বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > রাজশাহীতে বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ

রাজশাহীতে বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
রাজশাহী: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীতে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় অবৈধ অস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে। বন্দুকের বৈধ দোকানেও চলছে অবৈধ অস্ত্রের কেনাবেচা।

এসব অস্ত্র চলে যাচ্ছে পেশাদার সন্ত্রাসীদের হাতে। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় চলছে এ কর্মকান্ড। তাই অস্ত্রবাজদের সহযোগীরা কেউ কেউ আটক হলেও রাঘব বোয়ালরা রয়ে যাচ্ছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

রাজশাহী মহানগরীতে সদ্য আটক হওয়ার পর পুলিশের রিমান্ডে থাকা এক অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রেতা এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। নগর পুলিশের একটি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, গুলি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য মিলবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা সূত্র জানায়, রাজশাহীতে মোট নিবন্ধিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের দোকান রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে দু’টি অস্ত্র ও গোলাবারুদের দোকান চালু রয়েছে। তারা প্রতিমাসেই তাদের বৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যবসার প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এছাড়া অপর দোকানটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে চলতি বছর পর্যন্ত সেটির লাইসেন্স নবায়ন রয়েছে। নিবন্ধিত এসব দোকানে কেনাবেচা হয় পয়েন্ট ৩২ বোর, পয়েন্ট ১২ বোর, পয়েন্ট ২২ বোর এবং পয়েন্ট ১০ বোরসহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র। কেউ কেউ এসব অস্ত্র মেরামতও করে থাকেন।

ওই দোকানগুলোতে পাওয়া যায় গুলিও। তবে অভিযোগ রয়েছে, বৈধতার আড়ালে এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। কখনো কখনো বিক্রেতারা ভাড়ায় খাটাচ্ছেন এসব অস্ত্র (!)।

গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় র‌্যাবের একটি দল নগরীর সাহেব বাজার এলাকার নিবন্ধিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রেতা কে. আহম্মেদ আমর্স কোম্পানি থেকে নথিবিহীন অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ৩২ বোর, পয়েন্ট ১২ বোর, পয়েন্ট ২২ বোর এবং পয়েন্ট ১০ বোরের গুলি উদ্ধার করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এসময় দোকান মালিক নজরুল ইসলাম সোহেলকে (৪৫) আটক করে দোকানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এর আগে ওই দিন সকালে নগরীর মতিহারের শ্যামপুর এলাকা থেকে ১০০ রাউন্ড পিস্তলের গুলিসহ জান মোহাম্মদ শাহীন (৩৫) ও রুমানা খাতুন (২১) দম্পতিকে আটক করে র‌্যাব। অবৈধভাবে এসব গুলি ঢাকায় চোরাচালানের সময় র‌্যাবের হাতে আটক হন ওই দম্পত্তি। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী নগরীর সাহেব বাজার এলাকার ওই অস্ত্রের দোকানে অভিযান চালায় র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা।

এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে রাজশাহীতে নড়েচড়ে বসেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তারা। এ ধরণের অস্ত্র বিক্রেতা ও চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই শুরু করেছেন বিশেষ অভিযান।

গোয়েন্দা সংস্থার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানান, সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা এসব অস্ত্রের পুরোটাই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে। বিভিন্ন সময় দু’একটি অস্ত্রের চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করতে পারলেও বড় অংশই চলে যাচ্ছে সন্ত্রাসীদের হাতে। আর এসব অস্ত্রধারীদের টার্গেট করেই নগরীর বৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছেন অবৈধ গুলির মজুদ। এজন্য বৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের এবার নজরদারীর আওতায় আনা হচ্ছে।

এর আগে গত ২১ মে নগরীর ছোটবনগ্রাম বারো রাস্তার মোড় থেকে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৪০) নামের এক যুবদল ক্যাডারকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ভর্তি আমেরিকায় তৈরি একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত ৩ জুন নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহী ব্যাগ ভর্তি দুইটি বিদেশি পিস্তল, ১৭ রাউন্ড গুলি ও ৪টি ম্যাগজিন ফেলে পালিয়ে যায়। গত ২ আগস্ট রাজশাহী পুঠিয়ায় কুরিয়ার কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পিস্তল ফেলে পালিয়ে যায় চার ডাকাত। পরে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এসব অস্ত্র উদ্ধার করে।

পাশপাশি নগরীতে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে প্রকাশ্যে অস্ত্রর মহড়া দেয় দলটি। একই সঙ্গে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সরকারের শেষ মুহূর্তে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন দলের কর্মী, সমর্থক ও পেশাদার সন্ত্রাসীরাও প্রকাশ্যে অত্যাধুনিক অগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। এর মধ্যে গত ২২ মে খুন হন নগরীর সাত নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সারওয়ার হোসেন ডাবলু।

নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবদুস সোবাহান জানান, গুলি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত জান মোহাম্মদ শাহীন ও রুমানা খাতুন দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে বৃহস্পতিবার মতিহার থানায় নেওয়া হয়েছে। ওই দিন রাত থেকেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল করিম আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, গত রোববার র‌্যাবের হাতে আটক গুলি চোরাচালানে জড়িত দম্পতি এবং নিবন্ধিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রেতাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রেতা নজরুল ইসলাম সোহেলের রিমান্ড শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। বুধবার দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে বলেও জানান ওসি।

>