রবিবার , ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ , ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ , ১৫ই রজব, ১৪৪২

হোম > তথ্যপ্রযুক্তি > রুয়েটের দুই শিার্থীর উদ্ভাবন বাংলায় দেয়া নির্দেশেই চলবে রোবট

রুয়েটের দুই শিার্থীর উদ্ভাবন বাংলায় দেয়া নির্দেশেই চলবে রোবট

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥ মাতৃভাষার জন্য একদিন আমাদের দেশের সাহসী সন্তানরা রক্ত দিয়েছিলেন, তেমনি আজও এই প্রজন্মের তরুণরা বাংলাভাষাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ব্যাপকতা দিতে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির সঙ্গে অন্য ভাষাভাষীর মতো বাঙালির মুখের ভাষাকেও যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি এমনই এক দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে রুয়েটের দুই শিার্থী তাদের উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ৩য় বর্ষের ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ছাত্র সাদলী সালাহউদ্দিন ও সৌমিন ইসলাম আবিষ্কার করেছে সম্পূর্ণ বাংলা কথা ও ইশারায় চলতে সম এমন রোবট।
বাংলাদেশে রোবট নিয়ে আগেও অনেক কাজ হয়েছে। তবে কেবল বাংলা ভাষায় দেয়া নির্দেশে চলবে এমন রোবটের উদ্ভাবন এই প্রথম। আবার যারা বাকপ্রতিবন্ধী বা কথা বলতে অম তাদের জন্যও রোবটটিতে যোগ করা হয়েছে বিশেষ সংবেদনশীল ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে রোবটটিকে ইশারা করলেই সে অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। রোবটটি প্রদর্শনের সময় তাকে বাংলায় ‘ডানে যান’, ‘বামে যান’, ‘থামুন’, ‘এবার চলুন’ এসব আদেশ দেয়া হলে সেটি সে মোতাবেক তার দতা প্রদর্শন করে।
প্রকল্পটি তৈরির কাজে নিয়োজিত দলটি সাংবাদিকদের জানান, রোবটটিকে ইন্টারনেটে সংযোগের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ইন্টারনেটে প্রবেশ করে একটা সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রথমে একটি নিরাপত্তা কোডের মাধ্যমে রোবটটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এরপর রোবটটি থেকে একটা নিশ্চয়তামূলক বার্তা এলেই কাজ শেষ। রোবটটি কাজ শুরু করবে। নিয়ন্ত্রণকারী, দূরে অবস্থানকারী ব্যক্তির কাছে রোবটটির আসে পাশের পরিবেশের জীবন্ত ভিডিও পাঠাতে থাকবে প্রতি মুহূর্তে এবং ভিডিওগুলো দেখে নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নেবে কখন কি করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) মাধ্যমে রোবটটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ করতে পারবে। ফলে মানচিত্রের মাধ্যমেও রোবটটির অবস্থানও নিশ্চিত হওয়া যাবে। শিকদের উদ্যোগে এ প্রকল্পটিকে নিয়ে ৯ জুলাই একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। যেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটে ভিসি এবং বিভিন্ন বিভাগের শিকরা। ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের প্রধান রফিকুল ইসলাম শেখ জানান, এ প্রকল্পটিকে বাণিজ্যিকভাবেও উৎপাদন করা সম্ভব। এতে আমাদের দেশই লাভবান হবে।
আর এটি বাকপ্রতিবন্ধীদের জন্য হবে একটি যুগান্তকারী পদপে।

>