শুক্রবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ , ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ , ১০ই রমজান, ১৪৪২

হোম > ভ্যারাইটিজ > মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ সিরাজগঞ্জের রাজিয়া সুলতানা

মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ সিরাজগঞ্জের রাজিয়া সুলতানা

শেয়ার করুন

সাদিকুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন মানবতার জননী মাননীয় শেখ হাসিনা। পুরুষের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে জড়িয়ে মানবতার সেবায় পিছিয়ে নেই নারীও। তাদেরই একজন সিরাজগঞ্জের কন্যা রাজিয়া সুলতানা ইমু। যিনি শিক্ষা জীবন থেকেই একটি সংগঠন দাঁড় করিয়ে মানবতার সেবা করে চলেছেন।

ভারতবর্ষের প্রথম মহিলা শাসকের নামও ছিলো রাজিয়া সুলতানা, যিনি তার পিতা সুলতান ইলতুতমিশের জ্যেষ্ঠ কন্যা ছিলেন, ছিলেন মানবতাবাদি এক মহীয়সী নারী। যিনি প্রজার সুখের জন্য নিজের ভাইকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজ্যের শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন। সিরাজগঞ্জের রাজিয়া সুলতানাও ব্যবসায়ী পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা। শিক্ষা জীবনেই কন্ঠের যাদুতে লাখো মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চার বার। 

গানের সখের পাশাপাশি মানব সেবার মত পবিত্র ইচ্ছা কে বাস্তবে রূপ দিতে শিক্ষা জীবনেই প্রতিষ্ঠা করেন “আলোময় ফাউন্ডেশন”৷ যার মূখ্য উদ্দেশ্যই হচ্ছে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তারই ধারাবাহিকতায় ফাউন্ডেশনটি করোনাকালীন সময় ২০০ টি পরিবারের মধ্যে খাবার বিতরণ, ১০০টি পরিবারে ১০ দিনের খাবার বিতরণ, ৫টি পরিবারের দায়িত্ব গ্রহন, বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) বাচ্চাদের কবিতা ও চিত্রাঅঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং তীব্র শীতে কম্বল বিতরণসহ বর্তমানে ১ টি পরিবারে সকল খরচের দায়িত্ব পালন করছেন। 

ব্যবসায়ী বাবার বড় কন্যা রাজিয়া সুলতানার সফলতার তালিকায় রয়েছে ছোট-বড় আরো অনেক অর্জন; ২৬ শে মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফেস্টুন উড়ানো, ৪৫তম ওআইসি কনফারেন্সে সেক্রেটারিয়েট পদ পালন, সিএ ভবনে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাওয়াসহ বর্তমানে বাংলাদেশ গার্লস গাইড এসোসিয়েশন এর রমনা জেলার চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করছেন। 

একান্ত সাক্ষাৎকারে আলোময় ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা রাজিয়া সুলতানা ইমু জানান, আমি কলেজে থাকা কালিন এ সংগঠনের উদ্যোগটি নেই এবং ২০১৭ সালে অনার্স প্রথম বর্ষ থাকাকালীন এটি প্রতিষ্ঠা করি। আপাতত সংগঠনের অফিস হিসেবে বাসাকেই ব্যবহার করছি। ভবিষ্যতে মানুষের সহযোগিতা পেলে অবশ্যই অফিস নিব ইনশাআল্লাহ! 

দেশের নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশে মেয়েদের সব থেকে বড় সমস্যা হল তারা তাদের পরিবার থেকে যেকোনো কাজ করার উৎসাহ পায় না। যাতে করে অনেকের ইচ্ছা থাকলেও কাঙ্খিত কাজটি করতে পারে না এবং প্রতিটি কাজে অনেক বাধা আসে। তাই আমি বলব প্রতিটি মেয়ের উচিত নিজে সাবলম্বি হওয়া এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করা। কারণ বর্তমানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  নারীদের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধা করে দিয়েছেন।

জনসেবার কাজে তিনি তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন ও সহায়তা পান বলেও জানান। 

>