সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > জাতীয় > মনের দুঃখে গরুকে আলু খাওয়াচ্ছেন চাষিরা

মনের দুঃখে গরুকে আলু খাওয়াচ্ছেন চাষিরা

শেয়ার করুন

বাংরাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ অতি কষ্টে উৎপাদিত আলুর দাম না পাওয়ায় মনের দুঃখে তা গরুকে খাওয়াচ্ছেন রংপুরের কৃষকরা। সদর উপজেলার খটখটিয়া গ্রামের কৃষকরা নিজেদের উত্পাদিত গ্রানুলা জাতের সাদা গোল আলু ৮৫ কেজির প্রতিবস্তা বাজার থেকে মাত্র ৮০-১০০ টাকায় কিনে গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

অথচ প্রতিবস্তা আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আলু চাষি মো. আশরাফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, খটখটিয়াসহ আশপাশের গ্রামের চাষিরা প্রতিবস্তা (৮৫ কেজি) গ্রানুলা জাতের আলু মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। অনেকে নিজেদের উত্পাদিত আলু বাজারে না নিয়ে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। তিনি জানান, কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিবস্তা লাল জাতের কার্ডিনাল আলু বের করতে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া, বস্তা ক্রয়ে ৭৫ এবং ৫০ টাকা পরিবহন ব্যয় বাদ দিয়ে কৃষক পাচ্ছেন মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অথচ এক বস্তা আলু উত্পাদন করতে কৃষকের ব্যয় হয়েছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। তিনি আরও বলেন, এ বছর ৬৩ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করে ৯০ থেকে ৯৬ বস্তা আলু পেয়েছিলাম।

আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু এত লোকসান দিয়ে কীভাবে চাষবাস করব? খটখটিয়া গ্রামের মতো রংপুরের বিভিন্ন উপজেলাসহ উত্তরবঙ্গ ও দেশের অন্যান্য জেলার আলু চাষিদের আলুতে ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে রাজধানীসহ দেশের খুচরা বাজারে প্রতিকেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জসীম উদ্দিন জানান, কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিকেজি আলু বের হচ্ছে আট থেকে সাড়ে আট টাকায়। এর মধ্যে কোল্ড স্টোরেজ সংরণ খরচ কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা। পরিবহন ও বস্তা ক্রয় বাবদ খরচ প্রতিকেজি এক থেকে দেড় টাকা বাদ দিয়ে কৃষক পাচ্ছেন মাত্র দুই থেকে আড়াই টাকা। কৃষি বিপণন বিভাগের হিসাবে গত মৌসুমে প্রতিকেজি আলু উত্পাদন করতে চার থেকে সাড়ে পাঁচ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর এই সময় কোল্ড স্টোরেজ থেকে ৬০ হাজার বস্তা আলু বের হয়েছিল। অথচ বর্তমানে মাত্র ২২ হাজার বস্তা আলু বের হয়েছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি বছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টন আলু অবিক্রীত থেকে যাবে। ফলে লোকসানে পড়বে কোল্ড স্টোরেজগুলো। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী বছর কোল্ড স্টোরেজ বন্ধ করে দিতে হবে। তাই সরকারের উচিত হবে বিভিন্ন খাদ্য কর্মসূচিতে চাল ও আটার সঙ্গে আলু যুক্ত করা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে দেখা যাচ্ছে, কয়েক মাস আগে শেষ হওয়া মৌসুমে দেশে অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে ৪ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে ৮৬ লাখ ৩ হাজার টন আলু উত্পাদিত হয়েছে। এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার টন আলু উত্পাদিত হয়। খাদ্য অধিদফতরের হিসাবে দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টন আলুর চাহিদা রয়েছে। অতিরিক্ত আলুর একটি ুদ্র অংশ বিদেশে রফতানি হয়।

চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১৬ লাখ টন অতিরিক্ত আলু উৎপাদন হওয়ার পর আসন্ন মৌসুমে আলুতে কতটুকু জমি চাষাবাদের অধীনে আনা যায় তা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

সেইসঙ্গে আগামী উত্তোলন মৌসুমে যেন আলুর দাম ব্যাপকভাবে কমে না যায় সেদিকে নজর দেওয়া উচিত বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ। তিনি বলেন, অতিরিক্ত আলু থেকে বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুত করা গেলে আলুর দাম ধরে রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সহায়তা করা প্রয়োজন।সকালের খবর

>