শুক্রবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ , ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ , ১০ই রমজান, ১৪৪২

হোম > ভ্যারাইটিজ > শিশুদের করোনা ঝুকি বাড়ছে; জেনে নিন লক্ষণ

শিশুদের করোনা ঝুকি বাড়ছে; জেনে নিন লক্ষণ

শেয়ার করুন

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫২ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, মারা যাওয়া ৫২ জনের মধ্যে একজনের বয়স ১০ বছরের কম। আরেকজনের বয়স ১১-২০ বছরের মধ্যে। অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু মারা গেছে ৩৯ জন। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সীর মধ্যে মারা গেছে ৬৯ জন।

দেশে করোনাভাইরাসে গত দুদিন ধরে শনাক্ত সাত হাজারেরও বেশি। এ তালিকায় রয়েছে শিশুরাও।

চিকিৎসকরা বলছেন করোনার এই নতুন স্ট্রেইনের সংক্রমণের ক্ষমতা আগের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি। জটিলতা বেশি ৩০ শতাংশ। কয়েকদিন আগেও শিশুদের আক্রান্তের হার ছিল শূন্যের ঘরে। এখন শিশু-রোগী বাড়ছে। গতবছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে শিশুদের আক্রান্ত হতে দেখা যায়নি বললেই চলে। এবার মধ্য-মার্চ থেকে আশঙ্কাজনক হারে তাদের সংখ্যা বাড়ছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক ইউনিট চালু হয় গতবছরের ১০ মে। এখন পর্যন্ত এই ইউনিটে প্রায় দুই হাজারের মতো শিশুর চিকিৎসা হয়েছে। ৪২ বেডের ইউনিটটিতে এখন ভর্তি আছে ১৮ জন।

এর মধ্যে ১৪টি বেড নিয়ে বানানো এইচডিইউ (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) ইউনিটও রোগীতে ভর্তি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাঈদা আনোয়ার। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এখন আসলে খুব খারাপ অবস্থার রোগীরা আসছে। যেটা কয়েকদিন আগেও ছিল না।’

সবচেয়ে কম বয়সী রোগীর বয়স কত ছিল জানতে চাইলে অধ্যাপক সাঈদা আনোয়ার সাংবাদিকদের জানান, ‘একমাসের রোগীও পেয়েছি। এমনকি চারদিন বয়সের রোগীও ছিল।’ চারদিনের শিশু কিভাবে আক্রান্ত হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা পজিটিভ মায়ের কাছ থেকে সে সংক্রমিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যালে নন-কোভিড এরিয়াতে সবসময়ই অনেক রোগী থাকে। তাদের বেশিরভাগেরই করোনা টেস্ট করানোর পর পজিটিভ এসেছে। তখন তাদের আবার করোনা ইউনিটে নিয়ে আসা হয়। এতেও অনেকের মাঝে ছড়িয়েছে।’

শিশু-রোগীর সংখ্যা বাড়লো কী করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার জ্বর, কাশির সঙ্গে ডায়রিয়া হচ্ছে শিশুদের। অনেকেই আসছে এমআইএস-সি (মাল্টিসিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রোম) নিয়ে। মাঝে রোগীর সংখ্যা অনেক কম ছিল। কিন্তু কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশু-রোগীও বেড়েছে।’

শিশুরা সাধারণত সুস্থ হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। কিন্তু যেসব শিশু আগে থেকে হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা বা দীর্ঘমেয়াদী অসুখে আক্রান্ত তাদের জন্য অবস্থা জটিল হয়ে যাচ্ছে। ঢামেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনও শিশু মারা যায়নি বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানিয়েছে, কোভিড-১৯ ও এমআইএস-সি সম্পর্কিত রোগ। এ রোগীর গায়ে ছোপছোপ দাগ হয়, হাত-পা ফুলে যায়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত বা আক্রান্ত অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিল, এমন শিশু-কিশোরদের মধ্যে এমআইএস-সি বেশি দেখা যাচ্ছে।

গত বছরের ১৫ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এমআইএস-সি সম্পর্কে জানায়। ২২ মে জনস হপকিনসের এক নিবন্ধে এটাকে বিরল রোগ বলা হয়েছে।

এদিকে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার এখন অনেক বেশি মন্তব্য করেন মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আবু সাঈদ শিমুল। তিনি বলেন, ‘শিশুরা কিন্তু সিভিয়ারিটি নিয়েও আসছে। ডায়রিয়া, বমি, শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে অনেকের। কাশি নেই, কিন্তু প্রচণ্ড জ্বরের সঙ্গে ডায়রিয়া-এমন রোগী বেশি পাচ্ছি। এক্সরে করার পর তাদের অনেকের ফুসফুস মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত পাওয়া গেছে।’

বিশ্বের পরিসংখ্যান বলছে, চার বছরের কম শিশুদের আরটি-পিসিআরে (করোনার নমুনা পরীক্ষা) পজিটিভ কম আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গ থাকার পর আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলেও যদি শিশুটির পরিবারের কেউ পজিটিভ হয়, তবে ওই শিশুর জন্য আইসোলেশনসহ প্রতিরোধী সব ব্যবস্থা নিতে হবে।

অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, ‘প্রায় ৯০ ভাগ শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বাবা-মায়ের কাছ থেকে। তাই ব্যবস্থা নিতে হবে বাবা-মাকেই। স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি তারা যেন ঘরে ঢুকেই সন্তানের কাছে চলে না যান।’

শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি রোদেও সময় কাটাতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের মানসিকভাবেও ‘বুস্ট আপ’ তথা চাঙ্গা রাখতে হবে।

বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহেরা নাজরিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ও যকৃতের মতো একাধিক অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমআইএস-সি। রক্তনালীতে দ্রুত প্রদাহ তৈরি করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো অনেকটা কাওয়াসাকি ডিজিজ ও টক্সিক শক সিনড্রোমের মতো।’

ঢাকা শিশু হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১৭০ জনের মতো করোনা আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানান হাসপাতালটির উপ-পরিচালক ডা. প্রবীর কুমার সরকার। তবে এদের বেশিরভাগই অন্য রোগে আক্রান্ত ছিল এবং অস্ত্রোপচারের আগে করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়েও অনেক শিশুর পজিটিভ ধরা পড়েছে বলে জানান তিনি।

>