মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > মার্কিন গোয়েন্দাদের অনুরোধ না রাখলে হাজতে যেতে হতো

মার্কিন গোয়েন্দাদের অনুরোধ না রাখলে হাজতে যেতে হতো

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ গ্রাহক তথ্য হস্তান্তরে মার্কিন গোয়েন্দাদের অনুরোধ না রাখলে দেশদ্রোহের মামলায় হাজতে যেতে হতো ইয়াহুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মারিসা মায়ারকে। সানফ্রান্সিসকোতে সম্প্রতি টেকক্রাঞ্চ ডিসরাপ্ট সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর টেকক্রাঞ্চের।

তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে গ্রাহকদের রক্ষায় কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। এ প্রশ্নের উত্তরে এমন প্রতিক্রিয়া দেখান মায়ার।

তিনি জানান, ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভেইল্যান্স আদালতের (ফিসা) স্বাক্ষরিত প্রতিটি আদেশই যাচাই-বাছাই করে দেখে তার কোম্পানি। সেগুলো না রাখার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টাও চালান তারা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইনি প্রক্রিয়ায় হেরে গিয়ে গোয়েন্দাদের অনুরোধ রাখতে বাধ্য হন তারা।

মায়ার জানান, প্রতিটি অনুরোধের সঙ্গেই যুক্ত থাকে ফিসার বিশেষ আদেশ। এতে বলা হয়, এসব অনুরোধ তো বটেই; এগুলোর অস্তিত্বও বাইরের কারো কাছে প্রকাশ করা যাবে না।

মায়ার আরো বলেন, ‘এসব আদেশ না মানলে সরাসরি দেশদ্রোহ মামলায় ফেঁসে যেতে হবে। এসব অনুরোধ-আদেশ নিয়ে আমরা কোনো আলোচনাও করতে পারি না। কেননা, সবগুলোই অতি গোপনীয় হিসেবে চিহ্নিত। অতি গোপনীয় রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রকাশ করাই দেশদ্রোহ; আর সেটা করলেই বিপাকে পড়তে হবে। এ কারণে গ্রাহকদের রক্ষা করতে আমাদের নিজস্ব কম্পিউটার নেটওয়ার্কেই বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নিতে হয়।’

মার্কিন সরকারের করা অনুরোধ তালিকা প্রকাশের জন্য অনুমতি পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াহু, গুগল, ফেসবুক ও মাইক্রোসফটের মতো ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ২০০৬ সাল থেকেই সন্ত্রাস ও অন্যান্য হুমকি মোকাবেলার দোহাই দিয়ে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কোম্পানিগুলোর কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে অনুপ্রবেশ করে আসছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সিসহ (এনএসএ) অন্যান্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।

এ ধরনের কার্যক্রমের খবর এর আগে গুজব হিসেবে ঘুরে বেড়ালেও জুনে তা সত্যি বলে প্রমাণিত হয়। এনএসএর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন ওই মাসে তার প্রতিষ্ঠানের এসব গোপন কার্যক্রমের তথ্য ও নথি গণমাধ্যমে ফাঁস করে দেন।

এরপর থেকেই মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর গ্রাহক আস্থা কমতে থাকে। এদিকে, শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দাবি তারা কখনই স্বেচ্ছায় সরকারের কাছে গ্রাহক তথ্য তুলে দেয়নি। গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে মার্কিন সরকারের করা এ ধরনের অনুরোধগুলো তাই প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে তারা।

গত বুধবার আয়োজিত সম্মেলনে অন্য সাক্ষাত্কারে শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব আমাদের সবাইকে রক্ষার পাশাপাশি আমাদের স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও কোম্পানিগুলোকে সমুন্নত রাখা। কিন্তু সরকার সে কাজে চরমভাবে ব্যর্থ বলেই আমি মনে করি।’

এদিকে গত মঙ্গলবার সরকারি গোয়েন্দাদের প্রকাশিত বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, তিন বছর ধরে মার্কিন নাগরিকদের অগোচরে তাদের ফোন রেকর্ড হাতিয়ে নিয়েছে এনএসএ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নজরদারিতে থাকা লোকজনের কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

আবার গোয়েন্দাদের সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়েও সন্দিহান বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মার্কিন জনগণের তথ্য বেহাত হয়ে গেলে, তা আরো বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।

>