সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > ‘শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক’

‘শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক’

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার ভোরে যুক্তরাজ্য সফর শেষে কাতার এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘লন্ডনে চিকিৎসাধীন তারেক রহমানের সঙ্গে আমি দেখা করেছি। তার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিয়েছি। তারেক রহমান অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।’

তরেক রহমানের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।’

গত ১৫ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টায় কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল।

১৭ জুলাই বৃটিশ পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ হাউজ অব লডর্সে ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সুশাসন’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য দেন তিনি।

ওই সেমিনারে অংশ নিতে ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির আট সদস্যের প্রতিনিধি দলটি গত ১৫ জুলাই লন্ডনে যায়।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম ও ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।

১৭ জুলাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ওই সেমিনারে অংশ নেয়।

সেমিনার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘সেমিনারে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী নির্বাচনের ভবিষ্যৎ ও সংখ্যালঘু পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কেমন নির্বাচন হবে, তা নির্ধারণ করবে জনগণ। বৃটেন গণতন্ত্রের সূতিকাগার এবং তারা আমাদের একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ। বিশ্ব জনমতের কাছে আমাদের দেশের রাজনীতি ও বর্তমান অবস্থা আমরা তুলে ধরেছি। ওই সেমিনারে আমরা নির্দলীয় সরকারের যৌক্তিকতা তুলে করেছি।’

সরকার বাস্তবতা উপলব্ধি করে সঠিক সময়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসময় যুক্তরাজ্য সফর সফল হয়েছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান জরুরি অবস্থার সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে যান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানেই আছেন তিনি।

সম্প্রতি তারেককে লন্ডনে দলের এক রাজনৈতিক সভায় দেখা যায়, যেখানে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগকে চাপ দিতে প্রবাসীদের আহ্বান জানান।

তারেকের ওই বক্তব্যের পর দেশে তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তারেকের তীব্র সমালোচনা করেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে মুদ্রা পাচারের অভিযোগে এক মামলায় তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরোয়ানা জারি করে ঢাকার জজ আদালত।

>