শুক্রবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ , ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ , ১০ই রমজান, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > ‘যুক্তরাজ্যের নিয়মে বাংলাদেশে নির্বাচন’

‘যুক্তরাজ্যের নিয়মে বাংলাদেশে নির্বাচন’

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
যুক্তরাজ্যে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার লন্ডনে দেশটির কয়েকজন পার্লামেন্ট সদস্যের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদের দেশে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, বাংলাদেশেও সেভাবে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময়ের সময় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচন, সেগুলোতে বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল-সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

প্রদানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অবাধে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভোট কারচুপি এবং ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের বদনাম থেকে মুক্তি পেয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এবং ব্যাপক ত্যাগ স্বীকারকারী দল আওয়ামী লীগই এই পরিবর্তন এনেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রায় ৬ হাজার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর সবগুলোই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে স্বাধীন ‘সার্চ কমিটি’র মাধ্যমে বাছাইকৃত সদস্যদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে।

নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে এর সরকার পরিবর্তনে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশকে অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের প্রার্থীরা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রধান ৫টি নগরীতে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সামর্থের প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল দলই প্রতিটি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে কোন প্রকার আপত্তি বা প্রতিবাদ হয়নি। তিনি বলেন, তাঁর দল নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণে সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকার এ ব্যাপারে বিরোধী দলের যে কোন প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে রাজি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি কমিশন ও তথ্য কমিশনসহ সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিগত বিএনপি সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিষ্ঠুরতার বিবরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধীরা যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল তারাও একই কায়দায় এই নৃশংসতা চালিয়ে।

প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে তাঁর সরকারের নেয়া বিভিন্ন প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের বর্তমান মেয়াদে গার্মেন্টস শ্রমিমকদের মজুরি শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রানা প্লাজা ধসকে একটি দুঃখজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ঘটনার পর পরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারবর্গকে সহায়তা দানসহ দ্রুত প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের খুব দ্রুত বিস্তার ঘটায় এর সবগুলোই যথাযথ অবকাঠামোর ওপর নির্মিত হচ্ছে না এবং প্রয়োজনীয় সব সুবিধাও এসব কারখানায় থাকছে না। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য ও তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন এবং নারীকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তাঁর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।

প্রাতরাশে অন্যান্যের মধ্যে লর্ড তারেক আহমেদ, লর্ড শেখ, ড. চার্লস ট্যানক এমপি, জিম ফিৎজ প্যাট্রিক এমপি, সিৎজফিশ প্যাট্রিক এমপি, ব্যারোনেস পলাউদ্দিন ও রিচার্ড ফুলার এমপি উপস্থিত ছিলেন।

আবুল কালাম আজাদ জানান, ব্রিটিশ এমপি’রা বিভিন্ন ক্ষেত্র বিশেষ করে কৃষি, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন।

সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেলারুশের রাজধানী মিনস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

>