রবিবার , ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > আন্তর্জাতিক > মালালা’র চমক

মালালা’র চমক

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ আবারও সবার দৃষ্টি কেড়েছে সেই মালালা ইউসুফজাই। বলেছে, তালেবানরা বই ও কলমে ভয় পায়। এ সময় সে সবার জন্য শিার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরে। শুক্রবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ভাষণ দেয় সে। এ সময় তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। বলা হচ্ছে শিার েেত্র মালালা এক বীরাঙ্গনা। পাকিস্তানের নারীশিা আন্দোলনের নির্ভীক অগ্রপথিক মালালা ইউসুফজাই শুক্রবার জাতিসংঘে যে প্রাণবন্ত ও বলিষ্ঠ ভাষণ দিয়েছে, তা বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছে। শুক্রবারই ১৬ বছর বয়সে পা রাখা এ কিশোরী তার বক্তব্যে যে পরিপক্বতা দেখিয়েছে, তা ভূয়সী প্রশংসার দাবিদার বলে মনে করছেন বোদ্ধারা। জাতিসংঘে মালালার ভাষণের উল্লেখযোগ্য ১০টি অংশ এখানে তুলে ধরা হলো: এক. মানুষ আমাকে এতো বেশি ভালোবাসা দিয়েছেন, যা আমার কাছে অবিশ্বাস্য। সারা বিশ্ব থেকে শুভকামনা পাঠানো হাজার হাজার কার্ড ও উপহার পেয়েছি আমি। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সেই শিশুদের ধন্যবাদ যাদের মুখের নিষ্পাপ কথা আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বড়দের ধন্যবাদ যাদের প্রার্থনা আমাকে শক্তি জুগিয়েছে। দুই. মালালা দিবস আমার দিবস নয়। আজ প্রতিটি নারী, প্রতিটি ছেলে ও প্রতিটি মেয়ে, যারা অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলেছে, তাদের দিবস। শ’ শ’ মানবাধিকার ও সমাজকর্মী রয়েছেন যারা শুধু মানবাধিকারের পে কথা বলছেন না, বরং তারা শিা, শান্তি ও সাম্যের ল্য অর্জনে সংগ্রাম করছেন। হাজার হাজার মানুষ সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে ও লাখ লাখ মানুষ আহত হয়েছে। আমি তাদেরই একজনমাত্র। তিন. জঙ্গিরা ভেবেছিল, তারা আমাদের ল্যকে পরিবর্তন করবে ও আমাদের আকাঙ্াকে রুদ্ধ করবে। কিন্তু আমার জীবনে শুধু এটা ছাড়া আর কোন পরিবর্তন হয়নি: দুর্বলতা, শঙ্কা ও নিরাশার মৃত্যু হয়েছে। আর তার পরিবর্তে শক্তি, মতা ও সাহসের জন্ম হয়েছে। চার. আমি সেই তালেবান সদস্যকেও ঘৃণা করি না যে আমাকে গুলি করেছিল। আমার হাতে যদি একটি বন্দুক থাকে আর সে যদি আমার সামনে দাঁড়ায়, আমি তাকে গুলি করব না। পাঁচ. ‘তরবারির চেয়ে কলম শক্তিশালী’ প্রবাদটি সত্যি ছিল। জঙ্গিরা বই ও কলমকে ভয় পায়। শিার শক্তি তাদের শঙ্কিত করে তোলে। তারা নারীদের ভয় পায়। নারীদের কণ্ঠস্বরের শক্তি তাদের সন্ত্রস্ত্র করে তোলে। ছয়. আজ আমি নারী অধিকার ও মেয়েদের শিার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, তারা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। একটি সময় ছিল যখন নারী সমাজকর্মীরা তাদের অধিকারের পে কথা বলাতে পুরুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতো। তবে এখন আমরা তা নিজেরাই করবো। সাত. নারী অধিকারের পে কথা বলার জন্য আমি পুরুষদের সরে যেতে বলছি না। বরং স্বাধীনভাবে নারীরা যাতে নিজেদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। আট. প্রিয় ভাই ও বোনরা, আমরা প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য স্কুল ও শিা চাই। আমরা প্রত্যেকের জন্য শান্তি ও শিা সুনিশ্চিত করতে আমাদের গন্তব্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবো। কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। নয়. আমরা আমাদের অধিকারের জন্য কথা বলবো ও আমাদের উদাত্ত কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে পরিবর্তন আনবো। আমাদের কথাগুলো বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে। দশ. একটি শিশু, একজন শিক, একটি কলম ও একটি বই বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে। শিাই একমাত্র সমাধান। শিাই প্রথম।

>