বৃহস্পতিবার , ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ , ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১০ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > শিবিরের নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

শিবিরের নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের রায় ঘোষণার পর থেকে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত গোলাম আযমকে সোমবার ৯০ বছর কারাদণ্ড ও বুধবার সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর থেকে সারাদেশে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

বুধবার মুজাহিদের রায় ঘোষণার পর থেকে দেশব্যাপী চোরাগোপ্তা হামলা ও বিভিন্ন যানবাহনে আগুন দিয়ে তাণ্ডব চালাতে থাকে স্বাধীনতাবিরোধী দলটি।

এদিন সন্ধ্যায় জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার নেতা কর্মীদের রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতি দেন। তার এ আহ্বানের পরিপ্রেেিত দেশব্যাপী বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বুধবার রাতে পুলিশ সদর দফতর থেকে দেশের ৬টি রেঞ্জ ও ৬টি মেট্রোপলিটনসহ সব জেলার পুলিশ সুপারকে বৃহস্পতিবারের হরতাল মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে বিজিবি সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায় ঘোষণা উপল্েয তার নিজ জেলা ফরিদপুরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার রাতে পুলিশ সদর দফতরের ওই আদেশ প্রসঙ্গে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম শহিদুল হক বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণার পর থেকে জামায়াত-শিবির দেশব্যাপী সহিংসতা চালাতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আর এজন্য  জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা প্রদানে বিশেষ পদপে গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, রায়ের পর জামায়াত-শিবির সহিংসতা চালানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। তাই সারাদেশে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশের পাশাপাশি ৠাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বিজিবি সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোন ধরনের সহিংসতা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবারের হরতালে রাজপথে থাকতে নেতা কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার। বুধবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

এর আগে কখনোই কোনো হরতালে এরকম নির্দেশনা দেওয়া হয়নি সংগঠনটির প থেকে। আর এ নির্দেশনা দেওয়ার পর থেকে তৎপর হতে থাকে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

শিবিরের যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র।

উল্লেখ্য, সোমবার গোলাম আযমের রায়ের আগে দেশব্যাপী তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। এদিন সহিংসতায় সারাদেশে ৬ জন নিহত হয়। এছাড়া অর্ধশতাধিক যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে তারা। বুধবার মুজাহিদের রায়ের পর ফের দেশব্যাপী তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবারও হরতালের ডাক দেয় তারা।

>