মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > সারাদেশ > মনিপুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারি, হাতের রগ ছিঁড়ে নবজাতক বিকলাঙ্গ

মনিপুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারি, হাতের রগ ছিঁড়ে নবজাতক বিকলাঙ্গ

শেয়ার করুন

সাদিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুর সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারিতে ডান হাতের পাঁচটি রগ ছিঁড়ে এক নবজাতক বিকলাঙ্গ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।

গাজীপুর সদরের ভাওয়ালগড় ইউনিয়িনের ‘মনিপুর মডেল হাসপাতাল ও ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের’ বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে।

নবজাতকের দাদী বিলকিস আক্তার জানান, গত ১৬ অক্টোবর খাদিজা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে মনিপুর মডেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই ডা: সফিউল আলমের অধীনে নরমাল ডেলিভারিতে জন্ম হয় নবজাতকের। নবজাতক জন্মের পর থেকেই ক্রমাগত চিৎকার করতে থাকে, সকালে নবজাতকের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে স্নায়ু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা গত মঙ্গলবার নবজাতকের পরিবারকে জানান, ডেলিভারির সময় নবজাতকটির ডান হাতের পাঁচটি রগ ছিঁড়ে গেছে।

এ বিষয়ে সরেজমিনে হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে জানা যায়, ১৬ অক্টোবর ডেলিভারির সময় একজন আরএমও ডাক্তার সফিউল আলমের সাথে অদক্ষ সহযোগী রাশিদাকে নিয়ে তিনি ঝুঁকিপূর্ণভাবে নরমাল ডেলিভারি করান, ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকেই ক্রমাগত কাঁন্না করতে থাকলে তাকে ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করেন।

হাসপাতালটির আরএমও ডা. সফিউল আলম জানান, নবজাতকটির পরিবার এমন সময়ে হাসপাতালে এসেছিল তখন জরুরী নরমাল ডেলিভারি ছাড়া আর কিছু করার উপায় ছিল না। সাড়ে ৪ কেজী বাচ্চার ডেলিভারি প্রসেস করতে যে কোন কিছু তো হতেই পারে।

হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ করিমকে নবজাতকের ডেলিভারির সময় সহযোগী নার্স রাশিদার একাডেমীক যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোন সদ্যুত্তর দিতে পারেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকীকে অবগত করলে তিনি ভুক্তভোগীকে অভিযোগ করার জন্য পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা না থাকলে তাকে নার্স বলার কোন উপায় নেই, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আমাদের নিকট অভিযোগ করলে আমরা বিষয়টিতে সুনজর দিয়ে দেখব।

>