সোমবার , ১লা মার্চ, ২০২১ , ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ , ১৬ই রজব, ১৪৪২

হোম > জাতীয় > ভালুকায় তোতাখাঁর ভিটায় লেগুনা চালকের লাশ, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

ভালুকায় তোতাখাঁর ভিটায় লেগুনা চালকের লাশ, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

শেয়ার করুন

আমিনুল ইসলাম
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ॥
ময়মনসিংহ: ভালুকা পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ডের তোতা খাঁর ভিটা এলাকার বাড়ীর মালিক ইমতিয়াজ বুলবুলের বাড়া বাসা থেকে লেগুনা চালক জনি (১৮) এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। জনি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার বারিশাবর ইউনিয়নের পুষাদী গ্রামের মোঃ রফিকের পুত্র।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে।

বাড়ীর মালিকের কাছ থেকে প্রথম তলা তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট বাড়া নিয়েছিলেন স্থানীয় মেজর ভিটার আশিক ও তার স্ত্রী আখি। আশিক ভালুকা বাসস্টেশনে ময়ূরী হোটেল ব্যাবসায়ী।

আশিক জানায়, তিন রুম থেকে সাবলেট হিসেবে এক রুম নওগাঁ জেলার নেয়ামতপুর থানা এলাকার বিপুল হোসেনের নিকট এবং আরেক রুম জনির কাছে ভাড়া দিয়েছিল। বিপুল তার স্ত্রী নিয়ে থাকত এবং পূর্ব পরিচিত হিসেবে জনিকে নবদম্পতি হিসেবে সাবলেটে ভাড়া দিয়েছিল।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ঘরের দরজা লক করে গেলেও ঘটনার দিন দরজা লক করতে ভূলে গিয়েছিল। আশিক ব্যাকের কিস্তি বাবদ ১০ হাজার টাকা তার স্ত্রী আখির কাছে জমা দিলে আখি সে টাকা তার ব্যাবহারিক ব্যাগে রাখে। ঐদিন টাকাটি চুরি হয়ে যায় এবং বিপুলের স্ত্রী আশিককে জানায়, জনির নববিবাহিত স্ত্রী জান্নাতুল দুপুর ১টার দিকে নাকিট টাকাটি চুরি করে নিয়ে যায়।

আখির জানায়, ৫ দিন আগে মুন্সিগঞ্জে জান্নাতুলকে বিয়ে করে ঐ বাসায় বাড়াটিয়া হিসাবে উঠেছিল এবং সে তাদের বিয়ের কাগজপত্র চাইলে জনির স্ত্রী নাকি না দেয়ার বা দিচ্ছি এনে এমন ভাব করত। যার ফলে জান্নাত এর আসল পরিচয় ও বিয়ের কোন তথ্যই ঐ বাসার ও জনির কোন আত্বীয়দের কাছ থেকে পাওয়া যায় নি।

আশিকের দাবী, স্ত্রী আখি বাসায় এসে ব্যাগে রাখা টাকা না পেয়ে জনি ও জান্নাতকে উভয়ে ফোন দিলে তাদের নাম্বার বন্ধ পেয়ে সন্দেহ করে জান্নাত টাকা চুরি করে পালিয়েছে। পরে সে বিকালের দিকে জনিকে খুঁজে পেয়ে বিষয়টি জানায় এবং এ নিয়ে কিছু কথাও কাটাকাটি হয়। জনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় ফিরলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জনির রুমের দরজা হালকা ধাক্কা দিলে সিলিং ফেনের রডে অর্ধ জুলন্ত ফ্লোরের সাথে পা ঠেস দেয়া জনির লাশ দেখতে পায়।

তাৎক্ষনিক আশিক তার এক বন্ধুর পরামর্শক্রমে ৯৯৯ তে ফোন করে ভালুকা মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ এসে সরেজমিনে ঘটনার তদন্ত করেন।

জনির বাবা রফিক পুলিশকে জানান, ঘটনার আগের দিনও আমি আমার ছেলের বাসায় এসে চাল, ডাল, আলু, তেল কিনে দিয়েছিলাম এখন আমার ছেলের এটি হত্যা না আত্মহত্যা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমি এর বিচার চাই।

বাড়ীর মালিক ইমতিয়াজ বুলবুল জানান, আশিক সাবলেট বাড়া দিয়েছে তা আমাকে সে জানায় নি তাই এমন ঘটনায় আমি তাকে আগামী মাসে বকেয়া বাড়া পরিশোধ করে বাসা ছেড়ে দিতে বলছি।

ভালুকা মডেল থানা পুলিশ এখনো কাউকে আটক করেনি। অফিসার ইনচার্জ মাঈন উদ্দীন জানান, প্রাথমিক তদন্ত করা হচ্ছে ময়না তদন্তের পর সকল তথ্য জানাযাবে।

>