সোমবার , ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ , ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৭ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > খেলা > মেসির চেয়ে নেইমার এগিয়ে!

মেসির চেয়ে নেইমার এগিয়ে!

শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ক’দিন পরই দু’জন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বেন বার্সেলোনার জন্য। খেলার মাঠে দু’জনের যুগপৎ উপস্থিতি কেমন হবে- তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন ফুটবলভক্তরা। একজন আর্জেন্টিনার খুদে বিস্ময় লিওনেল মেসি। আর অন্যজন মেসিদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের নায়ক নেইমার। দেশের হিসেবে দুই দলের ফুটবলের সম্পর্ক সাপেনেউলে। ক্রিকেটে যেমন ভারত-পাকিস্তান, ফুটবলে তেমন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। একে অপরের প্রতিপ মানেই উত্তেজনার বাড়তি আমেজ। কিন্তু দুই দেশের দুই মহাতারকা এখন একসঙ্গে খেলবেন। স্প্যানিশ কাব বার্সেলোনার কল্যাণেই বিশ্ব সেই দৃশ্য উপভোগের অপোয়। মেসির সঙ্গে খেলার জন্য এই মওসুমে বার্সায় যোগ দিয়েছেন নেইমার। নেইমারের বার্সায় যোগ দেয়া না দেয়া নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে এবং হচ্ছে। কেউ বলছেন, মেসির ছায়ায় বাড়তে পারবেন না নেইমার। আবার কেউ বলছেন, মেসির রাজ্যে হানা দিয়ে তাকে গদিচ্যুত করবেন নেইমার। কারও ভাবনা এক বনে দুই বাঘ কেন? তবে সবকিছুর জন্য অপো করতে হচ্ছে আরও কিছুদিন। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি মারাদোনা-পেলের মতো সম্পর্ক এখনও হয়নি তাদের মধ্যে। মেসি-নেইমারের পূর্বসূরির একজন যদি বলেন, আজ সূর্য পূর্বদিকে উঠবে আর অন্যজন প্রতিবাদ করে বলবেন, না, ঠিক না, আজ সূর্য উঠবে পশ্চিম দিক দিয়ে। এত দিন তুলনা চলত, কে সেরা, মারাদোনা নাকি পেলে? কিন্তু মেসির অসাধারণ খেলার পর মারাদোনা-প্রেমীরা বলা শুরু করলো, মারাদোনা-পেলে নয়, তুলনা চলে দুই আর্জেন্টাইন মারাদোনা ও মেসির মধ্যে। লড়াই থেকে ছুড়ে ফেলা হলো পেলেকে। তাতে তাল মেলালেন স্বয়ং মারাদোনাও। বসে থাকতে পারলেন না ব্রাজিলের কালো মানিক। কলি থেকে ফুল হয়ে প্রস্ফুটিত হওয়ার পথে তার প্রিয়ভাজন নেইমার। বলে বসলেন, আমার সঙ্গে মেসির তুলনা থাক, মেসির চেয়ে নেইমার অনেক ভাল। তবে প্রবীণ দু’জনের বিতর্ক যাই হোক নবীন দু’জন এখন ফুটবলামোদীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন ইতিমধ্যে। ২৫ বছর বয়সী মেসি ইতিমধ্যে ফুটবলের অনেক কিছু নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছেন। টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি অর জিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অনন্য উচ্চতায়। লা-লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, কোপা ডেল রে ও ফিফা বিশ্ব কাব কাপসহ বার্সেলোনাকে অনেক শিরোপা এনে দেয়ার নায়ক তিনি।
নেইমার সবে পা দিয়েছেন ২২-এ। তবে এরই মধ্যে তার অর্জনের খাতাটাও কম লম্বা নয়। ২০১১-১২ সালের ফিফা ব্যালন ডি অরের জন্য ২৩ সদস্যের তালিকায় তার নাম দেখা গেছে। সেরা গোলের জন্য ২০১১ সালের পুসকাস পুরস্কার গেছে তার ঝুলিতে। ব্রাজিলের কাব সান্তোসের হয়ে জিতেছেন কোপা দো ব্রাজিল, কোপা লিবার্তাদোরাস, রেকোপা সাদামেরিকানা ও কম্পেওনাতা পাউলিস্তাসহ অনেক শিরোপা।
২১ বছর বয়সে মেসি-নেইমার
মেসি ও নেইমারের মধ্যে এখনও তুলনা করার সময় আসেনি। কিন্তু নেইমার ক’দিন আগে ২১ পার করলেন আর মেসি এখন ২৫ পার করছেন। কাব ও নিজ দেশের হয়ে মেসি ও নেইমার ২১ বছর বয়সে কতোটা সফল ছিলেন, তা আমরা বের করতে পারি। এ েেত্র মেসির চেয়ে নেইমার অনেক এগিয়ে। কাবের হয়ে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত নেইমার ১৮০ ম্যাচে ১০১টি গোল করেছেন। আর সরাসরি গোলের জোগান দিয়েছেন ৩০ বার। ম্যাচপ্রতি গোলের হার ০.৫৬। অন্যদিকে মেসি নেইমারের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিলেন। তিনি ১০৬ খেলায় ৪৩টি গোল ও ১৬ গোলের জোগান দিয়েছিলেন। ম্যাচপ্রতি তার গোলের গড় ছিল ০.৪০। দু’জনে কিন্তু নিজ নিজ কাবে যোগ দিয়েছিলেন একই বয়স-১৭ বছরে। দেশের হয়ে নিজেদের পারফর্মে অনেক এগিয়ে নেইমার। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত নেইমার দেশের হয়ে ৩৬ খেলায় ২৮টি গোল করেন। আর গোলের জোগান দেন ৮ বার। কিন্তু মেসি ১০ খেলায় গোল করেন মাত্র ৪টি। আর গোলের সাহায্য করেন মাত্র দু’বার।  দেশের হয়ে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের েেত্রও এগিয়ে নেইমার। কোন বৈশ্বিক কিংবা মহাদেশীয় লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত দেশকে কোন শিরোপা এনে দিতে পারেননি মেসি। কিন্তু নেইমার এবারই ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের শিরোপা এনে দিলেন। টুর্নামেন্টে হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। আর ২০০৫ সালে শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে দু’জনের লড়াইয়ে মেসি ৮২ ম্যাচে করেছেন ৩৫ গোল। আর ব্রাজিলের হয়ে ২০১০ সাল থেকে ৩৯ ম্যাচে করেছেন ২৪ গোল।

>