সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > রমজানের আগে বাজারে অস্থিরতা, দাম বেড়েছে ১১ পণ্যের

রমজানের আগে বাজারে অস্থিরতা, দাম বেড়েছে ১১ পণ্যের

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১১ পণ্যের দাম বেড়েছে। পণ্যগুলো হচ্ছে চাল, ভোজ্য তেল, ছোলা, আলু, পিয়াজ, আদা, চিনি, কাঁচামরিচ, ডাল, মুরগির মাংস ও ডিম। এর মধ্যে পিয়াজ, চাল ও কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে বেশি। একই সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়ছে। তবে এসব পণ্যের মতো বাড়ার হার এত বেশি নয়। গত কয়েক দিন ধরে এগুলোর বেশির ভাগের দামই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। অব্যাহত বৃদ্ধি বাজারে এক রকম অস্থিরতা শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন, এবার হয়তো দু’য়েকটি পণ্যের দাম ছাড়া অন্য সব কিছু স্থিতিশীল বা সহনীয় থাকবে। কিন্তু রমজান শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকে বেশির ভাগ পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় তারাও বিরূপ মন্তব্য করেছেন। কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটের ব্যবসায়ী রশিদ মিয়া বলেন, পিয়াজ ছাড়া সব পণ্যই ছিল স্থিতিশীল। কিন্তু এখন কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। কেন বাড়ছে তা আমরাও জানি না।
এদিকে দাম বাড়ার কথা বলা হয়েছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র প্রতিদিনকার মূল্য তালিকায়ও। সেখানেও ওই ১০ পণ্যের দাম বাড়ার একটি চার্ট দেয়া হয়েছে। যেখানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বৃদ্ধির হারও দেখানো হয়েছে। সেখানেও সব ধরনের চাল, ভোজ্য তেল এবং অন্য পণ্যের দাম বাড়ার চিত্র দেখানো হয়।
কাওরান বাজারের চাল ব্যবসায়ী মুক্তা রাইস এজেন্সির মো. শাহজাহান তালুকদার বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালেই কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তার মতে, পরিবহন খরচ ও আবহাওয়ার কারণে দাম বাড়লেও মূল কারণ চাতাল কল সিন্ডিকেট কর্তৃক চাল মজুত করা। মাত্র এক মাস আগে ধান তোলার মওসুম শেষ হয়েছে। এ মুহূর্তে দাম এত বেশি হওয়ার কথা না। কিন্তু মিলগুলো ধান কিনে মজুত করে রেখেছে। তারা বাজারে ধান কিংবা চালের কোনটাই ছাড়ছে না। ফলে দাম বাড়ছে। এটা তারাই বাড়াচ্ছে।
গতকাল কাওরান বাজার ও মোহাম্মদপুর বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যের চিত্র দেখা গেছে। বাজারগুলোর খুচরা মার্কেটে মিনিকেট চাল এখন আর ৪৫ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। নাজিরশাইল এখন সর্বনিম্ন ৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে রাজধানী ঢাকার অন্য বাজারে এ দামের চেয়েও কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেশি। ব্যবসায়ীরা জানান, যে চাল এক সপ্তাহ আগে ৩৮ টাকায় কেনা, সেটি এখন ৪৩ টাকা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভোক্তার কাছে কেজিতে ২-৩ টাকা মুনাফা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী জানান, চাঁপাই নবাবগঞ্জের মিল থেকে মিনিকেট এক সপ্তাহ আগে ৩৫ টাকা কেজিতে পাইকারি হারে কিনতে পারলেও এখন সেই চালের প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকায়। ঢাকায় আসতে আসতে তার দাম বাড়ে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা। টিসিবির হিসাবে এক সপ্তাহে চালের বাজারে প্রতি কেজিতে দাম বাড়ার গড় হার ৪ টাকা ৮৮ পয়সা।
বাজারে ভোজ্য তেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। এখন ১০৪ টাকা থেকে ১০৯ টাকা বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার। প্রতি কেজি ছোলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ব্র্যান্ডের প্যাকেটবদ্ধ ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। আলু ৪ টাকা বেড়ে ১৬ থেকে ১৮ টাকা। পিয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। পাড়া-মহল্লায় এটি ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। আদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকা। রসুন ৭৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রসুনের দাম বাড়তে পারে। মুরগির মাংসের দাম গত কয়েক দিনে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫৫ টাকা। আর গত ৩ দিনে হালিতে ডিমের দাম বেড়েছে ৬ টাকা। ২৮ টাকা থেকে এখন হালি ৩৪ টাকা। কাঁচামরিচ ১১০ থেকে ১২০ টাকা। মসুর ডালে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। দেশে উৎপাদিত প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায়। ভোল্ডার মসুর (বড়দানা) ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। খেসারি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মুগডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

>