শুক্রবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ , ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ , ১০ই রমজান, ১৪৪২

হোম > সারাদেশ > ভালুকায় সেফটি ট্যাংকে পরে শিশুসহ তিনজন নিহত

ভালুকায় সেফটি ট্যাংকে পরে শিশুসহ তিনজন নিহত

শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের বহুলী গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডে প্রভিটা ফিশ ফিড লিমিটেড-এর সেফটিক ট্যাংক এর ভিতরে পড়ে মা ও শিশু ছেলে সহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত ৩ মার্চ বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র প্রকৌশলী সজল বাকচীর শিশু ছেলে রুহিত বাকচী(৩) সেফটিক ট্যাংকের উপরে প্রতিদিনের ন্যায় খেলা করার সময় একটি ম্যানহোলের ডাকনাবিহীন চটের ছালা দিয়ে ডাকা ছিল যেটার উপরে পা ফেলতেই নিচে পরে যায়। পাশের কোয়ার্টারে থাকা শিশুটির মা শ্রী মতি রুলী(৩০) সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য দৌড়ে গিয়ে ম্যানহোলের ভিতরে ঝাপ দিয়ে পরে যান।
ততক্ষণে কোয়ার্টারের অন্যান্য কর্মচারীরা চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের হৃদয় মিয়া(২৪) নামে এক কর্মচারী ম্যানহোলের ভিতরে সেফটিক ট্যাংকে ঝাপ দিয়ে পরে যান কিন্ত ভিতরে থাকা প্রচুর বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শেষ পর্যন্ত কেউই ওঠে আসতে পারেনি প্রায় পনের ফুট গভীরের গর্তে দশ ফুট পঁচা পানির নিচে তলিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে ভালুকা ও ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট টানা আড়াই ঘন্টা চেষ্টা করে প্রথমে হৃদয়কে দ্বিতীয় বার শ্রী মতি রুলী ও তৃতীয় বার রুহিত বাকচীকে মৃত উদ্ধার করেন।
তথ্যমতে জানাযায়, মৃত রিদয়ের গ্রামের বাড়ী রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার বালপারা ইউনিয়নের বলদীপুর গ্রামের বাসিন্দা। অপর দুজন মৃত শ্রী মতি রুলী ও শিশু সন্তান রুহিত বাকচীর গ্রামের বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলার সদরে বেতগ্রামে অবস্থিত।
এ দিকে মৃত শিশু রুহিতের বাবা সজল বাকচী( জতির্ময় বাকচীর ছেলে) জানান আগামী ৬ মার্চ রুহিতের ৩ বছর পূর্ণ হবে এবং আজও সকালে রুহিতের মায়ের সাথে জন্মদিন পালন করবে বলে আলোচনা হয়েছিল কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস বাবার ভাগ্যে জুটেনি ছেলের জন্মদিন পালন করা একমাত্র বেচে থাকা বড় বোন অনুরাধা বাকচী(৫) ভাগ্যে জুটেনি ছোট ভাইয়ের জন্মদিন পালন করা। তিনি আরও জানান বিগত তিন বছর যাবত পরিবার নিয়ে তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোয়ার্টারে বসবাস করছেন।
এ ব্যাপারে প্রভিটা ফিস ফিড লিঃ এর সহকারী ম্যানেজার জাকারিয়া আরিফ জানান, ম্যাহোলের মুখে ছালা দিয়ে ডাকা ছিল যেখানে শিশুটি খেলাধুলা করত এবং আজ সে ভিতরে ছালাসহ পরে যায় এবং তাকে উদ্ধার করতে মাসহ এক কর্মচারীও মারা যায়।
স্থানীয় ধীতপুর ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিনজনের মৃত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ত্রিশালের ফায়ার সার্বিসের স্টেশন অফিসার মোনিম সারোয়ার জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ভালুকা ও ত্রিশাল আড়াই ঘন্টা চেষ্টা করে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে ভালুকা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

>