ীদের বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে এগিয়ে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সন্তোষজনক রিজার্ভের কারণে গত ৩০ মে বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডে বিদেশে কেনাকাটার সুযোগ উন্মুক্ত করে দেয়। প্রতিটি লেনদেনে শত ডলার তারা ব্যবহার করা যাবে। এবং বছরে তা এক হাজার ডলার।
আহসান খান চৈৗধুরি বলেন, বাংলাদেশ অনেক ছোট দেশ। উদ্যোক্তা অনেক। আমাদের ব্যবসায়িক চিন্তা ভালো। উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রাণ আরএফএল পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই এলাকা কৃষি সমৃদ্ধ। অনেক কৃষি জমি রয়েছে। কিন্তু তেমন শিল্পায়ন হয়নি। আমাদের পণ্যের সেখানে ব্যাপক বাজার রয়েছে। কিন্তু রপ্তানী করে সেই বাজার ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা সেখানে শিল্প করতে চাই। এতে বাংলাদেশ লাভবান হবে। কারণ শিল্পের মুনাফা তো আমরা দেশেই নিয়ে আসব।
তার মতে, ডলার ভালো অবস্থানে। তবে ধরে রেখে লাভ নেই। বরং অতিরিক্ত রিজার্ভ অর্থনীতির স্বার্থে সঠিক ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি আলাদা আবেদনকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এটির অনুমতি দিতে পারে। ডলার যথেষ্ট থাকলে এই সুযোগ থাকবে, অন্যথায় আবার বন্ধ করে দিতে পারে।
প্রাণের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা প্রতি মাসে ১০কোটি ডলার (একশ মিলিয়ন) রপ্তানী আয় নিয়ে আসি। সেখান থেকে একবারের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার ভারতে নিয়ে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
এই ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রক্রিয়াকরণ পণ্য, ওষদ শিল্প, চামড়া শিল্প, সিরামিক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ভালো করছে। তাই এখাতের ব্যবসায়ীদের বিদেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে প্রাণ গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকে ভারতে বিনিয়োগের জন্য ডলার নিয়ে যেতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে। তখন প্রতিষ্ঠানটি ২ মিলিয়ন ডলার ভারতে বিনিয়োগ আবেদন করে। যখন রিজার্ভ ছিলো ১০ বিলিয়ন ডলারের মতো। ২০১০ সালেও আবেদনটি পুনরায় উপস্থাপন করা হয়। অপরদিকে, প্রান-আরএফএল গ্রুপ বর্তমানে চায় এক কোটি ডলার।

>