সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > রথযাত্রা উৎসব বুধবার

রথযাত্রা উৎসব বুধবার

শেয়ার করুন

সাভার প্রতিনিধি ॥
সাভার (ঢাকা): হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় রথযাত্রা উৎসব শুরু হচ্ছে বুধবার। প্রতি বছরের মতো এবারও লাখো মানুষের মিলনমেলায় রথযাত্রা উৎসবটি শুরু হচ্ছে। ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার আবার রথটি টেনে আগের স্থানে নেওয়া হবে, যা উল্টো রথ নামে পরিচিত। তবে মেলা চলবে প্রায় একমাস।

এই রথযাত্রার কথা এলেই ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথযাত্রার কথা উঠে আশে। বাংলাদেশে এত বড় রথযাত্রা ও রথ উৎসবের মেলা আর কোথাও হয়না। গ্রামবাংলার মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এ রথযাত্রা উৎসব মূলত হিন্দুধর্মীয় চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও এ উৎসবের স্রোতধারা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। দেশ-বিদেশ থেকে হিন্দু-মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের হাজার হাজার দর্শক ধামরাইয়ের এ রথযাত্রা উৎসবে সমবেত হয়।

প্রতিবছরের আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে ও রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়।

প্রতি বছর এ রথযাত্রার উদ্বোধনে কোনো না কোনো মন্ত্রী অংশগ্রহণ করলেও এবারের রথযাত্রাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করবেন বলে জানান রথ উদযাপন পরিষদের সদস্য নন্দ গোপাল বনিক।

রথযাত্রা উৎসবকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। আইন শৃংখলা বাহিনীও নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আলমগীর হোসেন জানান, আগত অতিথি ও দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারদের পুড়িয়ে দেওয়ার পর ছোট আকারে রথ তৈরি করে গত ৩৯ বছর রথ উৎসব পালন করা হতো। ২০১০ সালে ভারত সরকারের অনুদানে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় করে লোহার পাত দিয়ে ৩৭ ফুট দৈর্ঘ্য, ২০ ফুট প্রস্থ ও ৪১ ফুট উচ্চতার তিন তলাবিশিষ্ট অবকাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর সেগুন কাঠের পাতলা স্তর বসিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে লোহার পাত। কাঠের ওপর করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ ও দেব-দেবীর মূর্তিচিহ্ন। সামনে দুটি তেজী অশ্ব লাগানো রয়েছে রথটিতে। ১৫টি চাকার ওপর ভর করে চালানো হবে এ রথ। রথ নির্মাণের কাজটি করেছেন ইউসিস ক্যালভিন টেকনোটাচ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাল বংশের শেষ রাজা যশোবন্ত পাল প্রজাবৎসল ছিলেন। তিনি একবার হাতিতে আরোহন করে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথে চলতে চলতে ধামরাইয়ের কাছে শিমুলিয়ার রণস্থানে গিয়ে হাতিটি একটি মাটির ঢিবির সামনে গিয়ে আর এগোয় না। তখন রাজা হাতিতে অবস্থান করেই স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ওই মাটির ঢিবিতে খননকাজ শুরু করেন। সেখানে পাওয়া যায় পুরনো এক মন্দির। তাতে বিষ্ণুমূর্তির ন্যায় শ্রীমাধব মূর্তিও ছিল। রাজা ভক্তি করে সেটা নিয়ে আসেন। ধামরাই সদরের পঞ্চাশ গ্রামের বিশিষ্ট পণ্ডিত শ্রীরাম জীবন রায়কে মূর্তিটি প্রতিষ্ঠার ভার দেন। মহাসমারোহে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হলো ভগবান শ্রীমাধবের মূর্তি। ভগবানের সঙ্গে ভক্ত যশোবন্ত পালের নামের ‘যশো’ অংশটি মিলিয়ে বিগ্রহের নতুন নামকরণ করা হয় শ্রীশ্রী যশোমাধব।

সেইদিন থেকে সেবা পূজার সুবন্দোবস্ত শুরু হয়। যশোমাধবের মূলমন্দিরটি করা হয় ধামরাইয়ের কায়েতপাড়ায়। সেই থেকে আজও সেখানে শ্রীমাধব অঙ্গনে পূজা অর্চনা চলে আসছে। এভাবেই অমর হয়ে আছেন রাজা যশোবন্ত পাল।

পরবর্তীতে শ্রী মাধবকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ধামরাইয়ের শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথ উৎসব ও মেলা। এ রথ উৎসব শুরু হয়েছিল ১০৭৯ বঙ্গাব্দে।

>