শনিবার , ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৯শে রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > শীর্ষ খবর > লিচু বাগানে এক বছর কেমন ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ!

লিচু বাগানে এক বছর কেমন ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ!

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশবরেণ্য সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে তার মৃত্যুর পর গাজীপুরের নূহাশ পল্লীতে সমাহিত করা হয়। প্রখ্যাত ওই লেখকের জীবদ্দশায় নূহাশে কবর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তার পরিবার পালন করেছে। তবে নূহাশ পল্লীর প্রকৃতি ও ভক্তরা কতটুকু মনে রেখেছে তাকে? হুমায়ূনের নিজের হাতে গড়া নূহাশ পল্লীর লিচু বাগানে এক বছর কেমন ছিলেন তিনি?
২০১২ সালের ১৯ জুলাই বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। প্রখ্যাত এই লেখককে কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অবশেষে খোদ প্রধানমন্ত্রীর হস্তেেপর প্রয়োজন পড়ে যায়। অবশেষে ২৪ জুলাই দেশ বরেণ্য এই লেখককে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের পিরুজালী গ্রামে তারই নিজে হাতে গড়া নূহাশ পল্লীতেই দাফন করা হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে তিলে তিলে গড়ে তোলা নূহাশ পল্লীর আয়তন এখন প্রায় ৪০ বিঘা।
যে বৃষ্টি দেখে হুমায়ূন আহমেদ নূহাশ পল্লীর হোয়াইট হাউজ (তার থাকার ভবন) থেকে বেরিয়ে পড়তেন, বৃষ্টিতে ভিজতেন ওই নূহাশ পল্লী গত এক বছর ছিলো অনেকটাই অবহেলিত। হুমায়ূনের বৃষ্টির প্রতি অধিক দুর্বলতা থেকে  তৈরি করা যে  ‘বৃষ্টিবিলাস’ এক বছর তা ছিলো প্রাণশূন্য। যিনি  ‘বৃষ্টিবিলাস’ নির্মাণ করেছিলেন তাকে ছাড়া অনেকটাই হাহাকারের মধ্যে কেটে গেছে বৃষ্টিবিলাসের একটি বছর। দীঘি লীলাবতী, লিচু বাগান, বিভিন্ন ফল ও ফুলের বাগান সহ পুরো নূহাশ পল্লী ছিলো মালিকশূন্য।
তবে ২৪ জুলাই বৃষ্টির প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসার প্রতিদান হিসেবে তার ইচ্ছার প্রতিফল ঘটাতে প্রকৃতিও ছিলো অনুকূলে। দাফন অনুষ্ঠানের পুরো দিনটি ছিলো মুষলধারে বৃষ্টির দিন। লাশ দাফন করার সময় নূহাশ পল্লীর নীচু জায়গায় পানি জমে উঠেছিলো। লাশ কবরে রাখার আগ মুহূর্তে কবর থেকে পানি তুলতে হয়েছিলো। প্রকৃতিও মুহ্যৃমান ছিলো তার মৃত্যুতে। প্রকৃতি তাকে নূহাশ পল্লীতে বরণ করেছিলো বৃষ্টি দিয়েই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কবির দুই সংসারের টানা-পোড়েনের মধ্যে নূহাশ হয়ে পড়ে অবহেলিত। হুমায়ূন আহমেদকে সমাহিত করার পর কবিপতœী মেহের আফরোজ শাওন, শাওনের মা সাংসদ তহুরা আলী তাৎণিকভাবে উপস্থিত ছিলেন। কবির প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন লাশ দাফনের দিন আসেন নি। তবে নূহাশ সহ গুলতেকিনের সব সন্তানই বাবার লাশ দাফনের সময় নূহাশে ছিলেন। তাকে সমাহিত করার পর প্রথম পরে লোকজন নূহাশ থেকে ঢাকায় চলে যায়। শুধু থেকে যান শাওন ও তার দুই সন্তান।
স্থানীয়রা বলছেন, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর গত এক বছর তার কবর জিয়ারত করেছেন হাজারো ভক্ত। রাতের বেলায় কবর দেখতে গিয়ে সংঘর্ষও হয়েছে নূহাশের কর্মচারীদের সঙ্গে ভক্তদের। এক বছর দেশের অনেক নামীদামী মানুষ তার কবর জিয়ারত করেন। গত একটি বছর নূহাশ পল্লী ছিলো শাওনের নিয়ন্ত্রণে। শাওন নূহাশ পল্লীর মালিক হিসেবেই পরিচালিত করছেন নূহাশ পল্লী। ৮ জন কর্মচারী দিয়ে চলছে নূহাশ পল্লীর স্বাভাবিক কাজকর্ম। দর্শনার্থীদের জন্য কবর জিয়ারত উন্মুক্ত থাকলেও নূহাশের ভেতরে গেলে টিকিট কাটতে হয়। কর্মচারীরা বলছেন, টিকিটের টাকা হুমায়ূন আহমেদের গড়া শিা প্রতিষ্ঠানে খরচ করা হয়।
নূহাশ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুমায়ূনের মৃত্যুর পর প্রায় সব অনুষ্ঠানই ঢাকা ও নেত্রকোনায় করা হয়েছে। তার কবরের পাশে শুধু দোয়া-মোনাজাত ও কোরানখানির অনুষ্ঠান করা হয়েছে।
নূহাশ পল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য বুধবার শাওন ম্যাডাম নূহাশে এসেছেন। তিনি এখনো আছেন। শুক্রবার স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ, দোয়া, কোরানখানি ও এতিম সহ আশপাশের লোকজনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ইফতার মাহফিল। তবে ইফতার মাহফিলে কারা কারা আসবেন ওই সম্পর্কে কিছু বলতে পারেন নি বুলবুল।

>