মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > অর্থ-বাণিজ্য > রমজান মাসের প্রথম দিনে নিত্যপণ্যের বাজার চড়া

রমজান মাসের প্রথম দিনে নিত্যপণ্যের বাজার চড়া

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রমজানের আগের দিন প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই বেড়ে গিয়েছিল। রমজান মাসের প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবারও সেই চড়া দামেই পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে।
রমজান সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কয়েকটি পণ্যের দাম বেঁধে দিলেও সেই দামে খুব একটা পণ্য মিলছে না। পাইকারি বাজারে এসব পণ্যের দর ঠিকঠাক থাকলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না।
পেঁয়াজ এখনো ভোক্তাদের ভোগাচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে দোকানিরা এখনো আগের দামের তেলই বিক্রি করছেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার ও রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। অবশ্য দু-একটি দোকানে ১৬০ টাকা কেজি মরিচও দেখা গেছে। তবে তা আধা পচা। ধনেপাতার কেজিও ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। রমজানে বেশি চাহিদা থাকে বলে বেগুনের দরও চড়া। বেগুনের কেজি এখন ৬০ টাকা। শসার কেজি ৫০ টাকা।
কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসা, ধনেপাতা ও রসুন—এই পাঁচটি পণ্যকে রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাতেও দাম না কমে বরং আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সুপারিশে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়।
জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কাঁচা মরিচ ছাড়া অন্যগুলোর দাম বেশি বাড়েনি। আমার ধারণা, পরে রপ্তানি করবে সেই চিন্তা থেকে মরিচ হিমাগারে রাখা হচ্ছে। তাই বাজারে বেশি দামে মরিচ বিক্রি হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে যদি থাকত যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রপ্তানি নিষিদ্ধ থাকবে, তাহলে আর এ সমস্যা দেখা দিত না।’
রাজধানীর কাঁচাবাজারে গতকাল প্রতি কেজি করলা ৪০, গাজর ৫০, টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০, চিচিঙা ৪০, ঢ্যাঁড়স ৩০, ঝিঙে ৩৫, বরবটি ৪০ টাকা, পেঁপে ও পটোল ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টমেটো ছাড়া সব পণ্যই বুধবারও একই দামে বিক্রি হয়েছে।
পেঁয়াজের চড়া দাম কমার কোনো লণ দেখা যাচ্ছে না। দেশি পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশি রসুন ৭০ থেকে ৭৫ এবং চীনা রসুন ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদাও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। দেশি আদা ২০০ এবং চীনা আদার কেজি ৯০ টাকা।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আরও কমিয়েছেন মিলমালিকেরা। কিন্তু সেই তেল সব দোকানে সরবরাহ করা হয়নি। আবার অনেক দোকানে কমানো দামের তেল থাকলেও আগের বেশি দামের তেলটাই বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এখনো এক লিটারের বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩২ টাকায়। তবে অল্প কয়েকটি দোকানে ১২৮ টাকায় তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাঁচ লিটারের তেল পাওয়া যাচ্ছে ৬৩৫ থেকে ৬৫০ টাকায়।
কয়েক দিন ধরে বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০৭ থেকে ১০৯ টাকায়। গতকাল এই তেল ১০৯ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খোলা পাম তেল ৭৩ এবং পাম সুপার ৮০ থেকে ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চিনি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। তবে প্যাকেটজাত চিনি মিলছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। এদিকে গুড় ও চিড়ার দাম বেড়ে গেছে। ৪৫ টাকার চিড়া গতকাল ৫০ টাকা আর ৬৫ টাকার গুড় ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। তবে কোনো কোনো দোকানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। আর কানাডার মসুর ডাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং দেশি মসুর ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খেসারির কেজি ৪৫ টাকা।

>